ট্রান্সজেন্ডারিজমের করাল গ্রাস: অধ্যায় ৯

ট্রান্সজেন্ডারিজমের করাল গ্রাস: অধ্যায় ৯

সূচিপত্র

ভূমিকা
অধ্যায় ১: একটি সহজ প্রশ্ন
অধ্যায় ২: জেন্ডার থিওরির ইতিহাস
অধ্যায় ৩: জন মানি
অধ্যায় ৪: কীভাবে কারিকুলামে জেন্ডার থিওরি ঢুকে গেলো
অধ্যায় ৫: ট্রান্সজেন্ডাররা যেভাবে সব দখল করে নিলো
অধ্যায় ৬: ট্রানজিশনের প্রতিশ্রুতি
অধ্যায় ৭: তাসের ঘরের পতন
অধ্যায় ৮: ট্রান্সজেন্ডার সাংস্কৃতিক সংঘাত
অধ্যায় ৯: গোলাপি পুলিশ স্টেটের বুটের চাপায় ধ্বংস
অধ্যায় ১০: বিদ্রোহ
উপসংহার: আফ্রিকা
কিন্তু
রেফারেন্স

 

অধ্যায়: ৯

গোলাপি পুলিশ স্টেটের বুটের চাপায় ধ্বংস

রব হুগল্যান্ড বসে আছেন জেলের এক সেলে। অবশ্য কয়েকটা দিক থেকে চিন্তা করলে এটাই হওয়ার ছিল। যত যাই হোক, আইন তো তিনি ভেঙেছেন। কিন্তু আইন থাকলেই তো সব সঠিক হয়ে যায় না।

তিনি জানেন না কবে তাকে ছাড়া হবে। তিনি কোথায় আছেন কেউ জানে না। খুব অল্প কিছু মানুষই তার অপরাধে শাস্তির মুখোমুখি হয়েছিলেন। যেহেতু তিনি সেখানে বসে আছেন, আমি নিশ্চিত, পুরো ঘটনা নিয়ে ভাবার অনেক সময় আছে তার হাতে। যেমন, তার মত একজন বাবা, পোস্টম্যান, সাধারণ মানুষ কীভাবে জেলে এসে পড়লেন। কেনই বা তাকে গ্যাঙ মাস্তান, ডাকাত, ধর্ষণ ও খুনির মত দেখা হচ্ছে। তিনি শুধু তার মেয়েকে বাঁচাতে চাইছিলেন। এ কাজটাই তাকে রাষ্ট্রের চোখে বানিয়েছে সন্ত্রাসী।

পুরো ঘটনায় শুরু হয়েছিল ২০১৫ সালে। তার পঞ্চম শ্রেণীতে পড়া মেয়ে (ছদ্মনাম মেরি) স্কুলে একটা গোলমাল শুরু করে। সে বছরই রব এবং তার স্ত্রীর ডিভোর্স হয়। এই জিনিসটা ছোট্ট মেরির উপরে খুব বাজে প্রভাব ফেলে। রব ও তার সাবেক স্ত্রীর মধ্যে অনেক সমস্যা চললেও তারা একমত হয়েছিলেন যে মেরির জন্য স্কুল কাউন্সিলরের সাথে দেখা করা ভালো হবে। মনে হচ্ছিল এতে খারাপ কিছু হবে না। মেরি সপ্তম শ্রেণী পর্যন্ত তার কাউন্সিলরের সাথে সাক্ষাৎ করতে থাকে। হঠাৎ করে সব কেমন যেন বদলে যেতে শুরু করে।

একদিন চুল ছোট করে বাসায় ঢুকলো মেরি। রব তার ইয়ারবুক খুঁজে পেলো। অবাক করা বিষয় হলো, সেখানে মেরির নাম ছিল না, কিন্তু ছবি ছিল। তার ছবির নিচে একটা নতুন নাম; একটা ছেলের নাম। যতদিনে রব বুঝলেন যে কী হচ্ছে, ততদিনে মেরির সামাজিক পরিবর্তন শুরু হয়ে গিয়েছে। একজন সাইকোলজিস্ট তাকে ক্রস-সেক্স হরমোন নিতে উৎসাহিত করে। তাকে ইতিমধ্যেই ডাক্তারের নাম বলে দেওয়া হয়েছে যার থেকে সে ওষুধ নেবে।

রব চেষ্টা করেছেন পুরো পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণ হাতে নিতে। কিন্তু ততদিনে মেরির চিন্তায় ট্রান্সজেন্ডার আইডিওলজি পুরোপুরি বাসা বেঁধেছে। সে তার বাবাকে বললো, ‘আমাকে টেস্টাস্টেরন নিতে দেওয়া না হলে আমি আত্মহত্যা করবো’। কিন্তু রব তো নিজের মেয়েকে চেনেন। ‘না, তুমি করবে না’, তিনি মেয়েকে বললেন। বুঝতে পারছি, মেরির ইতস্তত বোধ করছিল। কেননা বাক্যটা সে যেভাবে চাইছিল সেভাবে কাজে দেয়নি। ‘আমি জানি। কিন্তু ওরা আমাকে বলেছে যে তুমি কিছু বললে যেন আমি এ কথা বলি,’ মেরি বললো। তাকে তার বাবা বেশ কিছুদিন এ হরমোন গ্রহণ থেকে দূরে রেখেছিলেন। কিন্তু সামাজিকভাবে তাকে ছেলে হিসেবেই দেখা হচ্ছিলো, স্কুলে এভাবেই ডাকা হচ্ছিলো।

অষ্টম শ্রেণিতে উঠতে উঠতে তাকে স্পেশাল বাথরুম দেওয়া হলো। সবার তাকে এখন নতুন নামেই ডাকা লাগতো, তার পছন্দের নামে। সে এলাকার সবচেয়ে সেরা ট্রান্সজেন্ডার সাইকোলজিস্টের কাছে যায়। রব এ সাইকোলজিস্টকে বলে যেন তার মেয়েকে ডিপ্রেশনের চিকিৎসা দেওয়া হয়। কেননা ডিপ্রেশনের সব লক্ষণই দেখা যাচ্ছিলো। সে সাইকোলজিস্ট তো শুনলোই না রবের কথা, বরং বললো টেস্টাস্টেরন মেরির সব সমস্যার সমাধান করে দেবে। মেরিকে পাঠানো হলো একজন এন্ডোক্রাইনোলজিস্টের কাছে যিনি একজন হরমোন থেরাপিস্ট। কয়েক ঘণ্টা পর মেরিকে পিউবার্টি ব্লকার ও প্রেস্ক্রাইব করা টেস্টাস্টেরন দেওয়া শুরু করা হয়। তার বয়স ছিল মাত্র ১৩ বছর।

শীঘ্রই, মেরির মা তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসে ইঞ্জেকশনের মাধ্যমে টেস্টাস্টেরন দিতে। অপ্রাপ্তবয়স্ক হিসেবে মেরির বাবা-মা উভয়ের সম্মতির দরকার ছিল এ ধরনের কাজ করার জন্য। রব এতে ‘না’ করে দেন। তার স্ত্রী হয়তো মিথ্যায় বুঁদ হয়ে আছে, তার মেয়ে হয়তো মিথ্যার চাপায় পড়ে কষ্ট পাচ্ছে। কিন্তু তিনি কোনোভাবেই তার মেয়েকে মিথ্যার বলি হতে দেবেন না।

তিনি সে সময় জানতেন না। কিন্তু শুধু এ ‘না’ বলাটাই তার জেলে যাওয়ার রাস্তা সুগম করছিল।

এন্ডোক্রাইনোলজিস্ট সিদ্ধান্ত নিলেন, রবকে মেয়ের মেডিকেলে সিদ্ধান্তের ব্যাপার থেকে পুরো দূরে রাখতে হবে। তাকে মেয়ের মেডিকেল রেকর্ডও দেখতে দেওয়া যাবে না। তার সম্মতি ছাড়াই মেয়েকে হরমোন দেওয়া হবে। কিন্তু রব ‘না’ কেবল শুধু মুখে মুখেই বলেননি। তিনি নৈতিক অবস্থানের পক্ষ থেকে ‘না’ বলেছেন। তিনি যুদ্ধ ছাড়া নতি স্বীকার করবেন না। তাই তিনি কোর্টে আপিল করার সিদ্ধান্ত নেন।

যেহেতু মেরির বয়স তখন ১৪ ছিল, তাই কোর্ট বললো সে নাকি নিজের সব মেডিকেল সিদ্ধান্ত নিজেই নিতে পারবে। তার বাবা-মায়ের সম্মতি তো তার লাগবেই না, বরং সে নিজেই নিজের দেহের ব্যাপারে সব সিদ্ধান্ত নিতে পারবে। রব মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। কিন্তু কোর্টের সিদ্ধান্ত এখানেই শেষ না।

মেয়েকে হরমোন নেওয়ার বিরুদ্ধে বোঝানোর উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয় রবের উপরে। সে তার মেয়েকে মেয়ের সে নামে ডাকতে পারবে না যা সে আর তার স্ত্রী জন্মের সময় তাদের মেয়েকে দিয়েছে। কোনো আলোচনাতেই কখনোই নিজের মেয়েকে নারীসুলভ কোনো কিছুতে সম্বোধন করা যাবে না। এগুলো ভঙ্গ করলে তাকে বলা হবে ‘পারিবারিক সহিংসতা’ এবং তাদেরকে শাস্তির আওতায় আনা হবে। জজ এগুলোই বললেন।

রবের সামনে দুটো পথ ছিল। সরকার অপরাধ বললেও সত্য বলে যাওয়া। কিন্তু তিনি সত্য না বললে তিনি অস্বীকার করবেন আরো বড় এক আইনকে। যে আইনের আওতায় পরিচালিত হোন সব বাবা তার সন্তানের আত্মা জীবনে রূপ নেওয়ার প্রথম মূহুর্ত থেকে। রবের দায়িত্ব হলো নিজের মেয়ের পক্ষে লড়াই করা। এ দায়িত্ব কোনো আইন তুলে নিতে পারে না। কোনো আইন একে রুদ্ধও করে দিতে পারে না।

রব আপিল করেন। তিনি জজের আদেশ অস্বীকার করেন এবং তার মেয়ের সাথে কী করা হয়েছে তা সরাসরি সবার সামনে বলেন। আরেক জজ এগিয়ে আসেন তার মুখ বন্ধ করতে। কোর্ট যাদের সাথে কথা বলা রবের জন্য বৈধ করেছে তারা বাদে আর কারো সাথে মেয়ের হরমোন থেরাপি নিয়ে কথা বলা রবের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়। জজের মতে, রব নাকি ‘সবার সামনে মেরির পরিচয় অস্বীকার করার মাধ্যমে, তার মেয়ের পরিচয়কে অস্বীকার করে এমন গল্প বর্ণনা করে এবং তাকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিচু করে সহিংস মন্তব্যের মুখোমুখি করে’ তার মেয়ের ‘ক্ষতির উল্লেখযোগ্য ঝুঁকি’ তৈরি করছেন।

রবের পরের পিটিশন কোর্ট ছুঁড়ে ফেলে দিলো। দেশের অন্যতম প্রধান এক কোর্টে তিনি আবার আপিল করলেন। তারা রুলিং দেয়, রব যে তার মেয়েকে ‘তার পছন্দের জেন্ডার ও নামে ডাকতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছেন তা তার সিদ্ধান্তের প্রতি অসম্মান প্রদর্শন ও তার জন্য ক্ষতিকর’। তারা অবশ্য একটা ‘দয়া’ দেখালো। তারা নির্দেশ দিলো যে মেরির চিকিৎসা চলবে। কিন্তু রব কেবল ব্যক্তিগত পর্যায়ের আলোচনায় মেরির বিষয় নিয়ে কথা বলতে পারবেন। মিডিয়ায় কথা বলা যাবে না।

এ ঘটনার প্রায় তিন বছর চলে যাচ্ছিলো। সে সময় রব মুখোমুখি হতে শুরু করেন বাস্তবতার। তার মেয়ের বয়স এখন ১৬। তিনি প্রায় হারিয়ে ফেলেছেন তার মেয়েকে। কর্তৃপক্ষের সবাই তার জেন্ডার ও নামকে বৈধতা দিয়ে দিয়েছে। তখন টেস্টাস্টেরনের প্রভাবে তার মুখে দাড়ি গজাতে শুরু করে। সে সময় যুদ্ধটা আর এক পরিবারের ছিল না। রব জানতেন, তার অন্য পরিবারগুলোকেও সাহায্য করতে হবে। বাচ্চাদের জীবন নষ্ট করে দেওয়া এ প্রোগ্রামের সাথে সব সহযোগিতা তার বন্ধ করতে হবে।

কিন্তু সরকার ধৈর্য্য হারিয়ে ফেলছিল। রব কখনোই নিজের মুখ বন্ধ করেননি। কোর্ট চিন্তা করলো তাকে এমন শাস্তি দেওয়া উচিত যা কিনা একটি উদাহরণ হয়ে থাকবে। এর আগে রবের সাথে সরকারের কোনো সমস্যা হয়নি। কোর্টে তিনি এ একবারই এসেছেন। তা সত্ত্বেও, কোর্টের মনে হলো, ‘যথেষ্ট হয়েছে।’ ২০২১ সালের মার্চ মাসে, রবকে জেলে পুরে দেওয়া হয়।

City Journal এ লেখক ব্রুস বাওয়ারের লেখা রব ও মেরির এ গল্পটি পড়ার সময় আমার মনে হচ্ছিলো আমি যেন এক ডিস্টোপিয়ান ফিকশন পড়ছি। এটা ফিকশন ছিল না, ডিস্টোপিয়ান ছিল। এ ডিস্টোপিয়া হচ্ছিলো আমেরিকার বাড়ির উঠোনেই। এটি কানাডার ভ্যানকুভারের ঘটনা। আমেরিকার সীমান্তের মাত্র ৩০ মাইল দূরে।

কানাডা আমেরিকার বামপন্থী ক্রুসেডের চেয়ে সবসময় এক ধাপ আগানো। জেনারেল রুল হলো, কয়েক বছর পরেও আমেরিকার অবস্থা ঠিক কানাডার মতই হবে। রাষ্ট্রীয়ভাবে জেন্ডার আইডিওলজি চাপিয়ে দেওয়ার দিন আসছে। কিন্তু ট্রান্সজেন্ডার বামদের সাথে আপনি এ বিষয়ে কথা বললে তারা কখনোই স্বীকার করবে না। তারা বাবা-মায়ের মুখ বন্ধ করা এবং তাদেরকে জেলে দেওয়ার বিষয়ে এখনও কথা বলছে না। এখন দেখে মনে হয়, সবই সূর্যের রোদ এবং রঙধনু। সবই সুবিধা এবং কোনো খরচ নেই- এমন যেকোনো কিছু মানুষকে গ্রহণ করানো অনেক সহজ।

কীভাবে দ্বিমতকে নিষিদ্ধ করা হলো

ক্যালিফোর্নিয়ার মার্ক টাকানো এ কাজের এক অসাধারণ উদাহরণ তৈরি করেছেন। কংগ্রেসে নির্বাচিত হওয়া প্রথম সমকামী বাদামি চামড়ার মানুষ। ক্যালিফোর্নিয়ার রিভারসাইডে তার জেলা অফিসে আমি আলোচনায় বসেছিলাম। তিনি Equality Caucus এর একজন সদস্য এবং Equality Act এর অন্যতম একজন স্পন্সর। এ অ্যাক্টটি হলো আইনের একটি রূপান্তরমূলক প্রো-ট্রান্সজেন্ডার একটি অংশ যা ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভস পাস করেছে। আমি তাকে এ বিল সম্পর্কে প্রশ্ন করলাম। তিনি খুব খুশিমনে এ বিষয়টিকে ব্যাখ্যা করলেন।

তিনি বললেন, ‘খুব সংক্ষেপে বললে এলজিবিটি আমেরিকানদের জন্য এটা অত্যন্ত ব্যাপক ও ব্যয়বহুল সিভিল রাইটস লেজিসলেশন। আমার মতে, ৫০টি স্টেইট ও তাদের জায়গাগুলোতে এটা একটা সমতায় নিয়ে আসে। তবে এখনও ব্যাপারটি এমন না। এখন আপনি যেখানে থাকে সেখানের সার্বিক পরিস্থিতির বিবেচনায় আপনি এখনও বৈষম্যের শিকার হতে পারেন। আসলে প্রকাশ্যে ট্রান্সনারী-পুরুষের অবস্থান এক কথা, শিক্ষা আরেক কথা। বিচারক ও ক্রেডিট এপ্লিকেশনের কাজের উপরে নির্ভরশীল।’

সিভিল রাইটস বা নাগরিক অধিকারের ব্যানারে কথা বললে সবকিছুকেই অনেক ইতিবাচক বলে মনে হয়। কিন্তু প্রথমদিকের নাগরিক অধিকারের রেটরিকের চেয়ে অনেক বেশি কিছু এটা। এটা আসলে নাগরিক অধিকারের পুরো ধারণাটাকেই বদলে দিয়েছে ট্রান্সজেন্ডারের প্রোপাগান্ডা ছড়ানোর জন্য। রিপ্রেজেন্টেটিভ টাকানো আরো বলেন, ‘Equality Act সম্পর্কে কথা বলার সবচেয়ে সহজ উপায় হলো, এটা হলো ১৯৬৪ সালের নাগরিক অধিকারকেই সম্পূর্ণ করে। এতে কেবল বিভিন্ন যৌন আকর্ষণসম্পন্ন মানুষ ও সব ধরনের জেন্ডার আইডেন্টিটিকে যুক্ত করা হয়েছে। যেন এদের অধিকারও সংরক্ষিত হয়।’

সহজভাবে বললে, এখন থেকে ট্রান্সজেন্ডার এজেন্ডার বিরুদ্ধে কথা বলাটা বর্ণবাদ হিসেবে দেখা হবে। বামপন্থীদের ক্ষুদ্র বুদ্ধি থেকে দেখলে, এটা ঠিকই আছে। যত যাই হোক, ট্রান্সজেন্ডার হওয়াকে যারা মানসিক রোগ হিসেবে না দেখে আইডেন্টিটি হিসেবে দেখে, যারা বলে যে তাদের এ চিন্তাকে অবশ্যই সমর্থন করবে নয় দলে দলে মানুষ সুইসাইড করবে, তারপর আর তাদের বুদ্ধি নিয়ে কোনো প্রশ্ন থাকে না। তারা কেন এ ধরনের লোকের উপর ‘বৈষম্য’ বন্ধ করতে চায় তাও বোঝা যায়। অবশ্যই, যারা এই এজেন্ডা পুশ করছে তারা জেন্ডারকে আইনগত বিষয়ে জাতির মতো অপরিবর্তনীয় পরিচয় বলে মনে করে। আবার ব্যক্তিগত ক্ষেত্রে জেন্ডারকে সোশ্যাল কনস্ট্রাক্ট বলতে চায়, অর্থাৎ এটা মোটেও জাতির মতো অপরিবর্তনীয় না। তারা আসলে দুই নৌকাতেই পা দিতে চায় যেন দুই দিকের সুবিধাই পাওয়া যায়।

কিন্তু এটাই একমাত্র অমিল না। ১৯৬৪ সাল নাগরিক অধিকার আইন ছিল এমন বৈষম্য নিষিদ্ধ করার যেগুলোর কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই। গায়ের রঙ বাস্তব জিনিস, কিন্তু এটা এমন কিছু না যার মাধ্যমে ঠিক করতে হবে যে কে কোথায় সাঁতার কাটবে বা কোন হোটেলে খেতে পারবে। অন্যদিকে, জৈবিক লিঙ্গের ধারণা বদলে দেওয়া এমন কিছু না। বরং লিঙ্গ আমাদের বাস্তব জীবনকে অনেক বেশি প্রভাবিত করে।

তাই কেবল কৃষ্ণাঙ্গরা এ ঝরনা থেকে খেতে পারবে কিন্তু শ্বেতাঙ্গরা খাবে অন্য ঝরনা থেকে- এ ধরনের কথা বলা বৈষম্যমূলক। এর কোনো মানেই নেই। কিন্তু যদি আমরা বলি, শুধু নারীরা এ বাথরুম ব্যবহার করতে পারবে এবং পুরুষরা অন্য বাথরুম ব্যবহার করবে, সেটা বৈষম্য বলে কোনো সুস্থ মানুষ বলবে না। ঠিক একইভাবে জীববিজ্ঞান এবং শারীরিক ভিন্নতার উপরে নির্ভর করে ছেলেমেয়ে আলাদা খেলার ব্যবস্থা করা হয়। একেও বৈষম্য বলা যায় না। এটা কমনসেন্স। ঠিক এ কারণেই বর্ণ এবং লিঙ্গ একই বিষয় না।

পুরুষ ও নারীর বাস্তব, জরুরি এবং ভালো কিছু ভিন্নতাকে ‘বৈষম্য’ বলে লেভেল করার মাধ্যমে বামপন্থীরা একটি শেল গেইম খেলছে। তারা এমন একটা বিষয় আপনাকে স্বাভাবিক বলে বিশ্বাস করতে বলছে যেটা কিনা সম্পূর্ণ শয়তানি।

নাগরিক অধিকার আইনকে এভাবে ব্যবহার করা হলে নারীদের সব ধরনের অবস্থান ও ব্যক্তিগত জায়গাকে ধ্বংস করবে। বাচ্চাদেরকে ক্রস-সেক্স হরমোন দেওয়ার বিরোধী মানুষ এবং বর্ণবাদের পক্ষে থাকা মানুষ আসলে একই- এটা মানুষের কাছে এমন একটা মেসেজ পাঠাবে। এটা এমন এক পর্যায়ে পৌঁছাবে যে, আমেরিকানরা হয় তাদের বিবেকের বাইরে গিয়ে মিথ্যা কথা বলতে হবে অথবা চাকরি হারাতে হবে।

উদাহরণস্বরূপ, কোনো ফার্মাসিস্ট যদি বাচ্চাদেরকে ক্রস-সেক্স হরমোন দেওয়ার বিরোধী হন এবং তিনি যদি মনে করেন যে বাচ্চাদেরকে এ হরমোন দেওয়া বাচ্চাদের জন্য ভালো কিছুই না বরং এটা মেডিকেল এক্সপেরিমেন্ট যাতে বাচ্চাদের উপর নির্যাতন করা হয়, তাহলে সে ফার্মাসিস্টকে বলা হবে তিনি ‘বৈষম্য’ করেছেন এবং তিনি ঔষধ বিক্রির অধিকার হারাবেন। আমরা ভালো করেই জানি যে বামপন্থীরা এ ফার্মাসিস্টকে ছেড়ে দেবে না। বা তারা এমন ফার্মাসিস্টও খুঁজে বের করবে না যে তাদেরকে এসব ওষুধ দেবে। ঠিক এমনটাই ঘটেছিল জ্যাক ফিলিপের সাথে। একজন ধার্মিক খ্রিস্টান হিসেবে তিনি সমকামী বিয়ে বা জেন্ডার পরিবর্তনের অনুষ্ঠানের কেক বানাতে চাননি দেখে তাকে বারবার কোর্টে নেওয়া হয়েছে। এটা অনেকটা Little Sisters of the Poor এর মত। তারা ইন্সুরেন্সের টাকা দিতে চায়নি। কেননা এর সাথে গর্ভনিরোধ সংযুক্ত (চিন্তা করুন, তারা নান ছিল)। বামপন্থীরা তাদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের দ্বিমতই সহ্য করে না। তার মানে কোনো ফার্মাসিস্টই আর নিরাপদ নেই। হয় আপনি টেস্টাস্টেরন দেবেন নয় অন্য কোনো চাকরি খুঁজে নিন।

শুধু ফার্মাসিস্টরাই তাদের টার্গেট না। মেডিকেলের সাথে জড়িত সব ধরনের মানুষই তাদের টার্গেট লিস্টে আছে। যারাই তাদের জেন্ডার পরিবর্তনের সার্জারির সাথে দ্বিমত করবে তাদেরকে টার্গেট করা হবে এবং তাদেরকে চাকরি থেকে বের করে দেওয়া হবে। ডেমোক্রেট অধ্যুষিত এলাকাগুলো এখন এমনই হচ্ছে। নিউ জার্সি ও ক্যালিফোর্নিয়ার ক্যাথলিক হাসপাতালগুলোর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। কেননা তারা নিজেকে ছেলে দাবি করে এমন মেয়ের hysterectomy করতে চায়নি। একইভাবে ওয়াশিংটন স্টেইটের একটা হাসপাতালকেও কোর্টে নেওয়া হয়েছে কারণ তারা ১৬ বছর বয়েসী এক সুস্থ মেয়ের স্তন কাটতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। সে মেয়ে নিজের ছেলে ‘পরিচয়’কে নিশ্চিত করার জন্য স্থায়ীভাবে এমন অপারেশন করতে চেয়েছিল। Equality Act এর মাধ্যমে এ আইনকে তারা জাতীয়ভাবে প্রতিষ্ঠা করবে। এরপরে যদি কোনো ডাক্তার বা নার্স বা মেডিকেলের সাথে জড়িত যে কেউ এ আইন মানতে অস্বীকার করে তাহলে তাকে শেষ করে দেওয়া হবে।

আমি যখন রিপ্রেসেন্টেটিভ টাকানোকে জিজ্ঞেস করি যে, এ আইনের মাধ্যমে আমাদেরকে মূল্যবান কোনো কিছুকে ত্যাগ করতে বা আপস করতে হবে কিনা, তিনি পুরোপুরি সে কথাকে উড়িয়ে দেন।

‘চলুন আরো নির্দিষ্ট কোনো পলিসি নিয়ে কথা বলি। আমরা পাবলিক একোমডেশন, যেমন বাথরুম নিয়ে কথা বলেছি,’ আমি বললাম। ‘কিছু নারী এমন আছেন যারা বলেন, ‘আমি বাথরুমে কিছু প্রাইভেসি চাই। সোজাসাপ্টা বললে, আমি বাথরুমে উলঙ্গ পুরুষাঙ্গ দেখতে চাই না। ‘আমি এভাবে বলেছি কেননা আমি চাচ্ছিলাম রিপ্রেজেন্টেটিভ টাকানো ভাবুক আমি তার পক্ষেই আছি। ‘এ লোকরা বলছে, কোনো ব্যক্তির ছোট পুরুষাঙ্গ থাকলেও সে পুরুষই। শুধু পুরুষেরই পুরুষাঙ্গ থাকে এ ধরনের গুজব তারা বিশ্বাস করে। আমরা কীভাবে এর জবাব দিতে পারি?’

‘উম, আসলে, উম,’ তিনি দ্বিধার সাথে শুরু করলেন, ‘আসলে আমি বলতে চাচ্ছি বেশিরভাগ ট্রান্সজেন্ডার যাদেরকে আমি চিনি’ উম, আমি মনে করি যারা মেয়েদের বাথরুমে যেতে চায় তারা আসলেই নিজেদেরকে মেয়ে মনে করে। এবং, জানেন যে, আমরা ট্রান্সজেন্ডারদের পাবলিক বাথরুমে যাওয়ার ব্যবস্থা করে ভবিষ্যতে এ ধরনের মানসিকতার মোকাবেলা করতে পারি।’

তারা নিজেদেরকে মেয়ে ভাবে। এট্টুকই! ইন্টারেস্টিং। আমি ভাবছি রিপ্রেজেন্টেটিভ টাকানো সে প্রশ্নের জবাব দিতে পারবেন কিনা যেটার জবাব এখন পর্যন্ত ট্রান্সজেন্ডারিজমের পক্ষের কেউ দিতে পারেননি।

‘তাহলে লিঙ্গ এবং জেন্ডার আইডেন্টিটির পার্থক্য কী?’ আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম।

‘আসলে, লিঙ্গ জড়িত, জানেন, লিঙ্গের ভিত্তিতে বৈষম্য, আমি মনে করি মানুষ বেশিরভাগ সময় মনে করে, এমন কারো বিরুদ্ধে বৈষম্য যে কিনা নারী হতে পারে। তারা প্রায়সময়ই কম সুবিধা পাওয়া জেন্ডার গ্রুপ ছিল,’ তিনি বলেন।

আচ্ছা! ‘সেক্স’ শব্দটি একদল নারীকে বুঝাতেও ব্যবহৃত হতে পারে। এটা শুনতে আমার মনোযোগ না দেওয়া গতানুগতিক অন্য টার্মগুলোর মতই লাগতে পারে। হয়তো তিনি ভেবেছেন আমি আমার প্রশ্নের কোনো জবাব চাই না।

তিনি জেন্ডার আইডেন্টিটির ব্যাখ্যা করতে গিয়ে আরো বলেন, ‘এমন ঘটনা আছে যেখানে আসল ট্রান্সজেন্ডার মানুষদেরকে সুবিধা দেওয়া হয়নি কারণ জেন্ডারের প্রচলিত ব্যাখ্যার সাথে তারা যায় না- সুপ্রিম কোর্ট বলেছে যে, কারো লিঙ্গপরিচয়ের কারণে কারো সাথে অন্যায় করা অনুচিত। যদিও বৈষম্য দেখে মনে হতে পারে এর সাথে লিঙ্গপরিচয়ের সম্পর্ক নেই, বরং ব্যক্তির পোশাক বা চেহারার সাথে সম্পর্কিত। কিন্তু মূল কারণ হচ্ছে তাদের লিঙ্গপরিচয়।’

আচ্ছা। তাহলে জেন্ডার আইডেন্টিটি কি মানুষ নিজের সম্পর্কে যা ভাবে তা? নাকি অন্যেরা তার সম্পর্কে যা ধারণা রাখে তা? আমি আসলে বুঝতে পারছি না রিপ্রেজেন্টেটিভ টাকানো কী বলতে চাচ্ছেন। তিনি এমন একজন মানুষ যিনি তার মিশন বানিয়ে নিয়েছেন কংগ্রেসে দুই লিঙ্গের ধারণা নিষিদ্ধ করা এবং জেন্ডার আইডেন্টিটি নিয়ে ‘বৈষম্য’ বন্ধ করা, মনে হচ্ছে ‘লিঙ্গ’ ও ‘জেন্ডার’ সম্পর্কে তার তেমন কোনো ধারণাই নেই।

আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম, সুপ্রিম কোর্ট যা বলেছে তার বাইরে গিয়ে বলতে যে এ শব্দগুলোর অর্থ কী। তিনি আবার আলোচনা অন্যদিকে ঘুরিয়ে নিয়ে অন্য কিছু নিয়ে কথা বলতে শুরু করলেন। এবার হিজড়াদেরকে নিয়ে।

অথচ এটা আমার প্রশ্ন ছিল না। তাই আমি আবার আমার প্রশ্ন করলাম।

রিপ্রেজেন্টেটিভ টাকানো বললেন, ‘আমরা যারা ট্রান্সজেন্ডার না, আমাদের হয়তো এটা বুঝতে ও মেনে নিতে ভালো কষ্ট হচ্ছে। কিন্তু আমি মনে করি, যে নিজেকে যা মনে করে সেটাই তার আসল পরিচয় এবং আমাদের অবশ্যই তাকে সম্মান করতে হবে।’

আচ্ছা এটাই তাহলে। আমরা সেক্স ও জেন্ডারের সংজ্ঞা বুঝতে পারছি না কারণ আমরা ট্রান্সজেন্ডার না। কিন্তু যদিওবা আমরা এটা বুঝি না বা ব্যাখ্যাও করতে পারি না, তারপরও ট্রান্সজেন্ডারিজম হলো একেবারেই সত্য একটা পরিচয় এবং আমরা বাধ্য তাকে সম্মান করতে। আমি এখনও আমার উত্তর পাইনি। কিন্তু আমি এট্টুক বুঝেছি যে, রিপ্রেজেন্টেটিভ টাকানোর আসলে খুব বেশি বুদ্ধি নেই। আমি এ প্রশ্ন বাদ দিলাম। আমি তাকে এরপর ‘পাবলিক জায়গায়’ এর প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন করলাম। যেমন পাবলিক রেস্টরুম।

‘এটা সমাধানের আসলে অনেক উপায় আছে,’ তিনি বললেন, একদম যোগ্য রাজনীতিবিদের মত অস্পষ্ট জবাব দিলেন কোনো জবাব না দেওয়ার মাধ্যমে। ‘ভবিষ্যতে চলতে গেলে আমাদের বিভিন্ন ধরনের রাস্তা বের করতে হবে যার মাধ্যমে সবাইকে সম্মান করা যায়।’

উত্তরটা এমন হয়ে গিয়েছে যে এটা কোনো সমস্যা না কারণ তিনি বলছেন এটা কোনো সমস্যা না। যাদের সমস্যা আছে এটার কারণ হলো আমরা আসলে সবকিছু ঠিকঠাকভাবে ‘তৈরি’ করতে পারিনি। আমি অবশ্যই এই ধরনের উত্তর গ্রহণ করতাম না। কিন্তু রিপ্রেজেন্টেটিভ টাকানো ঠিক প্রফেসর গ্রাজানকার মতই কাজ করলেন। তিনি আমার আর কোনো প্রশ্নের উত্তর দিতে চাইলেন না। তিনি আমেরিকাকে মজ্জাগতভাবে পরিবর্তন করার এবং লিঙ্গভিত্তিক সব ধরনের আইনকে ধ্বংস করার পক্ষে ভোট দিয়েছেন কিন্তু তিনি এর ব্যাপারে একদম মৌলিক প্রশ্নের উত্তর দিতে পারছেন না। তিনি এসেছিলেন একটা ভালো প্রচারণা চালাতে, প্রশ্নের উত্তর দিতে নয়।

‘তাহলে আমরা যেহেতু একেবারে বাথরুম নিয়ে বিতর্কের দিকে যাচ্ছি,’ তিনি বললেন, ‘আমার মনে হচ্ছে এই সাক্ষাৎকারটি শেষ করা উচিত। হ্যাঁ, আমি মনে করি এটা শেষ।’ তিনি তাড়াতাড়ি উঠে দাঁড়িয়ে মাইক খুলে ফেলে রুম থেকে বের হয়ে গেলেন।

বোঝাই যাচ্ছে কেন রিপ্রেজেন্টেটিভ টাকানো তার লেগেসলেশন নিয়ে কথা বলতে চাননি। তার এই পদক্ষেপের কারণে কোনো মানুষের যে ক্ষতি হতে পারে এটা তিনি স্বীকারই করতে চান না। তাই আমি রাজনৈতিক মেশিনের চূড়ায় থাকা কোনো মানুষের সাথে কথা বলতে চাইলাম। এবার আর কোনো কংগ্রেসম্যান নয়, আমি ওয়াশিংটনের এমন কারো সাথে কথা বলবো যার আসলেই ক্ষমতা আছে। আমি একটি একটিভিস্ট সংগঠনের প্রধানের সাথে কথা বলতে গেলাম।

আসলে কে অস্বস্তিতে থাকে?

রড্রিগো হেং-লেহটিনেন হলেন ন্যাশনাল সেন্টার ফর ট্রান্সজেন্ডার ইকুয়ালিটির (এনসিটিই) এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর। এটা একটা অ্যাক্টিভিস্ট সংগঠন যা ট্রান্স এজেন্ডাকে এগিয়ে নিতে ওয়াশিংটনে ২০০৩ সালে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। তিনি একজন মহিলা যিনি নিজেকে পুরুষ দাবি করেন। তিনিও ঠিকই রিপ্রেসেন্টেটিভ টাকানোর মতই কিছু শুকনো, সংক্ষিপ্ত কথা বললেন।

প্রথমত, আমি হেং-লেহটিনেনকে জিজ্ঞেস করলাম যে তার সেন্টারের কাজ কী। ‘আমরা আমাদের জীবনকে নিয়ন্ত্রণ করা আইন ও পলিসি কেমন হবে তা নির্ধারণ করি যেন ট্রান্সজেন্ডার মানুষদেরকে আর কোনো বৈষম্যের শিকার হতে না হয়।’ একদম টাকানোর মত। তাদের অন্যতম লজিক হলো, বৈষম্য বন্ধ করার মানেই হলো নারী-পুরুষ বলে জৈবিক সবকিছু ভুল। কিন্তু স্পষ্টতই, এনসিটিই বিগত বেশ কিছু বছরে বেশ সফলতার সাথেই কাজ করে যাচ্ছে।

‘আমরা প্রতিষ্ঠিত হই ২০০৩ সালে,’ তিনি বলে যাচ্ছিলেন, ‘এবং উল্লেখযোগ্য যে, আমরা যখন প্রতিষ্ঠিত হই তখন কংগ্রেসের অনেকেই ছিলেন যারা আমাদের সাথে দেখাও করতে চাইতেন না। এখন আমরা এতই এগিয়ে গিয়েছি যে আমরা এখন প্রেসিডেন্ট বাইডেনকে ট্রান্সজেন্ডারদের অধিকার নিয়ে প্রশ্ন করছি এবং শুনতে পারছি যে তিনি প্রকাশ্যে ট্রান্সজেন্ডারদের অধিকার নিয়ে কথা বলছেন। বলা যায়, খুব অল্প সময়েই আমরা অনেক কাজ করতে পেরেছি।’

আমি তাকে তাদের কাজের সম্পর্কে আমাকে আরেকটু গভীরভাবে বলতে বললাম। তিনি আমাকে বললেন, শুধু ইকুয়ালিটি অ্যাক্টের মত আইনের ব্যাপারেই যে তারা কাজ করেন তা নয়। তারা জাতীয় সরকারের কেন্দ্রের আসল ক্ষমতাও প্রভাবিত করতে চান- দ্য ফেডারেল ব্যুরোক্রেসি। ‘মানুষ যখন সরকার সম্পর্কে ভাবে, তখন তাদের চোখের সামনে ভেসে ওঠে হোয়াইট হাউস, দ্য ক্যাপিটল ও সুপ্রিম কোর্ট,’ হেং-লেহটিনেন বললেন, ‘কিন্তু এখন এইচইউডি, ভিএ এবং এইচএইচএসের মত এজেন্সি আছে যাদের কথা অধিকাংশ মানুষ জানে না। কিন্তু এরাই হলো সেসব সরকারি এজেন্সি যারা আমাদের জীবনকে নিয়ন্ত্রণ করে। উদাহরণস্বরূপ, ভেটেরান এডমিনিস্ট্রেশন। তারাই ঠিক করবে ট্রান্সজেন্ডার ভেটেরানরা কি স্বাস্থ্যসেবা পাবে কিনা। এটা জীবন-মৃত্যুর মত বিষয়।’

এ ধরনের লবিয়িং এর সাহায্যে, এনসিটিই আমাদের রিপ্রেজেন্টেটিভদের ভোট ছাড়াই সব ধরনের পলিসিতে প্রভাব বিস্তার করছে। হেং-লেহটিনেনের অন্যতম গর্বের অর্জন হলো স্বাস্থ্যসেবায়।

‘অনেক মানুষই বোঝে না, একসময় ট্রান্স লোকদের ট্রান্স হওয়ার কারণেই স্বাস্থ্যসেবা পেতে অনেক বেশি কষ্ট হয়ে যেতো,’ তিনি বললেন, যদিও এটা সত্য না। ট্রান্স লোকরা অন্য সবার মত করেই স্বাস্থ্য ইনসুরেন্স পেতো। শুধুমাত্র তাদের নিজেদের ইচ্ছামত সাজতে সার্জারি ও থেরাপির মত মেডিকেলি বেদরকারি কাজের জন্য তারা অন্য লোকের টাকা পেতো না। সেটা অন্যরাও পেতো না।

তিনি বলতে থাকলেন, ‘ইনসুরেন্স কোম্পানিগুলো আপনাকে ফিরিয়ে দেওয়ার বিরুদ্ধে কোনো আইনও ছিল না, কেননা সে সময় ট্রান্স হওয়াকে দেখা হতো একটা মানসিক অসুস্থতা হিসেবে। আপনার আগের অবস্থার উপর নির্ভর করে ইনসুরেন্স কোম্পানিগুলো আপনাকে বিদায় করে দিতে পারতো। কেননা ট্রান্সকেও এভাবেই দেখা হতো। তাই যখন আমরা Affordable care act/Obamacare এর একটা অনুচ্ছেদে স্থান পেলাম, এটা ছিল আমাদের জন্য অনেক বিজয়।’

কিন্তু ওবামাকেয়ার ছিল তাদের কাজের প্রথম ধাপ মাত্র। একবার আইনগত স্থানে জায়গা পেয়ে যাওয়ার পরে এনসিটিই ফেডারেল ব্যুরোক্রেসির ভেতর থেকে কাজ করছে একেবারে আইনই বদলে দেওয়ার জন্য যেন তাদের এসব মেডিকেল সার্জারির টাকা জোগাড় করা যায়।

‘আরো বলতে গেলে, আমরা বছরের পর বছর ধরে কাজ করেছি আমাদের দাবি শক্তিশালী করতে,’ তিনি বললেন, ‘এসব পলিসি লড়াইয়ে বিজয় অর্জন করার কারণেই এখন ইনসুরেন্স কোম্পানি আমাদের সার্জারি খরচ বহন করছে। তাদেরকে এখন লিঙ্গপরিবর্তনের অপারেশনের খরচ বহন করতে হবে। কেউ ট্রান্স হলে তার যদি হরমোন বা সার্জারি লাগতো তখন তারা এগুলো দিতো না কেননা তারা ছিল ট্রান্স। কিন্তু অন্যদের একই ধরনের সার্জারির খরচ ঠিকই বহন করতো। এখন তারা আর এসব করতে পারবে না।’

একজন ব্রেস্ট ক্যান্সারের রোগীর জন্য করা mastectomy নিশ্চয় এমন কোনো সার্জারির মত নয় যেখানে ১৫ বছরের মেয়ে ছেলে হয়ে এখন ব্রেস্ট কেটে ফেলতে চায়। একটাতে মেডিকেল অপারেশন করা হচ্ছে রোগীর শারীরিক অবস্থার উন্নয়ন করতে। অন্যটাতে করা হচ্ছে, একজন মানুষ বাস্তবতার বাইরে গিয়ে যে কল্পনা করছে সেটাকে বাস্তব রূপ দিতে। এটাকে কোনোভাবে একই ধরনের মেডিকেল কার্যক্রম বলা যায় না। একটাতে অপারেশন দরকার ছিল, আরেকটাতে ছিল না। কিন্তু হেং-লেহটিনেনের বিকৃত মানসিকতায় এটার কারণ নাকি ‘বৈষম্য’।

তিনি মনে মনে বিশ্বাস করে নিয়েছেন যে এ ধরনের কসমেটিক সার্জারি নিজের ইচ্ছামত না, যেমনটা বলেছেন থেরাপিস্ট গার্ট কমফ্রে, বরং স্বাস্থ্যের জন্য দরকার। ‘সব ডাক্তারের কাছে এ সংক্রান্ত গাইডলাইন আছে। American Medical Association, American Academy of Endocrinology, and so forth, the American Academy of Pediatrics এর মত সব নেতৃত্বস্থানীয় মেডিকেল প্রতিষ্ঠান প্রত্যেকেই একে স্বাস্থ্যের একটা গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখে,’ তিনি আমাকে জানালেন।

যখন ওবামাকেয়ার লিঙ্গপরিবর্তনের খরচ বহনের কথা বলছে, তার মানে আমার আপনার মত ট্যাক্স দানকারী মানুষদেরকেই এটা বহন করতে হবে। করদাতাদের দেওয়া ভর্তুকি আর বিমা কোম্পানিগুলোর দেওয়া ঘুষের উপর এই পুরো ব্যবস্থা দাঁড়িয়ে আছে।

একদম রিপ্রেজেন্টেটিভ টাকানোর মতই হেং-লেহটিনেন ট্রান্সলোকদের অধিকার ও অন্য সবার অধিকারে কোনো সংঘর্ষ হতে পারে বলে মনে করেন না।

‘আমরা শুনি যে কিছু মহিলা বলছে, ‘আমি লকার রুমে পুরুষাঙ্গ থাকা কাউকে দেখে অস্বস্তি বোধ করি’। তাদেরকে আপনি কী বলবেন?’ আমি প্রশ্ন করলাম।

‘ট্রান্সজেন্ডার নারীরা অন্য সবার মতই নিরাপত্তা ও প্রাইভেসির মূল্য দেয়,’ তিনি বললেন, ‘ট্রান্সজেন্ডার নারীরা কোনো হুমকি না। বরং ট্রান্সজেন্ডার নারীরা নিজেরাই হ্যারেজমেন্টের আতঙ্কে থাকে।’

‘আচ্ছা যারা বলে, ট্রান্সনারীদেরকে পুরুষের বাথরুমে যেতে বললেই তো ল্যাটা চুকে যায়’, সে ব্যাপারে কী বলবেন?’ আমি জিজ্ঞেস করলাম।

‘ট্রান্সজেন্ডার নারীদেরকে পুরুষের লকারে যেতে না বলার মূল কারণ হলো এটা তাদের জন্য নিরাপদ না। ট্রান্সজেন্ডার মানুষরা প্রতিদিন অনেক হ্যারেজমেন্টের শিকার হয়।’ তিনি বললেন।

‘আমরা ট্রান্সনারীদেরকে পুরুষের বাথরুমে যেতে বলবো না কেননা এটা তাদের জন্য নিরাপদ না’, আমি বললাম, ‘তাহলে যে নারীরা বলে, ‘আমাদের বাথরুমে কোনো পুরুষকে আসতে দেওয়া যাবে না। কারণ আমরা নিরাপদ বোধ করি না’, সেক্ষেত্রে কী হবে?’ আমি এক মুহুর্তের জন্য এমন কথা বলে ফেললাম যাতে বোঝা যাচ্ছিলো যে আমি ট্রান্সনারীদেরকে পুরুষই মনে করি। সৌভাগ্যবশত, তিনি তা বুঝতে পারেননি।

তিনি বললেন, ‘আরে অন্য সবার মতো ট্রান্সব্যক্তিরাও নিরাপত্তাকে গুরুত্ব দেয়’। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, আমেরিকার যেসব প্রদেশে মহিলা বাথরুমে ট্রান্সব্যক্তিদের প্রবেশের বৈধতা দিয়েছে সেসব জায়গায় সহিংসতা খুব একটা বাড়েনি।

‘শুধু Wi spa-র ঘটনা বাদে, তাই না?’ আমি ধরে বসলাম।

তিনি বললেন, ‘Wi Spa-র ঘটনা সম্পর্কে আমি বিশদ কিছু জানি না। কিন্তু আমি এতটুকু জানি যে কোনো একভাবে এটিকে ডিবাঙ্ক করা হয়েছিল’।

করা হয়নি। আমি কিছু বললাম না।

‘তাহলে দেখা যাচ্ছে এখানে বিষয়টা সাংঘর্ষিক হয়ে দাঁড়াচ্ছে,’ আমি বললাম, ‘কারণ কিছু নারী আছে যারা বলছেন, ‘আমি আমার বাথরুম কোনো পুরুষের সাথে শেয়ার করতে চাই না। আমি এর কারণে অস্বস্তিতে থাকি।’ এখানে দুই ধরনের অধিকারের প্রতিযোগিতা চলছে। আমাদেরকে কোনো না কোনো অধিকারের পক্ষে দাঁড়াতে হবে। কিন্তু কারো দিন শেষ, না? তার মানে আপনি কি বলতে চাচ্ছেন নারীদের দিন শেষ?’

‘আমি বলবো, মানুষ তাদের জীবনে ট্রান্সজেন্ডার মানুষদেরকে যত বেশি জানবে, তাদের অস্বস্তি ততই বিদায় নেবে।’

‘কিন্তু তারা এখন অস্বস্তিতে আছে,’ আমি বললাম।

‘এবং আমি তাও বলবো যে, এ অস্বস্তি চলে যাবে,’ তিনি বললেন।

ইন্টারেস্টিং। তারপরই প্রশ্ন আসে, যে নারীদের আজীবন নিজস্ব রেস্টরুম ছিল, আপনি কেন তাদেরকে অস্বস্তির মোকাবেলা করতে বাধ্য করছেন? অথচ ট্রান্স লোকদের করছেন না?

‘আপনি কি অন্য জবাবটি গ্রহণ করবেন?’ আমি বলতে লাগলাম, ‘যদি কেউ বলে, ‘আচ্ছা, ট্রান্সনারীকে পুরুষের বাথরুমে যেতে দেওয়ার ক্ষেত্রে আপনার অস্বস্তি লাগতে পারে। কিন্তু সে অস্বস্তি একসময় চলে যাবে।’

‘সে অস্বস্তি যাবে না কারণ ট্রান্সজেন্ডার লোকদের ভুল স্থানে দিলে তারা সবসময় হ্যারেজমেন্টের শিকার হয়,’ তিনি বললেন।

‘কিন্তু নারীরাও হ্যারেজমেন্টের শিকার হচ্ছে,’ আমি বললাম।

কিন্তু তাতে কিছু আসে যায় না। আলোচনা খুব পরিষ্কার। কিন্তু তারপরও আইন করে আমাদেরকে বাধ্য করা হচ্ছে তাদের বাস্তবতায় প্রবেশ করতে। কিন্তু আমরা তাদেরকে বাস্তবতায় ফিরে আসতে বলতে পারবো না। Wi spa তে ছয় বছর বয়েসী মেয়ের সাথে কী হয়েছে তা কোনো ব্যাপারই না। ট্রান্সজেন্ডার লোকদের অধিকার ও দাম ভিক্টিম নারীদের চেয়ে অনেক বেশি। তারাই জিতবে। তাদের উপর হওয়া হ্যারেজমেন্ট সাধারণ মানুষের উপর হওয়া হ্যারেজমেন্টের চেয়ে বেশি খারাপ। এটাই হচ্ছে।

খেলাধুলার ক্ষেত্রেও হেং-লেহটিনেন খেলার বিষয়কেও একইভাবে দেখেন।

‘চলুন কোনো বাস্তব উদাহরণ এনে বিষয়টাকে ফ্রেইম করি,’ আমি বললাম, ‘কানেকটিকাটে একটা কেইস আছে। সেখানে দুজন পুরুষ ট্র্যাক রানার ছিল’

‘তারা ট্রান্সনারী,’ তিনি ধরে বসলেন। আমি আর পাত্তা দিচ্ছি না। তাদের এসব আইনি পরিবর্তনে কারো কোনো সমস্যাই হচ্ছে না- তার এমন দাবি আমি আর নিতে পারছিলাম না।

‘আচ্ছা,’ আমি বলতে শুরু করলাম, ‘আপনি এদের অবস্থা দেখুন। ছেলেদের মধ্যে প্রতিযোগিতায় এরা ছিল মোটামুটি মাঝামাঝি অবস্থানে। তারপর তারা এসে মেয়েদের সাথে প্রতিযোগিতা শুরু করলো। বুঝতেই পারছেন, তারা হয়ে গেলো প্রথম ও দ্বিতীয়। আপনার কি মনে হয় না তারা মেয়েদের বিরুদ্ধে এক ধরনের অন্যায় সুবিধা পাচ্ছে?’

‘কানেকটিকাট একটি ব্যতিক্রম,’ তিনি বললেন। ‘এটা বেশি মনোযোগ পেয়েছে কারণ ট্রান্সমেয়েরা এখানে বেশি ভালো করেছে।’

তিনি বিষয়টাকে আরো সামনে নিয়ে গেলেন, ‘আমরা এখন এমন বিলের মোকাবেলা করছি যার কারণে দেশজুড়ে ট্রান্সজেন্ডার তরুণদেরকে হয় সেরা মেডিকেল কেয়ার থেকে বঞ্চিত রাখা হচ্ছে অথবা স্কুলের খেলাতে অংশগ্রহণ করতে দেওয়া হচ্ছে না। কারণ তারা ট্রান্সযুবক,’ তিনি বললেন, ‘জিনিসটা এমনকি স্বাস্থ্য বা খেলাধুলা নিয়েও না, তারা শুধুমাত্র ট্রান্সবাচ্চা বলেই টার্গেট হচ্ছে। এটা ভাবা আসলেই কষ্টের যে আপনি একজন প্রাপ্তবয়স্ক হয়ে আপনার সময় ও শ্রম ট্রান্সবাচ্চাদেরকে অপমান করার কাজে লাগাবেন।’

ট্রান্স লোকদের অপমান? ট্রান্সলোকরাই তো দেখা যাচ্ছে সবাইকে অপমান করে বেড়াচ্ছে! হেং-লেহটিনেন আমাকে বারবার করে বলছেন যে মানুষ যদি ট্রান্সলোকদের সাথে পরিচয় হয়, তাদেরকে জানে তাহলে নাকি অস্বস্তি কমে আসবে। আমি জানি তার চিন্তা পরিবর্তন হবে কিনা যে ছয় বছর বয়েসী মেয়েটার সাথে পরিচিত হওয়ার পরে, যার মুখে Wi spa তে এক পুরুষ (যে নিজেকে নারী দাবি করে) নিজের পুরুষাঙ্গ ঢুকিয়ে ধর্ষণ করেছিল। আমি এটাও জানি না তার মন পরিবর্তন হবে কিনা সেলিনা সোলের সাথে দেখা করার পরে যাকে বাধ্য করা হয়েছে দুটো পুরুষের সাথে দৌড়াতে, যাতে সে হেরে যায়। আমি জানি না তার মন পরিবর্তন হবে কিনা যদি তিনি কার্ট স্কিলিংএর সাথে দেখা করেন যিনি চাকরি হারিয়েছেন, বা স্কট নিউজেন্টের সাথে যাকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্লক করে দেওয়া হয়েছে বা ডন সুশারের সাথে যাকে তার নিজের দোকানেই হ্যারেজমেন্টের শিকার হতে হয়েছে। আর এগুলো সবই হয়েছে ট্রান্সজেন্ডার আন্দোলনের অসহিষ্ণুতার কারণে।

ট্রান্সআন্দোলনের পক্ষের রাজনীতিবিদরা যাই বলেন তা শুনতে অনেক ইতিবাচক ও দয়াশীল মনে হয়। তাদের আলোচনার কেন্দ্র বৈষম্য দমন করা, সম্মান করা, গ্রহণ করা। সব পলিসি, আইন ও পরিবর্তনে কারো কোনো ক্ষতি নেই। কে এমন কিছুর বিরুদ্ধে থাকবে?

কিন্তু এর সাথে সাথে তারা আইনের মাধ্যমে জৈবিক পুরুষদেরকে নারীদের ব্যক্তিগত জায়গাগুলোতে প্রবেশ করাতে চায়। আমাদের করের টাকা তারা হরমোন থেরাপি ও লিঙ্গপরিবর্তনের সার্জারির পেছনে খরচ করতে চায়। এবং তাদের বিকৃত এজেন্ডার বিরোধী যে কাউকে বর্ণবাদীদের মত খারাপ বানিয়ে দেয়।

গড্ডলিকা প্রবাহে গা ভাসানো

সত্য হলো আমরা কানাডা থেকে বেশি দূরে না। এটা শুরু হয় সুন্দর শোনানো, বৈষম্যবিরোধী আইন দিয়ে, কিন্তু এসবের প্রভাব অনেক বেশি যা কিনা ট্রান্সঅ্যাক্টিভিস্টরা স্বীকার করতে চান না। খুব দ্রুতই, যে বাবা-মায়েরা তাদের সন্তানদের এসব কল্পনা বাস্তবতা বলে সায় দেবেন না, তাদেরকে কেড়ে নেওয়া হবে বাবা-মা থেকে। বাদ দিন। এটা এখনই হচ্ছে।

ডালাসের বাসিন্দা বাবাব জেফরি ইয়ংগার অনেকদিন থেকেই তার নয় বছর বয়েসী জমজ সন্তানদেরকে কাছে রাখার জন্য লড়াই করে যাচ্ছেন। এক ভাই ইনডক্ট্রিনেটেড হয়ে ভাবছে যে সে মেয়ে। কান্ডার রব হুগল্যান্ডের মতই ইয়ংগার বলেছেন ‘তার ছেলেকে স্কুলে মেয়ে হতে শেখানো হচ্ছে, তার ব্রেইনওয়াশ করা হচ্ছে।’ আমি যখন জেমসকে স্কুলে ছেলেদের পোশাক পরিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলাম, শিক্ষক তাকে মেয়েদের পোশাক দেয় পরার জন্য,’ তিনি বললেন। ‘স্কুলে জেমসকে নিজের নামে ডাকা হয় না। তারা মেয়ের নাম নিয়ে ডাকে। তারা জেমসকে জোর করে শেখাচ্ছে যে সে মেয়ে। এমনকি তারা জেমসকে পাঠায়ও মেয়েদের বাথরুমে।’

চিন্তা করুন, এটা টেক্সাসের ঘটনা।

একসময় ইয়ংগার তার স্ত্রীর কাছে হেরে যায়। সরকার তার সাবেক স্ত্রীকে সন্তানদের দায়িত্ব দেয় যে দরকারের চেয়ে বেশি তার ছেলের নারী পরিচয়ের পক্ষে। তবে ভালো দিকটি হলো, হুগল্যান্ড কেইসের মত মায়ের সিদ্ধান্তেই সব করতে দেয়নি কোর্ট। বাবার অনুমোদন ছাড়া হরমোন থেরাপি দেওয়ার পরে জজ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।

ইয়ংগার শুধু একাই নন। ওহিওতে এক বেনামি বাবা-মা তাদের ১৭ বছর বয়েসী মেয়ের ছেলে হওয়ার জন্য হরমোন থেরাপি নেওয়ার বিরুদ্ধে একসাথে দাঁড়ান। কিন্তু কোর্টের মনে হচ্ছিলো, বাবা-মায়ের এ ধরনের আচরণ নাকি সে মেয়েকে আত্মহত্যার দিকে নিয়ে যাচ্ছে, তাই কোর্ট বাবা-মা থেকে সরিয়ে দাদা-দাদির কাছে মেয়েকে প্রেরণ করে।

কিছু স্টেইট তো বাচ্চাদের সার্জারির সামনে যেন কোনো বাধাই আসতে না পারে তেমন ব্যবস্থা নিয়েছে। ১৪টা স্টেইট ও ওয়াশিংটন ডিসিতে ‘কনভার্সন থেরাপি’ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কনভার্সন থেরাপির মানে হলো, বাবা-মা, কাউন্সিলর, শিক্ষক- কেউই নিজেকে ভিন্ন লিঙ্গের মনে করা কোনো ছেলে বা মেয়েকে নিজের জৈবিক লিঙ্গে থাকার পক্ষে বোঝাতে পারবেন না।

অবশ্য ট্রান্সঅ্যাক্টিভিস্টরা দেশব্যাপী কনভার্সন থেরাপির বিরুদ্ধে ক্যাম্পেইন করে আসছে। ট্রান্সজেন্ডারিজম এখন স্কুলের বই, বিজ্ঞাপন, টিভি শো ও মুভিতে দেখানো হচ্ছে। একই সাথে শিক্ষক, থেরাপিস্ট ও ডাক্তাররা এর ব্যাপারে বাচ্চাদেরকে বোঝাচ্ছে। প্রতিদিন তারা চেষ্টা করছে বাচ্চারা যেন নিজের লিঙ্গ নিয়ে হীনমন্যতায় থাকে এবং জেন্ডার ফ্লুইডিটি গ্রহণ করে নেয়। জৈবিক লিঙ্গের সাথে সাংঘর্ষিক প্রতিটা আন্দোলন- স্টেরিওটাইপিং থেকে শুরু করে জেন্ডার ডিস্ফোরিয়ার ক্লিনিক্যাল অনুভূতি- পিতামাতার অনুমতি এবং কোনো ধরনের মতামত ছাড়াই গৃহীত এবং চর্চিত হয়েছে।

তবুও এটাকে বাধা দেওয়ার এবং জৈবিক লিঙ্গ অস্বাভাবিক, অহেতুক এবং পুরনো কোনো ধারণা নয় বলে দাবি করার ক্ষুদ্রতম প্রচেষ্টাটিকে কেবল পশ্চাদপদই নয়, বেআইনি হিসেবেও বিবেচনা করা হয়। এবং আপনি নিশ্চিত থাকতে পারেন যে, রিপ্রেজেন্টেটিভ টাকানো এবং হেং-লেহটিনেনের এর মতো ট্রান্স অ্যাক্টিভিস্টরা সুযোগ পেলে দেশব্যাপী তথাকথিত কনভার্সন-থেরাপি নিষিদ্ধ করার প্রথম সুযোগ নেবে।

এগুলো সবগুলোই নাকি কেবল বৈষম্য থেকে বের হয়ে আসার চেষ্টা। মোটেই না। এগুলো হলো বিকৃত কিছু ধারণা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা। তারা প্রতিষ্ঠা করতে চায়, যে নিজেকে যে জেন্ডার মনে করে সেটা কোনো ভাবেই পরিবর্তনের সুযোগ নেই। এর ব্যাপারে কোনো দ্বিমত সহ্য করা হবে না।

কর্তৃপক্ষে যারা আছেন যারা যেকোনো জঘন্য কাজ করে হলেও বাবা-মাকে তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত করবে, সন্তানকে বাবা-মা থেকে কেড়ে নেবে এবং ট্রান্সজেন্ডার আদর্শের এসব বিকৃতি ছড়াবে। ওয়াশিংটন স্টেটের একজন বাবা সবার থেকে পরিষ্কারভাবে এটা বুঝেছিলেন।

তার পরিচয়কে গোপন রাখতে আমরা তার ছদ্মনাম ব্যবহার করবো- আহমদ। তিনি আমেরিকায় থাকা একজন পাকিস্তানি অভিবাসী। স্টেট তার সন্তানের জন্য এসেছিল, যেভাবে রব হুগল্যান্ডের মেয়েকে তারা নিয়ে যায় তার কাছ থেকে।

২০২০ সালের শেষে, আহমদ তার ১৬ বছর বয়েসী অটিস্টিক ছেলে আত্মহত্যার হুমকি দেওয়ার পরে তাকে সিয়াটলে একটি হসপিটালে ভর্তি করে। অল্প কিছুদিনের মধ্যেই হাসপাতাল থেকে তার কাছে মেইল আসে যে, আহমদের তার ‘মেয়ে’কে জেন্ডার হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে। তারা তার ছেলেকে অন্য নামেও সম্বোধন করছিল।

‘তারা আসলে তাদের জেন্ডার ক্লিনিকের একজন কাস্টমার বাড়াতে চাচ্ছিলো,’ আহমদ সাংবাদিক আবিগাইল শ্রিয়ারকে বললেন, ‘আর মনে হচ্ছিলো তারা আমাদেরকে জোর করে বাধ্য করবে এ কাজ করতে।’ আপনারা অবাক হবেন না যে কাউন্সিলর ও থেরাপিস্টরা আহমদকে বলছিল তার সন্তানের আত্মহত্যা ঠেকানোর একমাত্র উপায় হলো তার ছেলেকে মেয়েকে হিসেবে দেখা।

ওয়াশিংটনের আইন এখন আহমদের বিরুদ্ধে কাজ করছে। এ স্টেটে মাত্র ১৩ বছর বয়সে ছেলে-মেয়েরা বাবা-মায়ের অনুমতি ছাড়াই জেন্ডার এফার্মিং চিকিৎসা নিতে পারে। আহমদ জানে যে তার এ মুহূর্তে তার কোনো ক্ষমতা নেই। সে তার কিছু বিশ্বস্ত বন্ধুর সাথে কথা বললো। তাদের মধ্যে ছিল একজন আইনজীবী ও একজন সাইকিয়াট্রিস্ট। সাইকিয়াট্রিস্ট তাকে ট্রান্সজেন্ডারিজম এজেন্ডার কালো দিক সম্পর্কে বলে, ‘আপনাকে খুব বেশি সতর্ক থাকতে হবে। তারা যদি আপনার থেকে একটু হলেও ট্রান্সবিরোধী কোনো ইঙ্গিত পায়, তারা Child Protective Service এ কল দিয়ে আপনার বাচ্চাকে নিয়ে যাবে।’

আহমদকে যা বলা হলো একটা সময় পর্যন্ত তিনি তাই করলেন। তিনি হাসপাতালে বললেন যে তিনি তার ছেলেকে জেন্ডার ক্লিনিকে নিয়ে যাবেন। এটা বলে তিনি ছেলেকে বাসায় নিয়ে আসলেন। আহমদ সিদ্ধান্তের ব্যাপারে ভাবলেন। তিনি যদি সরাসরি বিরোধিতা করেন এবং তাদের কথা না মানেন তাহলে স্টেস্ট তার সন্তানকে তার কাছ থেকে নিয়ে যাবে। অথবা তিনি পালিয়ে যেতে পারেন এমন কোথাও যেখানের আইন এখানের মত এত জঘন্য না।

আহমদ নিজের সন্তানকে বাঁচানোর সিদ্ধান্ত নিলেন। তিনি চাকরি ছেড়ে দিয়ে পুরো পরিবার নিয়ে ওয়াশিংটন ছেড়ে অন্য স্টেটে চলে গেলেন যেখানে এখনও বাবা-মায়ের মতামতকে সম্মান করা হয়। একটু ভেবে দেখুন। একজন আমেরিকান বাধ্য হচ্ছে তার পরিবারসহ নিজেকে গুটিয়ে নিয়ে জুলুম থেকে পালিয়ে যেতে। এটা অন্য কোনো দেশে না। আমেরিকাতেই।

আহমদের গল্প ভালোভাবেই শেষ হয়েছিল। কিন্তু যারা নিজেদের সন্তানকে রক্ষা করতে চায় তারা আর কত পালাবে? কোথায় পালাবে? ওয়াশিংটনের মতই আইন চলে ক্যালিফোর্নিয়া ও ওরেগনে। অর্থাৎ আমেরিকান পশ্চিমা সীবোর্ড জুড়েই বাবা-মায়েরা ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছেন তাদের সন্তানদের ব্যাপারে কোনো রকম সিদ্ধান্ত দেওয়ার। শুধু সময়ের ব্যাপার যে আমেরিকায় ডেমোক্রেটদের আধিপত্য থাকা সব এলাকাতেই এমন আইন পাস হবে। ট্রান্স আদর্শ আর একটুও সফল হলে ওয়াশিংটনের আইনই হবে ফেডারেল পলিসি।

বামপন্থীরা যা করতে চাচ্ছে তাকে লেখক জেমস পলসের ভাষায় বলা যায়, ‘গোলাপি পুলিশ স্টেস্ট’। এটা আসলে ব্যাপক জুলুমবাজ কিন্তু লুকিয়ে আছে সহিষ্ণুতা ও উদারতার রঙধনু রঙের পেছনে। ‘পিংক পুলিশ’ রাজ্যে সামরিক পোশাক পরা সৈন্য থাকবে না, পরিবর্তে রাজনৈতিক কর্মীরা হবেন এর প্রয়োগকারী। এর যোদ্ধা হলো রাজনৈতিক অ্যাক্টিভিস্ট, শিক্ষক এবং কংগ্রেসের সদস্যরা। এরা অর্ডার প্রতিষ্ঠা করে আইনজীবী ও আপনার সাথের নাগরিকদেরকে দিয়ে। তারা আপনাকে সবর্দা অনুসরণ করে আপনার দিক থেকে কোনো ট্রান্সবিরোধী চিন্তা পাওয়া যাচ্ছে কিনা তা বের করতে। বের হলেই তা ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দিয়ে আপনার বিরুদ্ধে তারা লাগিয়ে দেবে জনতাকে। তারা আপনাকে অস্ত্র দিয়ে বাধ্য করবে না। আপনাকে একজন নার্স এসে ঠান্ডা, ভদ্র হাসি দিয়ে বলবে আপনার মেয়ে এখন ছেলে। আপনি যদি তাতে সায় না দেন আপনার উপর যা নেমে আসবে তা কল্পনার বাইরে।

তারা নতুন ওয়ার্ল্ড অর্ডার চায় বলে স্বীকার করে না। তারা তাদের রেটরিক পরিষ্কারভাবে বলে না। তারা বলে তারা নাকি শুধু বৈষম্য বন্ধ করতে চায়। তারা শুধু গ্রহণযোগ্যতা চায়। তারা শুধু সম্মান চায়। কিন্তু তাদের কাজ, আইন ও নীতি তাদের আসল রূপ আমাদের সামনে প্রকাশ করে দেয়।

তাদের ‘বৈষম্যবিরোধী’ শাসন নারীদের বিরুদ্ধে বৈষম্য করে। তারা নারী ও পুরুষের মধ্যকার সব পার্থক্য ধ্বংস করে দিতে চায়। তাদের কাছে গ্রহণযোগ্যতার মানে হলো তারা যা বলছে তাই সবাইকে মেনে নেওয়া এবং কোনো প্রকার দ্বিমত নিষিদ্ধ করা। তারা আপনার সম্মান চায়, কিন্তু তারা জীববিদ্যার মৌলিক বিষয়কে সম্মান করে না, তারা বাচ্চাদের নিষ্পাপ অভিব্যক্তিকে সম্মান করে না। সর্বোপরি, তারা বাবা-মা ও সন্তানের মধ্যকার পবিত্র ও সবচেয়ে মৌলিক এ সম্পর্ককে সম্মান করে না। তাদের শব্দ খুব সহজ, কিন্তু বোঝা মারাত্মক।

কিন্তু আশা হারানোর কিছু নেই। এখনও আহমদ ও রব হুগল্যান্ডের মত সাহসী মানুষরা আছে যারা তাদেরকে সন্তানকে ত্যাগ করার আগে নিজেদের জীবনকে স্যাক্রিফাইস করে দেবে। এখনও সেলিনা সৌল ও স্কট নিউজ্যান্টের মত নারীরা আছে যারা সত্য বলবে, যাই হয়ে যাক না কেন। ট্রান্সজেন্ডার বিকৃতি আমাদের জাতি ও সংস্কৃতিকে অবিস্মরণীয় দ্রুততার সাথে দখল করে নিয়েছে। কিন্তু তৈরি হচ্ছে প্রতিরোধ।

 

প্রিয় পাঠক, ট্রান্সজেন্ডারিজমের করাল গ্রাস বইটির ওয়েব ভার্সন উন্মোক্ত করে দেওয়া হয়েছে বইটি প্রকাশের মাত্র দুইদিনের মধ্যেই। একটি বই প্রকাশের পেছনে অসংখ্য মানুষের সময়, শ্রম ও মেধার সমন্বয় থাকে। থাকে বড় একটি ইনভেস্টমেন্ট। বইটির পিডিএফ বা ওয়েব ভার্সনে প্রকাশক আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হোন। তাই অনুরোধ, যদি সামর্থ্য থাকে তবে বইটির একটি কপি ক্রয় করবেন। অর্ডার করতে ক্লিক করুন

 

অধ্যায় ৮: ট্রান্সজেন্ডার সাংস্কৃতিক সংঘাত <<আগের অধ্যায়                                                    পরের অধ্যায়>> অধ্যায় ১০: বিদ্রোহ

Book: ট্রান্সজেন্ডারিজমের করাল গ্রাস Tags:

This entry was posted in . Bookmark the permalink.