ট্রান্সজেন্ডারিজমের করাল গ্রাস: অধ্যায় ৪

ট্রান্সজেন্ডারিজমের করাল গ্রাস: অধ্যায় ৪

সূচিপত্র

ভূমিকা
অধ্যায় ১: একটি সহজ প্রশ্ন
অধ্যায় ২: জেন্ডার থিওরির ইতিহাস
অধ্যায় ৩: জন মানি
অধ্যায় ৪: কীভাবে কারিকুলামে জেন্ডার থিওরি ঢুকে গেলো
অধ্যায় ৫: ট্রান্সজেন্ডাররা যেভাবে সব দখল করে নিলো
অধ্যায় ৬: ট্রানজিশনের প্রতিশ্রুতি
অধ্যায় ৭: তাসের ঘরের পতন
অধ্যায় ৮: ট্রান্সজেন্ডার সাংস্কৃতিক সংঘাত
অধ্যায় ৯: গোলাপি পুলিশ স্টেটের বুটের চাপায় ধ্বংস
অধ্যায় ১০: বিদ্রোহ
উপসংহার: আফ্রিকা
কিন্তু
রেফারেন্স

 

অধ্যায়: ৪

কীভাবে কারিকুলামে জেন্ডার থিওরি ঢুকে গেলো

বামপন্থী ধারণাগুলোর দুর্বল একাডেমিক থিওরি থেকে সমাজের মূলধারায় চলে আসার একটা অদ্ভুত স্বভাব আছে। মাঝেমধ্যে এটা এত দ্রুত ঘটে যে মনে হয় এটা হওয়ারই ছিল। কিন্তু এর পেছনে দায়ী আমেরিকার সাধারণ মানুষের উদাসীনতা। তারা নিজেদের সুখি, অভিযোজিত, সাধারণ জীবনে এতটাই মত্ত হয়ে ছিল যে তারা বুঝতেই পারেনি অন্ধকারে কী কারসাজি চলছে। অন্ধকার বলতে আমি আসলে বোঝাচ্ছি মানব ইতিহাসের সবচেয়ে জঘন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর একটিকে যেটাকে দেখা হয় ছিটকে পড়া ফেরেশতা হিসেবে, যা কিনা একসময় সুন্দর ও মহান কোনো উদ্দেশ্য নিয়ে কাজ করতো। এখন সেটা তরুণসমাজকে নষ্ট করা ও সভ্যতা ধ্বংসের জন্য সব ধরনের কাজে নিয়োজিত। তা হলো বিশ্ববিদ্যালয়।

উচ্চশিক্ষায় জেন্ডার থিওরির অনুপ্রবেশ

সমাজতন্ত্র থেকে ক্রিটিকাল রেইস থিওরি- আধুনিক সব জঘন্য ধারণার জন্মের পেছনে আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের শেকড় দেখি। কিছু মানুষ মনে করে যে এসব ধারণার উৎপত্তি হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। এ গর্বিত প্রতিষ্ঠানগুলো একটা সময়ে পরবর্তী প্রজন্মকে নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন প্রগাঢ় এবং বুদ্ধিমান নেতা হিসেবে তৈরি করত; এখন ক্ষয়িষ্ণু, বদমায়েশি, ভিক্টিম হওয়া এবং জীবনকে অর্থ দেওয়া এমন সব জিনিসের (পরিবার, ধর্ম, স্থান এমনকি আত্মনিয়ন্ত্রণের মত মৌলিক গুণের) প্রতি ঘৃণা ঢোকানো তাদের প্রধান কাজ হয়ে গেছে।

আমেরিকায় মানুষ প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয়েই জেন্ডার থিওরি নিয়ে কথা বলতে শুরু করে। মনে হতে পারে যে জেন্ডার থিওরি হয়তো সম্প্রতি আমাদের সংস্কৃতির সবদিক ভাসিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে এটার লক্ষণ দেখা যাচ্ছিলো অনেক আগ থেকেই। আমরা আগেই জেনেছি, ১৯৪০, ৫০ ও ৬০ এর দশকে আলফ্রেড কিনসি ও জন মানি তাদের ব্লুমিংটনের ইন্ডিয়ানা বিশ্ববিদ্যালয় ও জনস হপকিন্সের কাটানো সময় থেকে যৌনতাপূর্ণ ও লিঙ্গহীন বাচ্চার ধারণা জনপ্রিয় করতে থাকেন। পরবর্তীকালে অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়েও এসব ধারণা নিয়ে কথা বলা শুরু হয় এবং এটা জনপ্রিয়তা পেতে শুরু করে। বিখ্যাত একাডেমিক ও সাধারণ একাডেমিকরা একযোগে এটা নিয়ে কথা বলতে থাকেন।

তাদের মধ্যে অন্যতম একজন ছিলেন জুডিথ বাটলার, যিনি ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন করেন এবং তারপর ইউসি বার্কলেতে দার্শনিক হিসেবে কাজ করেন। তিনি ওহিওর ক্লিভল্যান্ডে ইহুদী বাবা-মায়ের ঘরে জন্ম নেন। তিনি (যিনি স্পষ্টতই নিজের সর্বনাম হিসেবে ‘she/they’ বলেন যা ব্যাকরণগতভাবে পুরো অর্থহীন) গত তিন দশক ধরে বুর্জিওনিং জেন্ডার থিওরির ফিল্ডে অসম্ভব জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব হয়ে উঠেছেন।

১৯৯০ সালে তিনি Gender Trouble: Feminism and the Subversion of Identity নামে একটি বই লিখেন। সেখানে তার যুক্তি ছিল জন মানির যুক্তিরই অনুসরণ। সেখানেও সে দাবি করেছে জেন্ডার আসলে লিঙ্গের চেয়ে ভিন্ন বিষয়, এর সাথে প্রকৃতির কোনো সম্পর্ক নেই। জেন্ডার হলো আসলে ‘কাজের ভিত্তিতে’। এটি এমন কিছু যা আপনি আপনার আচরণের মাধ্যমে শেখেন। তিনি মনে করতেন যে, লিঙ্গ কেবল জৈবিক বিষয় নয়। বরং লিঙ্গ হচ্ছে আপনি কেমন আচরণ করেন, পোশাক পরেন এবং কথা বলেন। তিনি জন মানির কাছ থেকে এই ধারণাটি পেয়েছিলেন। জন মানিও বলতেন, লিঙ্গ আপনার শারীরিক গঠন নয় বরং আপনাকে কীভাবে বড় করা হয়েছে তার ওপর নির্ভর করে। কিন্তু বাটলার এই ধারণাটিকে আরও এগিয়ে নিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, লিঙ্গ কেবল আপনি কীভাবে বড় হয়েছেন তা নয়; বরং কীভাবে আচরণ করেন ও কাজ করেন তা-ও।

বাটলার বলেন, ‘আমরা এমনভাবে আচরণ করি যেন নারী বা পুরুষ হওয়া একটি সহজাত বাস্তবতা। কিন্তু এটা এমন এক ঘটনা যা সর্বদা উৎপাদিত ও পুনরুৎপাদিত হয়। জেন্ডার কার্যকারিতামূলক দ্বারা বোঝায়, কেউই জন্ম থেকে কোনো লিঙ্গ দিয়ে জন্মায় না।’ অন্যভাবে তিনি বলেন, লিঙ্গ কার্যকারিতামূলক হলে এর অর্থ হচ্ছে, এটি অল্প বয়স থেকে ফিক্সড বা অপরিবর্তনীয় কোনো বিষয় না। বরং এটি এমন একটি প্রক্রিয়া যা ঘটে, যখন মানুষ তার চারপাশের দুনিয়ায় মেলামেশা করে এবং নিজস্ব পরিচয় তৈরি করে, সে পুরুষালি হোক বা মেয়েলি বিষয়। অতএব, বাটলার যুক্তি দিয়েছিলেন যে প্রাকৃতিকভাবে কোনো লিঙ্গপরিচয় নেই। বরং, আমাদের লিঙ্গপরিচয় গঠিত হয় কাজ ও আচরণ দ্বারা। কাজ ও আচরণের দ্বারাই আমরা লিঙ্গকে প্রকাশ করি।

যদি জেন্ডার কেবল কাজের উপরেই নির্ভর করে, তাহলে জেন্ডারের কোনো লক্ষণ ৩/৪ বছর বয়েসী বাচ্চাদের মধ্যে দেখা যাওয়ার কথা না। মানির কথা অনুসারে এটাই হওয়ার কথা। তাঁর মতে, জেন্ডার হলো সামাজিকভাবে মানুষের সাথে শিশুর সম্পর্কের ফল। তারাই তাকে ঠিক করে দেয় সে পুরুষ হবে না নারী হবে।

ফলে বাটলার মনে করতেন, জেন্ডার পরিচয় বলতে আসলে কিছু নেই। অথবা আমরা কোনো লিঙ্গ নিয়ে জন্মগ্রহণ করি না। এটা আমরা নিজেরাই তৈরি করি। তার মতে, ‘জেন্ডার নির্ভর আচরণের পেছনে কোনো জেন্ডার পরিচয় কাজ করে না’; পরিচয় আসলে প্রকাশিত হয় আচরণের মধ্য দিয়ে। এগুলো ছোটবেলা থেকে আমাদেরকে শিখিয়ে দেওয়া বিষয়ের ফলাফল।’

আমরা পুরুষালি ও মেয়েলি আচরণ বলতে যা বুঝি তা কেবলই সামাজিক আশা- যখন আপনি এ ধারণাকে যুক্ত করে দেবেন, তখন ট্রান্স মতাদর্শের মানুষদের কাছে মনে হওয়াই স্বাভাবিক যে, জেন্ডারের মতই সেক্সও জরুরি কোনো বিষয় না। জেন্ডার দ্বারা বোঝায় একটি নির্দিষ্ট পন্থায় আচরণ করা যা ব্যক্তির ইচ্ছার ওপর নির্ভর করে, সে হিসেবে জেন্ডার নিজেই খামখেয়ালি একটি জিনিস। বিশ্বের বর্তমান অবস্থায় প্রতিটি নারী এবং পুরুষ কেবল সমাজের দ্বারা সৃষ্ট পরিভাষা।

বাটলার এবং মানির মধ্যে মতপার্থক্য থাকলেও বাটলারের তত্ত্ব দেওয়া সম্ভব হতো না যদি না মানি ইতিমধ্যেই জেন্ডারকে জৈবিক লিঙ্গ থেকে পৃথক না করতেন। হাওয়াই বিশ্ববিদ্যালয়ের রিপ্রোডাকটিভ বায়োলজির অধ্যাপক ড. মিলটন ডায়ামন বলেছেন, ‘জুডিথ বাটলার এবং অন্যরা সবাই জন মানির সমর্থক ছিলেন। কারণ তারা যা শুনতে চেয়েছিলেন জন মানিও তা-ই বলছিলেন।’

এখন আমি বাটলারের কথাগুলো আরো বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করব যেন তিনি নিজেই বুঝিয়ে দিতে পারেন তিনি কি বলছেন। তিনি জেন্ডারের টপিকে যা যা বলেছেন মোটামুটি তার সবই আমার পড়া হয়ে গিয়েছে। বাটলার যা লিখেছেন তার ৯৯ শতাংশই বোঝা প্রায় অসম্ভব। আমি এখানে কিছু নমুনা দিচ্ছি যেন বুঝতে পারেন যে আমি ভুল বলছি না।

বাটলার লেখেন, ‘লিঙ্গের সাথে প্রকৃতির সম্পর্ক যে রকম, জেন্ডারের সাথে সংস্কৃতির সম্পর্ক সে রকম নয়। লিঙ্গ হল বিতর্কমূলক/সাংস্কৃতিক উপায় যার মাধ্যমে ‘যৌন প্রকৃতি’ বা ‘একটি প্রাকৃতিক লিঙ্গ’ উৎপাদিত হয় এবং সংস্কৃতির আগে ‘আলোচনা বহির্ভূত’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়, একটি রাজনৈতিকভাবে নিরপেক্ষ পৃষ্ঠ যার উপর সংস্কৃতি কাজ করে।

এ ছাড়া বাটলার ১৯৯৭ সালে লেখেন: ‘আমরা ভাষা ব্যবহার করে নানা কাজ করি, নানা প্রভাব তৈরি করি, ভাষার সাথেও নানা কাজ করি। কিন্তু ভাষা নিজেও আমাদের একটা কাজ। আমাদের কাজের নামই হচ্ছে ভাষা: আমরা ‘যা করি’ এবং যাকে আমরা প্রভাবিত করি, অর্থাৎ কাজ ও ফলাফল উভয়ই ভাষা।’

জীবনের একটি নিয়ম হচ্ছে, মানুষ কোনো কথা যত কম স্পষ্টভাবে বলতে চায়, এর অর্থ তারা ততটাই লুকোতে চাচ্ছে। আমার থিওরি হচ্ছে, বাটলারের কথাবার্তায় স্পষ্টতার অভাবের কারণে তার প্রতিপক্ষরা সহজে বুঝতে পারবে না তিনি আসলে কি বলতে চান। এটাই তার মূল উদ্দেশ্য। এর অর্থ হচ্ছে, শুধু একান্ত ভক্তরাই তার থিওরি পড়তে পারবে এবং ছড়িয়ে দিতে পারবে। ফলে সাধারণ জনগণের তীব্র প্রতিক্রিয়ার শিকার হতে হবে না। অন্যদিকে ‘উচ্চশিক্ষিত’ সমাজের মধ্যে তিনি তার আইডিয়া সহজেই ছড়িয়ে দিতে পারবেন।

যদিও আমি প্রথমবারের মতো বাটলারের থিওরি দেখছিলাম, কিন্তু সেগুলো পড়ে মনে হচ্ছিল আমি কথাগুলো আগেও শুনেছি। আমি যাদের সাক্ষাৎকার নিয়েছিলাম তাদের কাছে আমি ইতিমধ্যেই এই কথাগুলো শুনেছি। বিশেষ করে রোড আইল্যান্ডের প্রোভিডেন্সের পেডিয়াট্রিক্সের অধ্যাপক ড. ফোর্সিয়ারের কাছে।

এমনকি ড. ফোর্সিয়ারও নিজেও বাটলারের তত্ত্বেরই সারাংশ তুলে ধরেন। ‘জেন্ডার মানে হচ্ছে আপনি কে’ আর আপনার অসংখ্য পরিচয় থাকতে পারে,’ তিনি বলেন। ‘পরিবারে আপনার অবস্থান কি, অন্যদের সাথে আপনার অবস্থান কি, স্কুল বা কর্মক্ষেত্রে আপনার অবস্থান কি, ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক দৃষ্টিভঙ্গি আপনার কেমন? জেন্ডারের দিক দিয়ে আপনি কেমন? আপনি কতটা পুরুষালি বা মেয়েলি? আপনি কি কোনোটাই না? নাকি দুটোই? আপনি কার প্রতি আকর্ষিত? আপনি কাদের সাথে মিলিত হতে চান?’ পৃথিবীর সাথে আমাদের সম্পর্ক এবং এখানে আমরা কীভাবে চলি তার সাথে তিনি জেন্ডারকে সম্পৃক্ত করেছেন।

যেহেতু জেন্ডার নির্ভর করে অন্যের সাথে আপনার সম্পর্ক ও মিথষ্ক্রিয়ার ওপর, তাই ড. ফোর্সিয়ার ব্যাখ্যা করেছেন যে তিনি কীভাবে শিশুদের ও রোগীদের লিঙ্গপরিবর্তনের প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে নিয়ে যান। ‘যদি আপনার সন্তান তাদের চুল কেটে ছোট করে ফেলতে চায় বা পুরুষালি ধরনের পোশাক পরতে চায়, অথবা তারা যদি আপনাকে বলে তাকে ‘স্যাম’-এর মতো ছেলেদের নামে ডাকতে, তাহলে সেটা আপনার কাছে কেমন লাগবে?’ ড. ফোর্সিয়ার কথাগুলো এমনভাবে বললেন যেন তিনি সম্ভাব্য ট্রান্সজেন্ডার শিশুর পিতামাতার সাথে কথা বলছেন। তিনি বলতে থাকলেন, ‘আর শিশুটা হয়তো বলবে যে আমার এটা করতে পারলে খুব ভালো লাগবে। আমার কাছে পছন্দ হবে।’ হয়তো পিতামাতা বলবেন, ‘আচ্ছা, বিষয়টা চেষ্টা করে দেখি। আমরা এটা বাসায় করতে পারব। আমরা কি এটা স্কুলেও করব অথবা আত্মীয়স্বজনদের সাথে? কীভাবে এই ভ্রমণের বিভিন্ন অংশ আমরা শেয়ার করব তার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অনেক জায়গা আছে।’ একটি শিশু বাইরের দুনিয়ায় কীভাবে চলবে তার সাথে ড. ফোর্সিয়ারের ‘ভ্রমণ’ সরাসরি সম্পর্কিত। এ যেন জুডিথ বাটলারেরই প্রতিচ্ছবি!

থেরাপির দৃষ্টিতে জেন্ডার

আমার মনে হতে লাগলো যে আমার অনুসন্ধান আরও বিস্তৃত করা দরকার। আমি সব ধরনের ডাক্তারের সাথে কথা বলেছি। ভেবেছিলাম ‘নারী কি?’ এই প্রশ্নের উত্তর বিজ্ঞানে আছে। আমি ইতিহাসের পাতায় চোখ বুলিয়েছি এই ভেবে যে, আজ নারীত্ব নিয়ে এত বিভ্রান্তি কেন তা খুঁজে বের করতে পারলে আমি অবশেষে স্পষ্টতা খুঁজে পাব। আমি এখন পর্যন্ত অনেক কিছু শিখেছি, কিন্তু স্পষ্টতই আমি এখনও কারো কাছ থেকে একজন নারী ঠিক কী তার স্পষ্ট উত্তর পাইনি। বরং আমি কেবল আরো বিভ্রান্ত হয়েছি। কারণ বিভিন্ন লোক আমাকে বলেছিল যে একজন নারী হওয়া মূলত কিছুই না। এটা একটা পারফরম্যান্স মাত্র। একটা অভিনয়। এটা একটা অনুভূতি। বিষয়টা একেবারেই অযৌক্তিক ঠেকলো।

আমার মাথায় একটা বুদ্ধি খেললো। হয়ত এই পুরোটা সময় আমি ভুল লোকদের প্রশ্ন করে গেছি। বাটলার যদি সঠিক হন এবং জেন্ডার যদি সত্যিই কেবল বাহ্যিকতা ও রিলেশনাল হয়, তবে আমার একজন থেরাপিস্টের সাথে কথা বলা দরকার; এমন একজন যিনি সত্যিকারের সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ এবং পরিচয়ের দ্বন্দ্বে ভোগা মানুষকে যিনি সাহায্য করেন।

 এই কারণেই আমি গার্ট কমফ্রেকে খুঁজে বের করি। তিনি টেনেসির ন্যাশভিলের একজন বিবাহবিষয়ক ও পারিবারিক থেরাপিস্ট। তিনি হয়ত এই পাগলদের মধ্যে আমার দেখা সবচেয়ে ভালো মানুষ। কমফ্রে তার নিজের বাড়ির নিরিবিলিতে জেন্ডার অ্যাফারমেশন থেরাপি অফার করেন। বাড়িটির দেয়ালে দেয়ালে পরিবেশগত ন্যায়বিচারের পোস্টার এবং অস্পষ্ট অর্থযুক্ত প্রগতিশীল বাজওয়ার্ডে পূর্ণ ইতিবাচক উদ্ধৃতি টাঙানো। দেখেই মনে হবে এটা একজন সত্যিকারের বামপন্থী নারীর বাড়ি। উদ্ধৃতিগুলোর মধ্যে আমার পছন্দেরটা হলো: ‘ক্রান্তিকালীন শক্তির এই সময়ে আমাদের শিকড়ের গভীর থেকে আমরা চাই এই পৃথিবীতে ন্যায্য বণ্টন এবং নিরাময়। আমরা যৌনতা, অহংকার, আত্মশক্তি এবং আবেগের স্থির প্রবাহকে আমন্ত্রণ জানাই যাতে শক্তি সেথা অবাধে প্রবাহিত হতে পারে সমষ্টিগতভাবে যেখানে তার প্রয়োজন সবচেয়ে বেশি।’

আপনার হয়তো মনে হবে যে এর নিশ্চয়ই কোনো অর্থ আছে। কিন্তু কয়েক সেকেন্ড এটা নিয়ে ভাবলেই বুঝবেন যে এগুলো আসলে পাশাপাশি বসালো কিছু শব্দ মাত্র। আমাদের কথোপকথনের সময় গার্টের বলা প্রায় সমস্ত কিছুর ক্ষেত্রেও এটা সত্য।

কমফ্রে চমৎকার একটি হাসি দিয়ে আমাকে বলেন যে লিঙ্গ মূলত আত্মঅন্বেষণের একটি প্রক্রিয়া। ‘সুতরাং আমার কাছে, ধরুন, সত্য, বা ধরুন, বাস্তবতা, মনে করুন যে বেশ আপেক্ষিক। তাই, আমার সত্য আপনার সত্যের চেয়ে, বা অন্য কারোর সত্যের চেয়ে অনেক ভিন্ন হতে পারে,’ কমফ্রে বললেন। কিন্তু জেন্ডারের সাথে এর কি সম্পর্ক? তিনি বলতে লাগলেন, ‘আমার মনে হয় বিষয়টা এমন, ধরুন, সেই ব্যক্তিকে আমি বিশ্বাস করব, ঠিক আছে, যাতে সে আমাকে বলে সে নিজেকে কি ভাবতে পছন্দ করে।’

‘এটাই আপনার পরিচয়’, ‘আমি এভাবেই জন্মেছি’ বা ‘ঈশ্বর আমাকে এভাবেই তৈরি করেছেন’— এসব বলতে কিছু নেই। কমফ্রের মতে লিঙ্গের মূল স্ব-সংজ্ঞায়নে প্রোথিত।

কমফ্রের থেরাপির প্রক্রিয়া হলো লোকদের কথা শোনা এবং প্রশ্ন করার মাধ্যমে তাদের লিঙ্গপরিচয় সত্যিই যতটা ভেবেছিল ঠিক ততটাই স্থিতিশীল কিনা তা বুঝতে সাহায্য করা। হতে পারে মানুষ নিজেদের খুব সংকীর্ণভাবে সংজ্ঞায়িত করছে।

কমফ্রে বললেন, ‘মানুষের সাথে আমার কাজ করার সময় প্রায়শই একটি শোকাবহ প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হই। তারা বলে, হে ঈশ্বর, আমি যখন শিশু ছিলাম তখন আমাকে বিস্তৃত লিঙ্গের খেলনা দেওয়া হয়নি। হয়তো আমি এখন যেভাবে লিঙ্গকে জানি এবং অনুভব করি, সেটা হয়ত তখনই বুঝতাম।’ এটি বাটলারের ধারণাগুলোকেই স্বীকৃতি দেয়। অর্থাৎ, লিঙ্গ হলো পারফর্মেটিভ— এমন কিছু যা আপনি অনুভব করেন এবং আপনার পারিপার্শ্বিক পরিবেশ ও কর্মের সাথে সম্পর্কিত।

কমফ্রে আরও বললেন যে, যদি কোনো জৈবিক পুরুষ (অবশ্যই শব্দটি আমি ব্যবহার করছি) তার কাছে এসে বলে, ‘আমি একজন ট্রান্সনারী’, তখন কমফ্রে তাকে প্রশ্ন করতে শুরু করেন। ‘আচ্ছা, ঠিক আছে। আপনার কাছে এর অর্থ কী? আপনি যদি নিজেকে একজন মেয়ে বলে মনে করেন তবে তা দ্বারা আপনি কি বোঝাচ্ছেন? আপনি কীভাবে বিশ্বে নিজেকে কীভাবে উপস্থাপন করতে চান? এ কি আপনি যে জামাকাপড় পরতে চান তার সাথে সম্পর্কিত?’

আচ্ছা, বুঝলাম। অর্থাৎ, আজকাল লিঙ্গ সহজাত বা অর্জিত কিছু না। যদি ড. ফোর্সিয়ার এবং কমফ্রে সঠিক হন, তবে সম্পূর্ণ বিষয়টিই আমরা কীভাবে নিজেদেরকে উপস্থাপন করি এবং সময়ের সাথে সাথে লিঙ্গ সম্পর্কে আমাদের ধারণা কীভাবে বিকাশ লাভ করে তার উপর নির্ভরশীল। লিঙ্গ পারফর্মেটিভ; কর্ম-সম্পর্কিত, আচরণ-সম্পর্কিত।

কিন্তু বিশ্বজুড়ে আমরা যা শুনছিলাম তার সাথে এটি মিলছিল না। আমাদের বারংবার বলা হয় যে তথাকথিত ট্রান্সনারী (যারা জৈবিক পুরুষ হিসেবেও পরিচিত) হল ‘এক পুরুষের দেহে আটকা পড়া নারী’। আমাদের ট্রান্স লোকদের গ্রহণ করতে হবে এমনকি উদযাপনও করতে হবে। কারণ তারা অপারগ। তারা ‘এভাবেই জন্মেছে’।

ড. বাওয়ার্সকে আমি জিজ্ঞাসা করি যে একজন মেয়েলি ছেলে এবং একজন ট্রান্সজেন্ডার ছেলের মধ্যে সীমানা ঠিক কোথায় টানা হয়েছে। তিনিও ঘুরিয়ে পেঁচিয়ে একই কিচ্ছা শোনালেন। তিনি দ্রুতই তার প্রতিক্রিয়া জানাতে বললেন, ‘এটি আপনার ধারণার চেয়েও স্পষ্ট, অন্তত একটি শিশুর মনে।’ শুনে তো এটিকে উন্নয়নমূলক বা কার্য-সম্পর্কিত কিছুর মতো শোনাচ্ছে না। একে বরং সুনির্দিষ্ট কিছু বলে মনে হচ্ছে— যেমন শিশুটি নিজের সম্পর্কে এমন কিছু সত্য উপলব্ধি করছে যা বাস্তবেও বিদ্যমান, কেবল তার নিজের সংজ্ঞায় নয়। আমি ড. বাওয়ার্সকে তার নিজের রূপান্তর সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেছি, এবং তিনি নিশ্চিত করেছেন যে, ‘আমার প্রথম স্মৃতিগুলোর মতোই শৈশবে আমার একটি স্পষ্ট অনুভূতি ছিল।’

লিঙ্গ বা জেন্ডার কি তবে তরল, আজীবন ব্যাপী এক যাত্রা? নাকি মানুষ ভুল লিঙ্গ নিয়ে জন্মায়? একই সাথে উভয় ধারণায় বিশ্বাস করা কি সম্ভব? যাদের সাথে আমি কথা বলেছি তারা কেউই এই স্পষ্ট অসামঞ্জস্য লক্ষ্য করেনি।

আমি বুঝতে শুরু করেছি যে লিঙ্গতত্ত্ব আন্দোলন কোনো একচেটিয়া শক্তি নয়। এটি মার্কসবাদ বা বীজগণিতের মতো কিছু ধরাবাঁধা প্রক্রিয়া এবং উত্তর নিয়ে গঠিত কোনো বিশুদ্ধ সূত্র নয়। অথবা আপনি ওয়াশিং মেশিনে আপনার মোজাদ্বয় ফেলে দিলে অন্তত একটি হারিয়ে যাবে এমন গ্যারান্টিও এদের নেই। লিঙ্গতত্ত্বে সামঞ্জস্যতার গুরুত্ব নেই বললেই চলে। ফলে যৌন রীতিনীতি এবং পুরুষত্ব ও নারীত্বের প্রথাগত ধারণা ব্যাহত হয়। দিনশেষে কেউ কেন নিজেকে ট্রান্সজেন্ডার বলছে তা বিবেচ্য নয়। আপনি তাকে স্বীকৃতি দিচ্ছেন কিনা সেটা মূল বিষয়। আমি যাদের সাথে কথা বলেছি তাদের প্রায় প্রত্যেকেই আপেক্ষিকতাবাদী ছিলেন। কিন্তু আমি পরে জেনেছি যে তাদের আপেক্ষিকতাবাদ সেখানেই এসে থমকে দাঁড়ায় যেখানে তাদের স্ববিরোধিতা শুরু হয়।

গল্পে ফিরে যাই। আমি এখনও জানতে হবে যে লিঙ্গতত্ত্ব কীভাবে স্কুল সিস্টেমে প্রবেশ করলো। যেসব উচ্চশিক্ষিত ব্যক্তির সাথে আমি কথা বলেছি, সজ্ঞানে বা অজান্তেই তাদের মস্তিষ্কে বাটলারের অস্পষ্ট দার্শনিকতার অনুপ্রবেশ ঘটেছে। এ বিষয়ে আমি নিশ্চিত। কোনো না কোনোভাবে লিঙ্গতত্ত্ব সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছে, আর তা কীভাবে ঘটেছে খুঁজে বের তেমন কঠিন ছিল না।

১৯৯০ সাল থেকে আমেরিকার কলেজগুলো থেকে উইমেন’স এবং জেন্ডার স্টাডিজে ডিগ্রিধারী লোকের সংখ্যা বেড়েছে ৩০০ শতাংশেরও বেশি। শুধুমাত্র ২০১৫ সালেই ২০০০-এরও বেশি শিক্ষার্থী উইমেন’স স্টাডিজ বা জেন্ডার স্টাডিজ ডিগ্রি নিয়ে স্নাতক হয়েছে৷ জেন্ডার স্টাডিজ ডিগ্রিধারীরা আসলেই চাকরি পায়। বিষয়টা সাধারণ জনগণের বিশ্বাসের পুরো বিপরীত। অবশ্যই তারা কোনো কারখানা বা রিটেইলে বা টেলিকমিউনিকেশন্সে কাজ করে না। তারা ঠিক ব্যাংকার, আইনজীবী, বিমা অ্যাকচুয়ারি, কল সেন্টারে গ্রাহক পরিষেবা প্রতিনিধি বা খাদ খননকারী হওয়ার যোগ্য নয়। কিন্তু তারা ঠিকই হিউম্যান রিসোর্সেস বিভাগের প্রধান হয়ে ওঠেন। তারা পেশাদার কমিউনিটি অর্গানাইজার এবং অ্যাক্টিভিস্ট হয়ে ওঠেন। আমি নিশ্চিত যে কয়েকজন গার্ট কমফ্রের মতো থেরাপিস্টও হয়ে ওঠেন। আর অনেকই শিক্ষক হন। বাস্তবে, অনলাইন ক্যারিয়ার ফাইন্ডিং সার্ভিসে উইমেন’স ও জেন্ডার স্টাডিজ ডিগ্রিধারী স্নাতকদের জন্য সুপারিশকৃত এক নম্বর পেশা ছিল শিক্ষকতা।১০

তবে বিষয়টা এমন না যে পুরো আমেরিকা জুড়ে ক্লাসরুমে লিঙ্গতত্ত্ব হঠাৎ করেই উদয় হয়েছে। শিক্ষকরা হঠাৎ বসেই কিন্ডারগার্টেন পড়ুয়াদের জন্য লিঙ্গ অন্বেষণের নতুন পাঠ্যক্রমের খসড়া তৈরি করেননি। বা অনার্স বায়োলজিকে ‘ইন্ট্রোডাকশন টু জুডিথ বাটলার’ দ্বারা প্রতিস্থাপন করার সিদ্ধান্ত নিয়ে স্কুল বোর্ডে ভোট হয়নি। তবুও কোনো একভাবে লিঙ্গতত্ত্ব এখন সর্বত্র আমাদের বাচ্চাদের স্কুলে। এটি তত্ত্ব সেখানে কিভাবে ঢুকলো? এমনটা যৌনশিক্ষার নামে হয়েছে।

যৌনশিক্ষার বিস্তার

একটা সময় ছিল যখন সমাজ যৌনশিক্ষার জন্য স্কুলকে সঠিক জায়গা এবং ছোট বাচ্চাদের সঠিক বয়সের বলে মনে করতো না। বিশ্বাস হচ্ছে না, তাইতো? এই সময়ে এসে এমনটা বিশ্বাস করা আসলেই কঠিন। কিন্তু সমাজের এই ধারণায় পরিবর্তন আসা শুরু হয় বিংশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে। আর এর সাথে আলফ্রেড কিনসির অনেক দিক থেকেই যোগসূত্র আছে।

‘পুরো যৌনশিক্ষা আন্দোলনের পিছনে ছিল কিনসি মতাদর্শ,’ বললেন ড. গ্রসম্যান। তার অধিকাংশ গবেষণাই মূলত যৌনশিক্ষার উপর। আদর্শটি ছিল ‘শিশুরা যৌনপ্রাণী, আর তাই শিশুদেরকে যৌনতা, হস্তমৈথুন এবং অন্য সব যৌন কার্যকলাপ সম্পর্কে জানাতে হবে।’ এক ইতিহাসবিদ যেমনটি বলেছেন, ‘কিনসির গবেষণাটি যৌনঅভিব্যক্তির সম্পূর্ণ পরিসর সম্পর্কে উন্মুক্ত তদন্ত এবং নির্দেশনার দ্বার খুলে দেয়।’১১

কিনসি, মানি এবং সেই সময়ের অন্য যৌনগবেষকরা বিশ্বাস করতেন যে যৌনতাবিষয়ক কোনো কার্যকলাপই ফেলে দেওয়ার মতো না। নৈতিক বিধিবিধান তো রক্ষণশীল, সেকেলে। যৌনঅভিব্যক্তিতে সীমাবদ্ধতা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। ‘আমাদের যৌনআচরণ… অন্যান্য প্রাণীর মতোই। মানুষের কোনো যৌন কার্যকলাপই অস্বাভাবিক নয়,’ লিখেছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যৌনতা তথ্য ও শিক্ষা কাউন্সিলের (SIECUS) প্রেসিডেন্ট।১২ এটি অত্যন্ত প্রভাবশালী একটি সংস্থা, যারা স্কুলে যৌনশিক্ষার প্রচার করে।

কিনসি এবং মানির কাজের ফলেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাসরুমগুলোয় যৌনতাপূর্ণ সামগ্রীর অনুপ্রবেশ ঘটেছে। ড. জুডিথ রেইসম্যান, যিনি কিনসির শিশুদের যৌন নির্যাতনের বিষয়টি উন্মোচন করেছিলেন, তিনি লিখেছেন যে, ‘চিকিৎসা প্রশিক্ষণে পর্নোগ্রাফিক ফিল্মের প্রবর্তন, এবং ব্যক্তিগতভাবে ডাক্তারদের ও সামগ্রিকভাবে চিকিৎসা পেশার উপর এসব ফিল্মের অস্বাস্থ্যকর প্রভাব, সবই কিনসির কাজের ফল৷’১৩

হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলের প্রফেসর ড. ভার্নন মার্ক এই যোগসূত্রকে আরও এগিয়ে নিলেন। তিনি দেখান যে স্কুলে পর্নোগ্রাফিক সামগ্রীর অনুপ্রবেশের সাথেও কিনসি এবং মানি সংযুক্ত। ‘কিনসি মেডিকেল শিক্ষার্থীদের যৌন চলচ্চিত্র দেখানোর প্রেরণা জুগিয়েছিলেন এবং ১৯৬৭ সালে তারা ইনস্টিটিউট ফর সেক্স রিসার্চের আর্কাইভ থেকে পর্নোগ্রাফিক সামগ্রী সরাসরি দেখতে পায়। এর ঠিক পরপরই, প্রফেসর জন মানি ‘Pornography in the Home’ নামে একটি সচিত্র উপস্থাপনা সংকলন করেন, যা জনস হপকিন্স মেডিকেল স্কুলের শিক্ষার্থীদের নিকট খুব জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। জনস হপকিন্স যেহেতু আমেরিকার মেডিকেল কলেজগুলোর মধ্যে নেতৃত্বের ভূমিকায় থাকে, তাই এটা আশ্চর্যের কিছু নয় যে প্রায় ৯০ শতাংশ মেডিকেল স্কুল তাদের শিক্ষার্থীদের জন্য স্পষ্ট পর্নোগ্রাফিক ফিল্ম পাঠ্যক্রমের অংশ হিসেবে গ্রহণ করার ক্ষেত্রে জনস হপকিন্সের নেতৃত্ব অনুসরণ করেছিল।’১৪ বিষয়টা অনেকটা এমন যে মানি লিঙ্গপরিবর্তন সার্জারি স্বাভাবিক করা জন্য জনস হপকিন্সের মর্যাদা বৃদ্ধি করেছেন, তিনি পর্নোগ্রাফিকে শিক্ষায় ঢুকিয়ে দিতেও একই পদ্ধতি ব্যবহার করেছেন।

কিন্তু কিনসি এবং মানির তত্ত্ব তো কেবল কলেজ পড়ুয়াদের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা যায় না। মনে রাখবেন, কিনসি বিশ্বাস করতেন যে শিশুরা এমনকি নবজাতক শিশুও যৌনপ্রাণী এবং যৌনতা কোনো নৈতিক বিধিবিধান দ্বারা নয়, বরং ব্যক্তিগত স্বাধীনতা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হওয়া উচিত। শিশুরা নিরীহ প্রাণী নয় যাদের সুরক্ষা করতে হবে, বরং তারা উদীয়মান যৌনসত্তা যাদের যৌনপ্রকৃতি জাগ্রত করতে হবে।

SIECUS হল সেই সত্তা যে সবচেয়ে আক্রমনাত্মকভাবে কিন্ডারগার্টেন থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষাক্রমে যৌনশিক্ষা সম্পর্কে কিনসির ধারণাগুলোকে বাস্তবায়ন করেছিল। আর SIECUS-এর সৃষ্টিও বেশ রহস্যজনক। ড. গ্রসম্যান আমাকে বুঝিয়ে বললেন, ‘যৌনশিল্প প্রতিষ্ঠার নেতৃত্বে থাকা ব্যক্তিদের সাথে কিনসির বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ছিল। যেমন, হিউ হেফনার SIECUS নামে একটি সংস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য অনুদান দিয়েছিলেন।’

যত দ্রুত সম্ভব যৌনতা চর্চা করা, সবসময় যৌনতা চর্চা করা, সম্ভাব্য সব উপায়ে যৌনতা চর্চা করা— ছিল কিনসি এবং হেফনারের মন্ত্র। এবং এসব করার সর্বোত্তম উপায় হলো অল্পবয়সে শুরু করা। SIECUS ছিল এটা বাস্তবায়নের যন্ত্র।১৫

ড. গ্রসম্যান বললেন, ‘তারা বলে যে তারা এসব শেখাচ্ছে যাতে বাচ্চাদের মধ্যে তাদের শরীর সম্পর্কে একটি সুস্থ অনুভূতি সৃষ্টি হয় এবং তারা লজ্জিত না হয়। বাচ্চাদের জন্মগতভাবে একটি লজ্জার অনুভূতি থাকে। এজন্যই বাচ্চারা অপরিচিত ব্যক্তির সামনে নিজেকে ঢেকে রাখতে চায়। কিন্তু তারা মূলত বাচ্চাদের এই সহজাত লজ্জার অনুভূতি ভেঙে দিতে চায়। কারণ এমনটা করা হলে পরে আরও বেশি বেশি উপাদান বাচ্চাদের সামনে উপস্থাপন করা সহজ হবে।’

SIECUS এসব উপকরণ যৌনশিক্ষাদানের একটি মূল্যবোধনিরপেক্ষ, বৈজ্ঞানিক উপায় হিসেবে উপস্থাপন করে; যা ড. গ্রসম্যানের মতে হাস্যকর। ‘যৌনশিক্ষা মূল্যবোধে ভরপুর। আপনি এই দুটো বিষয় আলাদা করতে পারবেন না… আপনি যদি বলেন যে আপনার নিকট মূল্যবোধবিহীন যৌনশিক্ষার পাঠ্যক্রম আছে, তবে সেটার মূল্যবোধ হলো এটাই যে এর কোনো মূল্যবোধ নেই।’

কিন্তু SIECUS তথাকথিত শিক্ষাগত নির্দেশিকা তৈরির মাধ্যমে তাদের এই দুরভিসন্ধিকে অগ্রসর করে। যেমন স্কুলগুলো কীভাবে কিন্ডারগার্টেন থেকে দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের জন্য ‘বিস্তৃত যৌনতাশিক্ষা’ নিশ্চিত করতে পারে সেজন্য তারা উপদেশ প্রদান করে। লক্ষ্য করুন এটি কেবল ‘সেক্সুয়াল’ বা ‘যৌন’ শিক্ষা নয়; এটি ‘সেক্সুয়্যালিটি’ বা ‘যৌনতা’ শিক্ষা। ‘সেক্স’ শব্দটির অর্থ প্রজনন অঙ্গ এবং যৌনস্বাস্থ্য সম্পর্কিত জ্ঞানের মধ্যে সীমাবদ্ধ। অন্যদিকে ‘যৌনতা’ অনেক অনেক বিস্তৃত।

এই নির্দেশিকাগুলোয় গর্ভনিরোধ, গর্ভপাত, যৌন ফ্যান্টাসি এবং হস্তমৈথুনের মতো বিষয়ের উপর আলাদা আলাদা বিভাগ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এসবই করা হচ্ছে শিক্ষার্থীদের মধ্যে যৌনতা সম্পর্কে এক আমূল খোলামেলা এবং অশ্লীল বুঝ বিকাশে সহায়তা করার প্রয়াসে। ছোট বাচ্চাদের জন্য এসব গ্রহণযোগ্য বলে বিবেচনার করার একমাত্র কারণ হল প্রাক-বয়ঃসন্ধিকালীন যৌনউত্তেজনা নিয়ে কিনসির ‘গবেষণা’ এবং তার প্রস্তাবনা যে মানুষ জন্ম থেকেই যৌনপ্রাণী।

 নির্দেশিকাগুলো শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করে যে ‘অন্য ব্যক্তির সাথে যৌন সম্পর্কে লিপ্ত হওয়ার অর্থ এই নয় যে হস্তমৈথুন করা থামাতে হবে বা থামানো উচিত’। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের এও জানিয়ে দেয় যে ‘তরুণরা ফার্মেসি, মুদি দোকান, বাজার বা কনভিনিয়েন্স স্টোর থেকে ননপ্রেসক্রিপশন গর্ভনিরোধক কিনতে পারে,’ এবং ‘বেশিরভাগ প্রদেশেই তরুণরা তাদের পিতামাতার অনুমতি ছাড়াই গর্ভনিরোধের জন্য প্রেসক্রিপশন পেতে পারে।’১৬

নির্দেশিকাগুলোর প্রায় সব বিবৃতিই বাস্তবসম্মত। কিন্তু এটা স্পষ্ট যে তারা একটি নির্দিষ্ট দৃষ্টিকোণ থেকে এগুলো উপস্থাপন করছে। হ্যাঁ, এটা সত্য যে ননপ্রেসক্রিপশন গর্ভনিরোধক মুদি দোকানে কিনতে পাওয়া যায় এবং পিতামাতার অনুমতি ছাড়াই গর্ভনিরোধের জন্য প্রেসক্রিপশনও পাওয়া যায়৷ কিন্তু কেন একটি আট বা চৌদ্দ বছর বয়সী বাচ্চার এটা জানতে হবে? সুস্পষ্টভাবেই ইঙ্গিত করা হচ্ছে যে একটি চৌদ্দ বছর বয়সী বাচ্চা যৌনসম্পর্কে লিপ্ত হলে তাতে দোষের কিছু নেই এবং যৌনসম্পর্ক নিয়ন্ত্রণ করার ও একে ‘নিরাপদ’ করার উপায় রয়েছে।

তাদের যুক্তি হলো ছোট বাচ্চাদের এসব জানা দরকার কারণ তারা স্বাভাবিকভাবেই যৌনসত্তা এবং তাদের অবদমন করলে তাদের ক্ষতি হতে পারে। ড. গ্রসম্যান বললেন, ‘অন্য কথায়, যদি আমরা রুখে দাঁড়াই এবং বলি যে, না, ওরা নিষ্পাপ শিশু, বড় না হওয়া পর্যন্ত তাদের এসব জানার দরকার নেই; তবে আমরা তাদের ক্ষতি করব।’

SIECUS তাদের নির্দেশিকাগুলোয় ‘গর্ভপাতের নীতি-নৈতিকতা নিয়ে লোকদের বিভিন্ন বিশ্বাস রয়েছে’ বা ‘কিছু ধর্ম শেখায় যে যৌনমিলন শুধুমাত্র বিবাহের মাধ্যমেই হওয়া উচিত’ এমন বিবৃতি যোগ করে নিজেদেরকে নিরপেক্ষ হিসেবে চিত্রিত করার চেষ্টা করে। কিন্তু কথিতভাবে ‘নিরাপদ’ যৌনতায় লিপ্ত থাকা সত্ত্বেও মানুষ যে নিজেদের গভীর আধ্যাত্মিক, নৈতিক, শারীরিক এবং মানসিক ক্ষতি করতে পারে তা নিয়ে আলোচনা করেনি বললেই চলে। (কিছু ধর্ম শুধুমাত্র বিবাহের মাধ্যমে যৌনমিলনের অনুমতি দেয়— এমন বক্তব্যের পরপরই SIECUS যোগ করেছে, ‘মিলন ছাড়াই যৌনসুখ দেওয়ার এবং গ্রহণ করার অনেক উপায় আছে’। শুদ্ধতা একবারে সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করা সম্ভব নয় তাই আস্তে আস্তে ভাঙার এক সুস্পষ্ট প্রচেষ্টা।)১৭

ড. গ্রসম্যান বারো বছর UCLA-র স্টুডেন্ট কাউন্সেলিং পরিষেবায় যুক্ত ছিলেন। তার মতে, যৌনশিক্ষার সাথে আসলেই স্বাস্থ্যের কোনো সম্পর্ক নেই। এটি একটি পূর্ণাঙ্গ প্রো-সেক্স এজেন্ডার অংশ। এবং তিনি যে শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা করেছেন তাদের মধ্যে এর ক্ষতি দেখেছিলেন। ’এটি ডাক্তারের কাছে যাওয়া থেকে বাঁচার বিষয় না, অন্যথায় কেন এই সমস্ত বাচ্চা তাদের এসটিডি এবং তাদের গর্ভপাত দিয়ে UCLA-তে আমার অফিসে ভিড় করবে? কারণ তাদের যৌনশিক্ষা ছিল যৌন স্বাধীনতার বিষয়ে,’ ড. গ্রসম্যান বললেন। ‘এই সংক্রমণ, যন্ত্রণা, বিষণ্নতা, উদ্বেগ, রাগ— সবকিছুই শতভাগ এড়ানো যেত’ যদি ছাত্রদেরকে যৌবন থেকেই যখন যেভাবে যেকোনো উপায়ে যৌনমিলনের জন্য চাপ দেওয়ার পরিবর্তে সঠিকভাবে যৌনতা সম্পর্কে শেখানো হত।

কিনসি-নির্ভর SIECUS নির্দেশিকাগুলো যৌনশিক্ষার একমাত্র উপাদান হলেও সেগুলো যথেষ্ট ক্ষতির কারণ হবে। কিন্তু ড. গ্রসম্যান যখন শিশুদের মধ্যে লজ্জা কমানোর কথা বলেছিলেন যাতে তাদেরকে আরও বেশি উপকরণের সাথে পরিচয় করিয়ে দেওয়া যায়, তখন তিনি শিশুদের আরও বেশি একাডেমিক নির্দেশিকা দেখানোর বা তাদের সামনে আরও যৌন-ইতিবাচক বিবৃতিগুলো সত্য হিসেবে উপস্থাপন করার কথা উল্লেখ করেননি। সত্যটা আরও অনেক বেশি ভয়ঙ্কর।

ডক্টর গ্রসম্যান তাঁর লাইব্রেরির শেলফের কাছে গিয়ে বাচ্চাদের একটি চকচকা রঙের বই ধরে আমাকে বলেন- ‘ম্যাট, আমাদের কাছে এই বইটি চলে এসেছে’। বইয়ের শিরোনাম It’s Perfectly Normal: Changing Bodies, Growing Up, Sex and Health। বইয়ের কভারের উপরে শিশুর প্রতি বন্ধুসুলভ লোকজনের ছবি আছে, সেখানে আরো লেখা ছিল- ‘Over one million copies in print’ এবং ‘For ages ten and up’। আমাজনের ছবিগুলো বইয়ের ভেতরের অনেক কিছুই দেখায় না। এর একটা কারণ আছে। ডা. গ্রসম্যান বললেন- ‘আমি আপনাকে কেবল একটি পৃষ্ঠা দেখাবো’।

আমি যা দেখছিলাম তা বুঝে উঠতে আমার এক সেকেন্ড লেগেছিল। প্রথম পৃষ্ঠায় পুরুষ, মহিলা এবং শিশুদের কয়েকটা পূর্ণ-সম্মুখ, নগ্ন চিত্র দেখানো হয়েছে। ড. গ্রসম্যান আমাকে অন্য পৃষ্ঠায় নিয়ে যান। এখানে ছিল একজন পুরুষ এবং একজন মহিলার যৌনমিলনের একটি পার্শ্ব দৃশ্য। আরেক পৃষ্ঠায় পেছন থেকে একজন নগ্ন মহিলাকে দেখানো হয়েছে, সে বাঁকানো এবং আয়নাতে সে তার যোনি দেখছিল। একটি অনুচ্ছেদ বইয়ের তরুণ পাঠকদের জন্য যৌনতাকে হাস্যরসাত্মক এবং কৌতুকপূর্ণ পরিভাষায় রাখার চেষ্টা করা হয়েছে: ‘যৌনমিলন ঘটে যখন দুজন ব্যক্তি- একজন মহিলা এবং একজন পুরুষ অথবা দুজন মহিলা বা দুজন পুরুষ-খুব যৌনউত্তেজনা বোধ করে এবং একে অপরের প্রতি খুব আকৃষ্ট হয়। যখন একজন মহিলা এবং একজন পুরুষ এত কাছাকাছি থাকে যে পুরুষের লিঙ্গটি মহিলাদের যোনির ভিতরে চলে যায়, তখন মহিলার যোনি এমনভাবে প্রসারিত হয়ে যায় যে, পুরুষলিঙ্গ সেখানে ভালোভাবে জায়গা পেয়ে যায়।’১৮

আমি আমার সামনে থাকা পর্নোগ্রাফিক বইটা থেকে চোখ তুললে ডক্টর গ্রসম্যান বললেন- ‘এরা আমাদের বাচ্চাদের সাথে যা করছে তা আসলে ভাষায় বলার মতো না। যদি এই বই একজন শিক্ষক তার চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের দেখান- চতুর্থ, পঞ্চম শ্রেণির বাচ্চারা মনে হয় দশ বছর বয়সী হবে- তাহলে এটি শিক্ষার্থীদেরকে যেসব বার্তা দিবে: প্রথমে সে মনে করবে এই কাজগুলো ঠিক আছে। এগুলো আমি স্কুলে শিখি, বাড়িতে নয়। আমি আমার শরীর, যৌনতা, লিঙ্গ ইত্যাদি সমস্ত কিছু সম্পর্কে স্কুলেই শিখি।’

(পারিবারিক পরিবেশ থেকে যৌনশিক্ষা বাদ দেওয়া কিনসির মুক্ত-যৌন-তত্ত্বের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। অভিভাবক যত কম জানেন, তত ভাল। যেমন কিনসি প্রায়শই নাকি বলতেন যে, ‘মেয়ের যৌনকাজ স্বাভাবিক নাকি ধর্ষণ, সেটা নির্ভর করতে পারে যে মেয়েটি বাসায় ফেরা পর্যন্ত মেয়েটির বাবা-মা জেগে ছিল কিনা সেটার উপর। যদি জেগে থাকে তাহলে সেটা ধর্ষণ অথবা অস্বাভাবিক যৌনতা আর যদি জেগে না থেকে নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে পড়ে তাহলে সেটা স্বাভাবিক যৌনতা।’)১৯

আমাদের বাচ্চাদের পর্নোগ্রাফি দেখানো এটাই একমাত্র স্কুল ছিল না। সম্প্রতি ম্যানহাটনের একটি প্রাইভেট স্কুলে- ডাল্টন স্কুলে- শিক্ষকরা ছয় বছরের বাচ্চাদের পর্নোগ্রাফিক ভিডিও দেখিয়েছেন। হ্যাঁ, ছয় বছর বয়সের বাচ্চাদেরকে। সেই ভিডিওটা ছিল যৌনাঙ্গ এবং কীভাবে একা একাই যৌনকাজ করতে হয় সেটা নিয়ে। তখন একটা অল্পবয়স্ক ছেলে তার শিক্ষককে জিজ্ঞাসা করেছে কেন সে মাঝে মাঝে নিজেকে উত্তেজিত মনে করে।২০ ক্যালিফোর্নিয়ায় দশ-এগারো বছর বয়সী মেয়েদের শেখানো হয়েছে কীভাবে একজন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষের লিঙ্গে কনডম লাগাতে হয়, সেখানে তাদের সাথে ক্লাসের ছেলেরাও ছিল। তাদেরকে ‘সঙ্গীর’ সাথে মৌখিক এবং পায়ু-যৌনতায় লিপ্ত হওয়ার পদ্ধতিও শেখানো হয়েছিল।২১ কয়েক বছর আগে ভার্জিনিয়ায়, অভিভাবকরা অবাক হয়েছিলেন যে তাদের স্কুলের শ্রেণীকক্ষ এবং লাইব্রেরিগুলি যৌনউত্তেজক বইয়ে পূর্ণ ছিল যাতে হস্তমৈথুন, ওরাল সেক্স, যৌনমিলন, অজাচার, ধর্ষণ এবং কম বয়সী মদ্যপানের চিত্র অন্তর্ভুক্ত ছিল।২২

যৌনস্বাস্থ্য নির্দেশিকা- আমেরিকান স্কুলগুলোতে এই ধরনের নোংরা কাজগুলোর সরবরাহের একটি বাহন হিসেবে কাজ করেছে, এমনকি পিতামাতারাও জানেন না যে তাদের বাচ্চাদের স্কুলে কী ঘটছে। উদাহরণস্বরূপ, SIECUS (The Sexual Information and Education Council of the United States) তাদের এক লাখেরও বেশি নির্দেশিকা কপি বিতরণ করেছে এবং এটার ওয়েবসাইট থেকে প্রতি মাসে ১,০০০ কপি ডাউনলোড করা হয়।২৩

এগুলো সাম্প্রতিক কোনো ঘটনা নয়। ১৯৬৮ সাল পর্যন্ত নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটি তাদের শিক্ষকদের জন্য স্নাতক-স্তরের যৌনশিক্ষা প্রশিক্ষণ প্রোগ্রাম চালু করার জন্য ফেডারেল অনুদান পেয়েছিল।২৪ ১৯৯৪ সাল নাগাদ SIECUS-এর আশিটি অলাভজনক সদস্য সংস্থা ছিল, যাদের সকলেই স্কুলে ব্যাপকভাবে যৌনশিক্ষাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্যে কাজ করেছে- এদের মধ্যে YWCA, American Medical Association এবং American Library Association ও রয়েছে।২৫ এর মাত্র দুই বছর পরে, সাতচল্লিশটি রাজ্য তাদের স্কুলে যৌনশিক্ষা প্রোগ্রামের প্রয়োজন দেখিয়ে সেটা চালু করার জন্য সুপারিশ করেছিল, এবং প্রতিটি রাজ্যে এইচআইভি এবং এইডস সম্পর্কিত প্রোগ্রামেরও আবেদন করেছিল।২৬

পিতামাতা এবং কয়েকজন শিক্ষাবিদ যৌনশিক্ষার জোরপূর্বক আরোপকে প্রতিরোধ করার চেষ্টা করেছিলেন। এবং শুরুর দিকে, কিছু কিছু জায়গায় যৌনশিক্ষার গণপ্রত্যাখ্যান ছিল- বিশেষ করে খ্রিস্টান গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে। পরবর্তীকালে তাদের প্রতিরোধের ধরন ছিল কেবল বর্জন করা এবং বিরত থাকা। এখন সবচেয়ে সৎ এবং ধার্মিক পিতামাতারা তাদের সন্তানদেরকে সবচেয়ে স্পষ্ট যৌনউপকরণগুলো থেকে বাঁচিয়ে রাখতে পারলেই খুশি হন।

আজ, যৌনশিক্ষা এতই সর্বব্যাপী হয়ে গেছে যে অনেকে মনে করে এটি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক। এমনকি ছোট ছোট বাচ্চাদেরকে আরও অভিনব এবং অশ্লীল ধরনের যৌনকাজ এবং অভিব্যক্তি শেখানো প্রশংসনীয় হয়ে উঠেছে। ড. গ্রসম্যান বলেছেন, কেবলমাত্র একটি বিশেষ বিশ্বাস, মূল্যবোধ এবং নৈতিকতার ধারণা ধারণকারী ব্যক্তিরাই (জুডিও-খ্রিশ্চান) এই এটাকে এখন না করতে পারে। তারা বলতে পারে যে, ‘না, যৌনতা বাচ্চাদের জন্য নয়। শিশুদেরকে এই ধরনের উপাদান থেকে রক্ষা করা দরকার, তাদের নির্দোষতা, সরলতা এবং নিষ্কলুষতা মূল্যবান এবং তাদের সেই নির্দোষতা, সরলতা এবং নিষ্কলুষতা কেড়ে নেওয়া একটি অপরাধ।’

 

যৌনশিক্ষা কীভাবে লিঙ্গশিক্ষা হয়ে গেলো

স্কুল-ব্যবস্থায় ব্যাপক যৌনতা (খেয়াল রাখবেন, ‘যৌন’ নয়) শিক্ষা দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর এটি লিঙ্গ-আদর্শের জন্য একটি নিখুঁত বাহন হয়ে উঠেছে। সমাজের একটি আদর্শ এবং গৃহীত অংশ হয়ে উঠতে বামপন্থী সামাজিক সংস্কারের লিঙ্গমতাদর্শের প্রয়োজন ছিল। তারপরে, লিঙ্গমতাদর্শ শিক্ষাব্যবস্থায় সেইভাবে প্রবেশ করেছিল, যেভাবে উগ্র যৌনউন্মুক্ততা প্রবেশ করেছিল; প্রথমে বৈজ্ঞানিক আলোচনা থেকে একাডেমিয়াতে, এবং অবশেষে গণশিক্ষাতে এটাকে বাধ্যতামূলক করা হয়। পার্থক্য হলো এই যে গণশিক্ষা ব্যবস্থায় এর অন্তর্ভুক্তি অনেক দ্রুততার সাথে ঘটেছে।

মানি এবং বাটলারের মতো লোকেরা লিঙ্গতত্ত্ব দেওয়ার পরে এই মতাদর্শের মৌলিক নীতিগুলি র‍্যাডিক্যাল তত্ত্ব থেকে বৈজ্ঞানিক ‘তথ্য’-এ চলে যায়। বড় পরিবর্তনটি ঘটেছে ২০১২ সালে।

‘তাহলে gender identity disorder কী? এটা কি একটা মানসিক সমস্যা?’ আমি ড. গ্রসম্যানকে জিজ্ঞেস করলাম।

তিনি উত্তর দেন- ‘২০১২ সাল থেকে মনে হয় সেই শব্দটি আর ব্যবহার করা হয় না আমাদের, কিন্তু ২০১২ সালের আগে আমরা একটি রোগ বুঝাতে এই শব্দটি ব্যবহার করেছিলাম, যে রোগটি ছিল খুব বিরল।’

‘তাহলে সেই টার্মটির এখন আর প্রচলন নেই? আমরা ‘জেন্ডার আইডেন্টিটি ডিসঅর্ডার’ নিয়ে কথা বলি না।’

তিনি বললেন- ‘আচ্ছা, এটার ব্যবহার নির্ভর করে। এখন সেই নির্ণয়করণ বাদ দিয়ে দেওয়া হয়েছে, নতুন নির্ণয় পদ্ধতিটি হচ্ছে জেন্ডার ডিস্ফোরিয়া।’

দুইটার পার্থক্য কি? ডক্টর গ্রসম্যান ব্যাখ্যা করেছেন, ‘লিঙ্গপরিচয় ব্যাধি এবং লিঙ্গ ডিসফোরিয়ার মধ্যে প্রধান পার্থক্য হল যে সেই প্যাথলজিটি এখন আর নেই যে, শিশুরা প্রশ্ন করে যে তারা [sic] কে। বরং, এটা এখন কোনো শিশুর অস্বাভাবিক লিঙ্গ-অনুভূতির অবস্থাকে বুঝাতে ব্যবহার হয় যা সমাজ, পিতামাতা, স্কুল গ্রহণ করে না।’ জেন্ডার আইডেন্টিটি ডিসঅর্ডারের ব্যক্তির নিজের সমস্যার কারণে, আর জেন্ডার ডিসফোরিয়া হয় সমাজ এবং ব্যক্তির আশপাশের মানুষদের কারণে।

আমি ভেবেছিলাম, পরিবর্তনটি কিছু নতুন গবেষণাতে এবং তাত্ত্বিক বা এরকম কোনো কিছুর উপর ভিত্তি করে হয়েছে। কিন্তু না, পরিবর্তনটা ছিল রাজনৈতিক। পরিবর্তনটি করা হয়েছিল Diagnostic and Statistical Manual of Emotional Illness বা ডিএসএম-এ, যেটা মনোবিজ্ঞানীদের রোগীদের পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য এক ধরনের বাইবেলের মতো।

২০১২ সালে যা ঘটেছিল তা হলো এই যে, DSM-কে DSM-5-এ আপডেট করা হয়েছিল- এবং এর ‘লিঙ্গপরিচয় ব্যাধি’ বাদ দিয়ে সেখানে ‘জেন্ডার ডিসফোরিয়া’ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। একজন প্রত্যয়িত মনোরোগ বিশেষজ্ঞ হওয়ার কারণে ড. গ্রসম্যান আমাকে ভিতরের খবর দিতে পেরেছিলেন। তিনি আমাকে বলেছিলেন যে আমেরিকান সাইকিয়াট্রিক অ্যাসোসিয়েশন বা আমেরিকান একাডেমি অব চাইল্ড অ্যাডোলেসেন্ট সাইকিয়াট্রির মতো সংস্থাগুলো যখন একত্রিত হয়, তখন তারা সূক্ষ্ম সূক্ষ্ম সমস্যাগুলো- যেমন, লিঙ্গ-বিভ্রান্ত ব্যক্তিদের সংজ্ঞায়ন- সমাধান করার জন্য প্রায় আট থেকে বারো জনের ছোট কমিটি বা টাস্ক ফোর্স গঠন করে।

‘আমার মনে হয়, এই দেশে ৩৮,০০০জন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ আছেন, এরাই দিনশেষে টাস্ক ফোর্সে যায়। এরা সাধারণত অ্যাক্টিভিস্ট হয়ে থাকেন, বিশেষ করে যখন যৌন এবং লিঙ্গসমস্যার মতো বিষয়গুলো আসে…’ ড. গ্রসম্যান বলেন।

লিঙ্গমতাদর্শীদের এই ছোট দলটিই সংজ্ঞা ঠিক করে দেয়। এবং এদের দেওয়া সংজ্ঞাকেই চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান, পেশাদার প্রতিষ্ঠান এবং অন্যান্য মনোরোগ বিশেষজ্ঞ চূড়ান্ত সংজ্ঞা হিসেবে গ্রহণ করে নেন। তারা একটি অনুমোদিত এবং প্রভাবশালী প্রকাশনার গ্রহণযোগ্যতা ব্যবহার করে যে কোনো ভিন্নমতকে দমন করে এবং ভিন্নমতাবলম্বীদেরকে বিজ্ঞানবিরোধী বলে আখ্যায়িত করেন। ডা. গ্রসম্যান বলেন- ‘আমি একজন প্র্যাকটিসিং সাইকিয়াট্রিস্ট; একজন বোর্ড-প্রত্যয়িত শিশু-কিশোর মনোরোগ বিশেষজ্ঞ, আমার অনেক সাইকিয়াট্রিস্ট বন্ধু আছে, কেউই আমাদের এই ব্যাপারে কিছু জিজ্ঞেস করেনি।’

লিঙ্গ-বিভ্রান্তিকে একটি অভ্যন্তরীণ রোগ এবং পরিচয় থেকে পুনঃসংজ্ঞায়ন লিঙ্গ-তারল্যকে মানব যৌনতার আরেকটি অংশ হিসেবে আরো উগ্রভাবে শিক্ষা দেওয়ার পথ খুলে দিয়েছিল। সমকামীরা লাইব্রেরি এবং স্কুলে সমকামী সামগ্রী পাওয়ার জন্য সক্রিয়ভাবে কয়েক দশক অতিবাহিত করেছে।২৭ এখন আর অপেক্ষা নয়, ট্রান্সজেন্ডার আন্দোলনকে খুব দ্রুততার সাথে দাঁড় করিয়ে ফেলা হয়েছে।

SIECUS-এর অতি সাম্প্রতিক নির্দেশিকাগুলো জোরালোভাবে বলে যে যৌনভাবে সুস্থ প্রাপ্তবয়স্কদের জীবনাচরণের মধ্যে একটি হলো ‘নিজের লিঙ্গপরিচয় নিশ্চিত করা এবং অন্যদের লিঙ্গপরিচয়কে সম্মান করা।’ অন্য দিকগুলোও বলে যে ‘মানুষের তাদের লিঙ্গপরিচয়ের ব্যাপারে বোঝাপড়া জীবনে বারবার পরিবর্তিত হতে পারে’ এবং ‘লিঙ্গ-ভূমিকার ব্যাপারে গতানুগতিক ধারণা পুরুষ এবং মহিলা উভয়ের জন্যই ক্ষতিকর হতে।’২৮

ড. গ্রসম্যান সংক্ষিপ্ত করে আরও একটি কথা বলেছেন: ‘বাচ্চাদের শেখানো হচ্ছে যে লিঙ্গ হচ্ছে মনের ব্যাপার, তুমি নিজের সম্পর্কে যা মনে করো তুমি তা-ই। আর যৌনতা হচ্ছে দুই পায়ের মধ্যে। এই দুটি বিষয় সম্পূর্ণ আলাদা জিনিস।’

এগুলোর প্রোপাগান্ডা এখন প্রায় সর্বব্যাপী। ভার্জিনিয়ার একটি কিন্ডারগার্টেনের বইয়ে- My Princess Boy শিরোনামে- পাঁচ বছরের বাচ্চাদের লিঙ্গপরিবর্তন সম্পর্কে শেখানো হচ্ছে। আমেরিকান প্রিন্সিপলস প্রজেক্টের অ্যানা অ্যান্ডারসন বিস্তারিতভাবে বলেছেন: ‘আরো বই আছে: ‘Prince and Knight’ (দ্বিতীয় শ্রেণী), ‘Beyond Magenta: Transgender Teens Speak Out, ‘Some Girls Bind,’ Weird Girl and What’s His Name’ (একটি যুবক ছেলে আর তার বসের মধ্যে নিয়মতান্ত্রিক ধর্ষণ এবং একটি মেয়ে ও তার শিক্ষকের মধ্যে অবৈধ সম্পর্ককে ইতিবাচকভাবে দেখানো হয়), এবং ‘Being Jazz: My Life as a Transgender Teen.’২৯

টিভি হোস্ট মেগিন কেলি তার ছেলের স্কুলের কথা বলেছেন। স্কুল কর্তৃপক্ষ তৃতীয় শ্রেণীর ছেলেদের জন্য তিন সপ্তাহের পরীক্ষামূলক ট্রান্সজেন্ডার প্রোগ্রামের আয়োজন করেছিল, যেখানে তাদের বলা হয়েছিল যে তারা ‘বয়ঃসন্ধি প্রতিরোধের জন্য বড়ি খেতে পারে’ এবং তারপরে তাদের ‘যৌনাঙ্গ কেটে’৩০ ফেলতে পারে। অনুষ্ঠান শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিভাবকরা এই প্রোগ্রাম সম্পর্কে কিছুই জানতেন না।

জেন্ডার ইউনিকর্ন ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য রাষ্ট্রীয় রাজস্বও ব্যবহার করা হচ্ছে। এটা শুরু হয়েছে ২০১৬ সালে, নর্থ ক্যারোলিনার শার্লোটের একটি স্কুলে, এবং শিক্ষকদেরকে একটি ‘লিঙ্গ-অন্তর্ভুক্ত শ্রেণীকক্ষ’ তৈরি করতে সহায়তা করার জন্য এই প্রোগ্রাম ডিজাইন করা হয়েছে।৩১ শিশুবান্ধব কার্টুনের মতো করে স্টাইল করা, তার মাথায় রংধনুর চিন্তা ঘোরে, এবং তার পায়ের মধ্যে একটি ডিএনএ স্ট্র্যান্ড (যেন বোঝাচ্ছে যে একটি ইউনিকর্নের জিনগতভাবে একমাত্র নির্ধারিত বিষয় হলো এর পায়ের মধ্যবর্তী শারীরিক এই অঙ্গ।)। লিঙ্গ ইউনিকর্নটি কিন্ডারগার্টেন না শুধু, প্রিস্কুলের বাচ্চাদের জন্যেও ডিজাইন করা হয়েছে। অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে এই প্রোগ্রামের আয়োজক অসুস্থ ব্যক্তিরা সত্যিই বিশ্বাস করে যে শিশুদের যৌন কাজে ব্যবহার করার জন্য বয়সের কমবেশি নেই। এটার আরো অর্থ হচ্ছে স্লাইডিং স্কেল দেখানোর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদেরকে তাদের লিঙ্গপরিচয় বুঝতে, লিঙ্গ অভিব্যক্তি, জন্মের সময় তাদের নির্ধারিত লিঙ্গ, তারা কার প্রতি শারীরিক ও মানসিকভাবে আকর্ষণ বোধ করে এবং আরও কিছু বিষয় দেখিয়ে তাদের যৌনতা বুঝতে সাহায্য করা। প্রিস্কুলরা সাধারণত পড়তে পারে না। তারা আকৃতি, রঙ এবং শেয়ারিং এর মতো বিষয়গুলো শিখছে৷ যখন তাদের চিন্তিত, স্নেহময়ী মা তাদের স্কুলে রেখে যায়, তারা কাঁদে। আর এখন তাদেরকে কার্টুনের সাহায্যে প্রকাশ্যে তাদের যৌন পরিচয় অন্বেষণ করতে বলা হচ্ছে।

ওরেগনের স্কুলগুলোতে জেন্ডার ইউনিকর্ন চালু করার সময় ওরেগন শিক্ষা বিভাগের যৌনস্বাস্থ্য এবং স্কুলস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ বলেছিলেন, ‘আমাদের আরও বেশি সংখ্যক কিন্ডারগার্টনার বেরিয়ে আসছে এবং শনাক্ত হচ্ছে।’৩২ স্পষ্টতই কেউ তাকে বলেনি যে কিন্ডারগার্টনাররা ফ্রোজেন থেকে টি-রেক্স বা এলসা হিসেবে চিহ্নিত করবে, তবে যদি আপনি তাদের বলতে পারেন তারা সেটা করতে পারে।

লিঙ্গ ইউনিকর্নের আরেকটি দিক হলো genderbread ব্যক্তিত্ব। লিঙ্গ ইউনিকর্নের মতো এটিও যৌন অভিব্যক্তি, জৈবিক লিঙ্গের আকর্ষণ, লিঙ্গপরিচয় ইত্যাদি একটা থেকে আরেকটাকে আলাদা করে এবং এটি শিশুদের বুঝতে পারার মতো করেই কাজ করে।৩৩ প্রায়শই স্কুল জেলায় অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের যৌনশিক্ষা থেকে বের করে নিতে সক্ষম হন। কিন্তু লিঙ্গমতাদর্শের অগ্রগতি অনেক বেশি সর্বগ্রাসী। ওরেগনের একজন অভিভাবক যখন তার সন্তানের শ্রেণীকক্ষে জেন্ডারব্রেড ব্যক্তি সম্পর্কে অভিযোগ করেছিলেন এবং জিজ্ঞাসা করেছিলেন কেন তার সন্তানকে নিয়ে যেতে দেওয়া হচ্ছে, তখন অধ্যক্ষ তাকে বলেছিলেন যে পুরো স্কুলে সারা বছরজুড়ে সবগুলো বিষয়েই লিঙ্গ-পরিচয় সম্পর্কে শিক্ষা দেওয়া হবে। কিন্তু ওই মা তার বাচ্চাকে হেলথ ক্লাসে না দেওয়ার বিষয়ে তার অবস্থান থেকে সরছেন না। কিন্তু তিনি জানেন না, কখন তার সন্তানকে লিঙ্গতত্ত্বের সংস্পর্শে নিয়ে আসা হবে।৩৪

কানেকটিকাটেও এরকম কিছু ঘটেছে, যেখানে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কাছে একটি বই উপস্থাপন করা হচ্ছে যার নাম Introducing Teddy। গল্পটি এমন- টেডিকে তৈরি করা হয়েছিল পুরুষ হিসেবে, কিন্তু তার মনে হচ্ছিলো যে, সে মহিলা ভালুক। ওরেগনের মতোই স্কুল কমিটি অভিভাবকদের বলে দিয়েছিল যে, তারা বাচ্চাদের সেখানে অভিভাবকদের হস্তক্ষেপ করার কোনো অনুমতি নেই। বাচ্চাদের Introducing Teddy পড়ানো হবে, আর সেটাই হলো।৩৫

এই বিষয়টা আশ্চর্যজনক যে র‍্যাডিকাল লিঙ্গতত্ত্বটি কত দ্রুত অনস্তিত্ব থেকে সামাজিকভাবে গৃহীত এবং শিক্ষাক্ষেত্রে চাহিদার বিষয় পর্যন্ত চলে গেছে। তারা এটিকে প্রথমে স্কুলে ঢুকায়, কারণ তারা জানে যে শিশুরা বেশি নমনীয় এবং তাদেরকে সহজে প্রভাবিত করা যাবে। শুধু তাই নয়, সন্তানদেরকে অভ্যস্ত করে ফেললে অভিভাবকরা অবশ্যই মেনে নিবেন।

তাদের পরিকল্পনা কাজ করেছে বলে মনে হচ্ছে। সর্বোপরি, সমাজ সংস্কারকদের জন্য শ্রেণীকক্ষই শেষ নয়, এটা শুরু। আমরা শ্রেণীকক্ষ থেকে এক ধরনের সামাজিক সংক্রামকের যাত্রা দেখেছি। আপনি কোথাও যেতে পারবেন না, কিছু পড়তে পারবেন না, কোনো সিনেমা দেখতে পারবেন না, লিঙ্গতত্ত্ব ছাড়া কোনো কথাই বলতে পারবেন না। লিঙ্গতত্ত্ব হল একটি নতুন নাগরিক ধর্ম। আমি দেখেছি, শুনেছি, আমার গবেষণাও তাই বলে যে, এটি আপনার সবকিছুকে দাবি করবে, সবকিছুতে এসে হানা দিবে, আর যারা এর বিরোধিতা করবে তারা ধর্মবিরোধী, তারা অগ্রহণযোগ্য।

 

প্রিয় পাঠক, ট্রান্সজেন্ডারিজমের করাল গ্রাস বইটির ওয়েব ভার্সন উন্মোক্ত করে দেওয়া হয়েছে বইটি প্রকাশের মাত্র দুইদিনের মধ্যেই। একটি বই প্রকাশের পেছনে অসংখ্য মানুষের সময়, শ্রম ও মেধার সমন্বয় থাকে। থাকে বড় একটি ইনভেস্টমেন্ট। বইটির পিডিএফ বা ওয়েব ভার্সনে প্রকাশক আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হোন। তাই অনুরোধ, যদি সামর্থ্য থাকে তবে বইটির একটি কপি ক্রয় করবেন। অর্ডার করতে ক্লিক করুন

 

অধ্যায় ৩: জন মানি<<আগের অধ্যায়                                    পরের অধ্যায়>> অধ্যায় ৫: ট্রান্সজেন্ডাররা যেভাবে সব দখল করে নিলো

Book: ট্রান্সজেন্ডারিজমের করাল গ্রাস Tags:

This entry was posted in . Bookmark the permalink.