ট্রান্সজেন্ডারিজমের করাল গ্রাস: ভূমিকা

ট্রান্সজেন্ডারিজমের করাল গ্রাস: ভূমিকা

সূচিপত্র

ভূমিকা
অধ্যায় ১: একটি সহজ প্রশ্ন
অধ্যায় ২: জেন্ডার থিওরির ইতিহাস
অধ্যায় ৩: জন মানি
অধ্যায় ৪: কীভাবে কারিকুলামে জেন্ডার থিওরি ঢুকে গেলো
অধ্যায় ৫: ট্রান্সজেন্ডাররা যেভাবে সব দখল করে নিলো
অধ্যায় ৬: ট্রানজিশনের প্রতিশ্রুতি
অধ্যায় ৭: তাসের ঘরের পতন
অধ্যায় ৮: ট্রান্সজেন্ডার সাংস্কৃতিক সংঘাত
অধ্যায় ৯: গোলাপি পুলিশ স্টেটের বুটের চাপায় ধ্বংস
অধ্যায় ১০: বিদ্রোহ
উপসংহার: আফ্রিকা
কিন্তু
রেফারেন্স

ভূমিকা

Every lie we tell incurs debt to the truth. Sooner or later this debt is paid.

মানব ইতিহাসজুড়েই যে বিষয়গুলোকে মানুষ সবচেয়ে বেশি ভালোবেসেছে, অর্জন করতে চেয়েছে, ব্যবহার করেছে তার মধ্যে অন্যতম হলো সত্য। সব আদর্শ ও ধর্মÑসত্যের মাপকাঠিতে উত্তীর্ণ হতে চেয়েছে। পৃথিবীর সব বিতর্কই হয়েছে নিজেকে ‘সত্য’ প্রমাণ করতে। সন্তান বাবা-মায়ের কাছে, স্বামী স্ত্রী একে অপরের কাছে, বন্ধু বন্ধুর কাছে সত্যের মাধ্যমেই বিশ্বস্ততা প্রমাণ করতে চেয়েছে। সত্যের আলোয় আলোকিত হতে চেয়েছে মানুষ। সত্যের কাছে মাথা নত করেছে। সত্যের জন্য অস্ত্র ধরেছে, রক্ত দিয়েছে, সভ্যতার ধ্বংস-সৃষ্টি হয়েছে।

এক অদ্ভুত সময়ে এসে পড়েছি আমরা, যখন সত্য কোনো ব্যাপার না। পুরো পৃথিবী চলছে মিথ্যার উপরে। মানুষ সত্য নিয়ে ভাবছে না। অধীনস্ত মিথ্যা প্রশংসা করছে বসের, যাকে আমরা বলি ‘তেল’। পরিবারে বসছে মিথ্যার পসরা। দায়িত্ব না নিয়ে মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে নারীদেহ ভোগ করছে শকুনেরা। শিক্ষকরা পড়াচ্ছে মিথ্যা ইতিহাস। বলা হচ্ছে, ‘সত্য কোনো ব্যাপারই না। তুমি যা অনুভব করছো তাই আসলে সত্য। সত্য বলতে কিছু নেই। সব বিবর্তনের খেলা। সত্য তৈরি করা হয়েছে মানুষকে নিয়ন্ত্রণ করতে। জীবনটা উপভোগ করাই আসল কথা।’

সম্পর্ক তৈরি হচ্ছে, যুদ্ধ হচ্ছে, মানুষ মরছে মিথ্যার উপরে। শালীনতা, পরিবার ও ভালোবাসার যে গল্প লেখা হয়েছে হাজার বছর ধরে সব নাকি মিথ্যা। এর মধ্যে অন্যতম যে জঘন্যতা পুরো পৃথিবীকে গ্রাস করে নিচ্ছে তা হলো ট্রান্সজেন্ডারিজম। মানুষ যে লিঙ্গ নিয়ে জন্মেছে তা সত্য হলেও নাকি পাত্তা দেওয়ার কিছু নেই। যার যা ইচ্ছা তাই নাকি হতে পারবে। ছেলেÑমেয়ে হতে পারবে, মেয়েÑছেলে হতে পারবে, কোনো মানুষ চাইলে কুকুর-বিড়ালও হতে পারে। এসবের অবাক করা নামও দেওয়া হয়েছে।

প্রতিটি মিথ্যা সত্যের প্রতি একটি করে ঋণ তৈরি করে। সে ঋণ শোধ করতেই হয়। এবং তা খুব বিকৃতভাবে। পৃথিবীজুড়ে অনেক অশান্তি, মৃত্যু, ধ্বংস, পরিবার ও সভ্যতার পতনসহ অনেক কিছুই হচ্ছে। কিন্তু ম্যাট ওয়ালশ এ বইয়ে কথা বলেছেন একটা নির্দিষ্ট মিথ্যা নিয়ে। ট্রান্সজেন্ডারিজমের মিথ্যা। এর ঋণ পরিশোধ করতে গিয়ে শেষ হয়ে যাচ্ছে বেশ কয়েকটি প্রজন্ম। পরিবার ও বাবা-মা ও সন্তানের সম্পর্কের গল্পগুলো কীভাবে ভেঙে পড়ছে, কীভাবে মিথ্যার সৃষ্টি হয়েছে, কেবল স্বার্থের জন্য কীভাবে শিশুদের শরীরকে কাটাকুটি করা হচ্ছে তার ভয়াবহ কিছু গল্প লিখেছেন ম্যাট ওয়ালশ।

বইটিতে আমরা এমন একসময় হাত দিয়েছি যখন আমাদের দেশের চারদিক থেকে প্রবেশ করছে ট্রান্সজেন্ডারিজম। সেলিব্রেটিরা সাক্ষাৎকার নিচ্ছে ট্রান্সজেন্ডারদের, বইয়ে লেখা হচ্ছে ট্রান্সজেন্ডারদের করুণ গল্প, খুব সূক্ষ্মভাবে ঢুকিয়ে দেওয়া হচ্ছে কিছু লিবারেল ধারণা যা সব ধর্ম, সংস্কৃতি ও নৈতিক মূল্যবোধের বিরোধী। ছোট ছোট ভাইবোনদের শেখানো হচ্ছে কেন তাদের অস্বীকার করা উচিত ধর্ম ও সমাজের সব ধরনের নৈতিক মানদণ্ডকে। এর হাত ধরে ঢোকানো হচ্ছে সমকামিতার মত মানববিধ্বসী যৌনতা।

এ প্রবল আগ্রাসী স্রোতের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে হঠাৎ করেই লক্ষ্য করলাম, আমরা একা নই। একা হওয়ার কথাও না। এসব জঘন্য, অমানবিক ধারণার বিরুদ্ধে পৃথিবীর অসংখ্য মানুষেরই থাকার কথা, যারা তাদের পরিবার, সভ্যতা, ভালোবাসা এবং স্রষ্টাকে ভালোবাসেন। তারা কোনোকিছুর বিনিময়েই ছেড়ে দেবেন না পবিত্র ও সত্য যা কিছু তারা ধারণ করেন। সেগুলো ঘাঁটতে গিয়ে আমরা পেয়ে গেলাম ম্যাট ওয়ালশের ডকুমেন্টারি ও বই: ‘What is a woman?’ অনেক জ্ঞানের দরজা যেন খুলে গেলো।

ম্যাট ওয়ালশ তাঁর বইয়ে ধাপে ধাপে আলোচনা করেছেন কীভাবে জেন্ডার থিওরি আসলো, কীভাবে তা চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে, কীভাবে রাষ্ট্র জুলুমের মাধ্যমে কেবল কিছু টাকার জন্য বাবা-মা থেকে সন্তানকে কেড়ে নিচ্ছে, কীভাবে বাচ্চাদেরকে ব্রেইনওয়াশ করে নিজেদের শরীর নষ্ট করানো হচ্ছে, কীভাবে এর বিরুদ্ধে লড়াই করা যাবে, কারা এসবের কারণে কষ্ট স্বীকার করছে ইত্যাদি। এ বইটি আমাজনে বেস্ট সেলার হয়েছে, শুধু আইএমডিবিতেই ডকুমেন্টারির রেটিং দিয়েছে ২৯ হাজারের বেশি মানুষ। এটি ছিল পশ্চিমে অ্যাটমিক বোমার চেয়েও মারাত্মক কিছু।

ম্যাট ওয়ালশের সাথে আমার আদর্শিক দ্বিমত আছে, অনেকদিক থেকে আমি তাঁকে পছন্দও করি না। কিন্তু ম্যাট ওয়ালশ আমাকে সাহস দিয়েছেন। আমাদের দেশের তুলনায় পশ্চিমে লিবারেল জঘন্য এসব ধারণা অনেক বেশি প্রচলিত। সেখানে তিনি এর বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে অপমানিত হয়েছেন, হত্যার হুমকি পেয়েছেন। কিন্তু তাও কাজ করে গেছেন। কথা বলে গেছেন। বাংলাদেশের মত মুসলিম অধ্যুষিত দেশে এটা আমাকে অনেক অনুপ্রাণিত করেছে।

বইয়ের কিছু অংশে আমাদের কঠোর আদর্শিক দ্বিমত থাকায় আমরা বাদ দিয়েছি। একই কথা বারবার আসায়ও বাদ দেওয়া হয়েছে কিছু অংশ। সাথে সাথে যে পদ্ধতিগুলো আমাদের দেশের সাথে যায় না সেগুলো বাদ দিয়ে নিজেদের মতো কিছু কর্মপদ্ধতি যুক্ত করা হয়েছে। যুক্ত করেছি নানা অংশ।

এ বইটি করতে গিয়ে পদে পদে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করার যেন ফরজ ছিল আমাদের উপর। আল্লাহ যেভাবে সময়, মেধা ও শক্তির বারাকাহ দিয়েছেন। এরপরে আমি অশেষ কৃতজ্ঞ আমাদের টিম নোমাডের সদস্যদের প্রতি। ছয়টা দিন অমানুষিক পরিশ্রম করেছে এ টিমের প্রতিটি মানুষ। সকালে ক্লাস করে বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত খাটুনি, শেষ হয়েছে কাপের পর কাপ কফি। তারপরও কারো কোনো কষ্ট নেই, অভিযোগ নেই। আছে এক অশেষ তৃপ্তি।

বইটি নিয়ে কাজ করা ছিল আমাদের স্বপ্ন। আল্লাহ সে স্বপ্ন কবুল করেছেন। বইয়ে যাবতীয় ভুলের দায় আমাদের ও শয়তানের। যা কিছু ভালো সব আক্ষরিকভাবেই আল্লাহর পক্ষ থেকে। যেকোনো ভুল আমাদেরকে মেইল করুন [email protected] এ। সাধ্যমতো চেষ্টা করবো বদলে নেওয়ার।

সব মিডিয়া, ক্ষমতা, পত্রিকা, বিজ্ঞাপন যাদের হাতে, তাদের বিরুদ্ধে আমাদের এ কাজগুলো খুব বেশি ছোট। সর্বগ্রাসী এ বিশ্বব্যবস্থার বিরুদ্ধে কীভাবে লড়াই করা যায় আমরা আসলেই জানি না। আমাদের বই তাদের সব প্রোপাগান্ডার সামনে কিছুই না। শত বাধা-বিপত্তি সত্ত্বেও লিবারেল বিশ্বব্যবস্থা ও কালচারাল এলিটদের বিরুদ্ধে ঘাড় বাঁকিয়ে দাঁড়িয়েছি আমরা। কেননা আল্লাহ আমাদেরকে ওয়াদা দিয়েছেন:

قَالَ اللهُ هٰذَا یَوْمُ یَنْفَعُ الصّٰدِقِیْنَ صِدْقُهُمْ لَهُمْ جَنّٰتٌ تَجْرِیْ مِنْ تَحْتِهَا الْاَنْهٰرُ خٰلِدِیْنَ فِیْهَاۤ اَبَدًا رَضِیَ اللهُ عَنْهُمْ وَ رَضُوْا عَنْهُ ذٰلِكَ الْفَوْزُ الْعَظِیْمُ.

‘আল্লাহ তাআলা বলবেন, এটা সেই দিন, যেদিন সত্যবাদীদেরকে তাদের সত্যতা উপকৃত করবে। তাদের জন্য রয়েছে এমন জান্নাত, যার তলদেশে নহরসমূহ প্রবহমান। তাতে তারা সর্বদা থাকবে। আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট এবং তারাও আল্লাহর প্রতি সন্তুষ্ট। এটাই মহা সফলতা। ’ -সূরা মায়িদা ৫: ১১৯

আমরা তার উপর সেভাবেই ভরসা রাখছি, যেভাবে মূসা আলাইহি ওয়া সাল্লাম রেখেছিলেন, সামনে বিশাল সমুদ্র এবং পেছনে বিরাট শত্রু সৈন্যবাহিনী রেখে। আল্লাহ তাঁকে বিজয় দিয়েছেন, আমাদেরকেও দেবেন ইনশাআল্লাহ।

ইরফান সাদিক

[email protected]

 

প্রিয় পাঠক, ট্রান্সজেন্ডারিজমের করাল গ্রাস বইটির ওয়েব ভার্সন উন্মোক্ত করে দেওয়া হয়েছে বইটি প্রকাশের মাত্র দুইদিনের মধ্যেই। একটি বই প্রকাশের পেছনে অসংখ্য মানুষের সময়, শ্রম ও মেধার সমন্বয় থাকে। থাকে বড় একটি ইনভেস্টমেন্ট। বইটির পিডিএফ বা ওয়েব ভার্সনে প্রকাশক আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হোন। তাই অনুরোধ, যদি সামর্থ্য থাকে তবে বইটির একটি কপি ক্রয় করবেন। অর্ডার করতে ক্লিক করুন

পরের অধ্যায়>> অধ্যায় ১: একটি সহজ প্রশ্ন

Book: ট্রান্সজেন্ডারিজমের করাল গ্রাস Tags:

This entry was posted in . Bookmark the permalink.