ট্রান্সজেন্ডারিজমের করাল গ্রাস: অধ্যায় ১০

ট্রান্সজেন্ডারিজমের করাল গ্রাস: অধ্যায় ১০

সূচিপত্র

ভূমিকা
অধ্যায় ১: একটি সহজ প্রশ্ন
অধ্যায় ২: জেন্ডার থিওরির ইতিহাস
অধ্যায় ৩: জন মানি
অধ্যায় ৪: কীভাবে কারিকুলামে জেন্ডার থিওরি ঢুকে গেলো
অধ্যায় ৫: ট্রান্সজেন্ডাররা যেভাবে সব দখল করে নিলো
অধ্যায় ৬: ট্রানজিশনের প্রতিশ্রুতি
অধ্যায় ৭: তাসের ঘরের পতন
অধ্যায় ৮: ট্রান্সজেন্ডার সাংস্কৃতিক সংঘাত
অধ্যায় ৯: গোলাপি পুলিশ স্টেটের বুটের চাপায় ধ্বংস
অধ্যায় ১০: বিদ্রোহ
উপসংহার: আফ্রিকা
কিন্তু
রেফারেন্স

 

অধ্যায়: ১০

বিদ্রোহ

তো, নারী মানে কী?

আপনি প্রশ্নটির জবাব দিতে পারবেন? পারা উচিত। সবারই পারা উচিত। কিন্তু আজকাল এটা প্রচণ্ড কণ্টকাকীর্ণ প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এ কারণে না যে প্রশ্নটা জটিল। এটা এমন কোনো কারণেও না যে আমরা নারীদের সম্পর্কে নতুন কিছু আবিষ্কার করেছি। শুধু এক কারণেই মানুষ এটার জবাব দিতে পারছে না। তা হলো একটা রাগান্বিত, প্রতিশোধমূলক, অর্থহীন মতাদর্শ সমাজে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে। তার কারণে যারা প্রশ্নটির উত্তর জানে তারা তা বলতে ভয় পায়। যারা এ উত্তর জানার কথা তারা এ জেন্ডার থিওরির র‍্যাবিট হোলে এত ডুবে গেছে তারা ন্যুনতম বিবেক দিয়ে এ প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছে না।

আমি থেরাপিস্ট, সাইকিয়াট্রিস্ট, পেডিয়াট্রিশিয়ান, ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট, সার্জন, অ্যাক্টিভিস্ট, অ্যাথলেট, কংগ্রেসম্যান, প্রফেসর, দোকানের মালিক ও ট্রান্সজেন্ডারের সাথে কথা বলেছি। আমরা কথা বলেছি জেন্ডার থিওরি, জন মানি, রাইমার যমজ ভাই, জেন্ডার ডিস্ফোরিয়ার ভয়াবহ উত্থান, হরমোন থেরাপি, লিঙ্গপরিবর্তনের সার্জারি, হাইস্কুলের খেলা, Equality Act, এবং আরো অনেক কিছু নিয়ে। আমি আমার ইচ্ছার চেয়ে বেশি জেনেছি Vaginoplasty সম্পর্কে। ‘পুরুষাঙ্গ’ শব্দটা আমাকে কল্পনার চেয়ে বেশিবার উল্লেখ করতে হয়েছে। কিন্তু ঠিক একটা প্রশ্নই আমার করে যেতে হচ্ছিলো সরাসরি এবং স্পষ্টতার সাথে।

আপনি শুধু প্রশ্নটার উত্তর দিতে পারছেন না?

‘নারী মানে কী?’ আমি জিজ্ঞেস করলাম আমার ট্রান্স এফার্মিং থেরাপিরস্ট বন্ধু গার্ট কমফ্রেকে।

‘হ্যাঁ, সেরা প্রশ্ন। আমি নারী না। তাই আমি আসলে এর জবাব দিতে পারবো না,’ তিনি বললেন।

আচ্ছা। ঠিক আছে।

তিনি বলতে থাকলেন, ‘দুজন নারীও এটার জবাব একইভাবে দেবে না।’

আমার মনে হয় এ ধরনের মানুষদের থেকে কিছু আশা করা উচিত হয়নি যারা সত্যের ধারণাকেই সরাসরি অস্বীকার করে। তারপরও আমি আরেকবার প্রশ্ন করলাম।

‘আপনি বলতে চাচ্ছেন ‘নারী’র নির্দিষ্ট কোনো সংজ্ঞা নেই? এটা কি কোনো শব্দ না যার নির্দিষ্ট কোনো অর্থ আছে?’ আমি বলে গেলাম।

‘আমি মনে করি এটা আপেক্ষিক,’ তিনি বললেন।

এ কথা আমাকে আসলেই ভাবালো। তারপর আমি কথা বললাম ডা. মিশেল ফোর্সিয়ারের সাথে। তিনি একজন পেডিয়াট্রিশিয়ান বাচ্চাদেরকে হরমোন প্রেস্ক্রাইব করেন। হয়তো তিনি বলতে পারবেন।

‘কোনো জিনিসটি কারো লিঙ্গ নির্ধারণ করে?’ আমি জিজ্ঞেস করলাম।

‘এটা অনেক কিছুর সমন্বয়,’ তিনি বললেন।

উফ! আচ্ছা আবার চেষ্টা করি।

‘নারী মানে কী?’ তিনি রেটরিকেলি জবাব দিলেন, ‘একজন নারী হলো তিনি যিনি নিজের পরিচয় হিসেবে নারী বলেন।’

‘আপনি ‘নারী’র সংজ্ঞায় নারী শব্দটি বলছেন,’ আমি বললাম। ‘কথাটা অনেকটা এমন হয়ে গেছে যে আমি আপনাকে জিজ্ঞেস করলাম গাছ কাকে বলে আর আপনি বললেন, ‘একটা গাছ হলো এমন একটা জিনিস যেটা গাছ।’ আসলে আপনি আমাকে গাছ সম্পর্কে কিছুই বলেননি।’

‘আমি এখানে গাছ নিয়ে কথা বলতে আসিনি,’ তিনি বললেন।

আর কতক্ষণ যে আমাকে আপনার সাথে থাকতে হবে? কতক্ষণ আমি এভাবে কষ্ট ভোগ করবো? গসপেল অব মার্ক থেকে যিশুর বাক্যগুলো আমার মনে পড়লো।

‘এটা একটা উপমা,’ আমি বললাম, শুষ্কভাবে।

‘হ্যাঁ, কিন্তু উপমা এভাবে কাজ করে না,’ তিনি বললেন।

‘আমি আরেকবার চেষ্টা করি,’ আমি বলে চললাম, ‘ধরুন, আপনাকে নারীর সংজ্ঞা বলতে বলা হলো। আপনি নারীর সংজ্ঞা হিসেবে কী বলবেন?’

‘আমি সেক্ষেত্রে রোগীকে জিজ্ঞেস করবো, ‘নারী’র সংজ্ঞায় কী বলবেন’ তিনি বলেন।

বোঝাই যাচ্ছে ডা. ফোর্সিয়ারের রোগীরা কেন লিঙ্গ ও জেন্ডার নিয়ে এত বিভ্রান্ত। তাদের ডাক্তারেরই কোনো ধারণা নেই তিনি কী বলছেন।

ট্রান্সজেন্ডার অ্যাক্টিভিস্ট রড্রিগো-লেহটিনেন ভিন্ন ছিলেন না। ‘আমি এসব টার্মিনোলজি নিয়ে বেশি কথা বলা পছন্দ করি না। কেননা এটা আমাদের ফোকাস নষ্ট করে,’ তিনি আমাকে বললেন। আসলে, আমি ভাবলাম, এটাতে ফোকাস নষ্ট হওয়ার কারণ হলো বিতর্কের বামপন্থী ধারাটা জানেই না তারা আসলে কী নিয়ে কথা বলছে। তিনি বলতে থাকলেন, ‘আমি মনে করি, একজন নারী হলেন যিনি নিজেকে নারী মনে করেন এবং নারী হতে মেডিকেল বিভিন্ন কাজের মধ্য দিয়ে যান।’

‘একজন নারী হলেন এমন একজন যিনি নিজেকে নারী মনে করেন,’ আমি শুরু করলাম, ‘কিন্তু তিনি নিজেকে কী বলছেন?’

‘আসলে, আমাকে এসে যদি কেউ বলে, ‘আমি একজন ট্রান্সজেন্ডার নারী তাহলে আমি সেটা সম্মান করি। তাকে অন্য সবার মতই সম্মান ও মর্যাদার সাথে দেখতে হবে যেটাই হোক না কেন।’

অবশ্যই। এর সাথে আমি দ্বিমত করছি না। কিন্তু এটা আমার প্রশ্ন ছিল না। হেং-লেহটিনেন অবশ্য রাজনীতিবিদের সব ধরনের টেকনিক শিখে ফেলেছেন, কিন্তু আমার দরকার সোজাসাপ্টা জবাব। আমি সত্য জবাব কোথাও না কোথাও পেয়ে যাবো। তাই আমি এগিয়ে গেলাম।

আমার আসলে নারী, জেন্ডার ও যৌনতা প্রোগ্রামের প্রফেসর প্যাট্রিক গ্রাজানকাকে এ প্রশ্ন করার কথা ছিল না। তিনি আমাকে ইতিমধ্যেই মানুষের অস্তিত্বকে অস্বীকার করার অভিযোগে দুষেছেন। তাই আমাকে জিজ্ঞেস করতেই হবে, ‘তাহলে নারী মানে কী?’ আমি সবাইকে যেভাবে জিজ্ঞেস করেছি সেভাবেই জিজ্ঞেস করলাম, সরাসরি।

‘কেন আপনি এ প্রশ্ন করছেন?’ তিনি উলটো জিজ্ঞেস করলেন, সন্দেহের দৃষ্টিতে।

‘আমি আসলে জানতে চাই?’

‘আপনার কী মনে হয় এটার জবাব?’

এভাবে কিছুক্ষণ এপাশ-ওপাশ কথা হলো। তিনি আমাকে বারবার জিজ্ঞেস করছিলেন কেন আমি এ ব্যাপারে আগ্রহী। তিনি খুব অভদ্র আচরণ করছিলেন এবং আমার দিকে ব্যাপক অবিশ্বাস নিয়ে তাকিয়েছিলেন। যেন আমি তাকে জিজ্ঞেস করছিলাম কোথায় অবৈধ ড্রাগ পাওয়া যাবে অথবা যেন তার হাতে একটা পিটিশনে স্বাক্ষর করার আগে অল্প কিছু সময় আছে যে পিটিশন পরিবেশকে রক্ষা করবে।

‘আপনি উইম্যান’স স্টাডিজ নিয়ে প্রশ্নের জবাব দিতে চেয়েছিলেন,’ আমি বললাম, ‘তাহলে সবার প্রথম আপনি যে প্রশ্নের জবাব দিতে পারার কথা তা কি এটা নয় যে নারী মানে আসলে কী?’

‘আসলে আমার কাছে এটা খুব সাধারণ একটা উত্তর,’ তিনি বললেন, ‘এবং তা হলো, এমন কেউ যে নিজেকে একজন নারী বলে পরিচয় দেয়।’

ট্রান্সজেন্ডার মতবাদের অন্যতম স্বভাব হলো এটা- সার্কুলার যুক্তি। তারা হয় দাবি করবে তারা এ প্রশ্নের জবাব দিতে পারবে না কারণ তারা নিজেরা নারী না, অথবা তারা নারীর সংজ্ঞা দেবে নারী শব্দ ব্যবহার করেই। এ ধরনের সংজ্ঞা পুরোপুরি অর্থহীন।

‘আপনি যে ধরনের সংজ্ঞা চাচ্ছেন তাকে আমরা আমাদের ফিল্ডে বলি জেন্ডারের একটি এসেনশিয়ালিস্ট সংজ্ঞা,’ তিনি বললেন, আমার কথাকে বিকৃত করে।

আসলে, আমি শুধু সহজে প্রশ্ন করেছি একটা শব্দের অর্থ কী। আমি যতটুকু জানি, জেন্ডার থিওরির সাথে এর তেমন সম্পর্ক নেই। তিনি বলতে থাকলেন, ‘আমি মনে হচ্ছে আমি যদি আপনাকে জেন্ডারের কিছু জৈবিক ও সামাজিক কিছু বৈশিষ্ট্যের কথা বলি তাহলে আপনি খুশি হবেন।’

‘আমি আসলে কোনো টাইপের সংজ্ঞা খুঁজছি না,’ আমি বললাম, ‘আমি আসলে একটা সংজ্ঞা খুঁজছি।’

‘এবং আমি আপনাকে দিয়েছি একটা,’ তিনি বললেন, দ্রুত।

ঠিক আছে তাহলে। আমার মনে হচ্ছিল আমি প্রায় ছিটকে পড়েছি। কিন্তু আমাকে টিকে থাকতে হবে।

আমি তারপর লিঙ্গপরিবর্তনকারী সার্জন ডা. মারসি বাওয়ার্সের কাছে গেলাম। যা ইচ্ছা বলুন, আপনার স্বীকার করতেই হবে তিনি ট্রান্সজেন্ডার মতবাদের অনুসারীদের মধ্যে অন্যতম সুস্থ মানুষ। বামদের মধ্যে আমি যাদের সাথে কথা বলেছি তাদের মধ্যে তিনি অন্যতম মানুষ যিনি স্বীকার করেছেন লিঙ্গপরিবর্তনের ক্ষেত্রে কিছু ঝুঁকি আছে।

আমি প্রশ্নটা করেই ফেললাম। এবার একটি বোধগম্য উত্তর শুনবো বলে উদগ্রীব হয়ে রইলাম৷ তিনি শুরু করলেন, ‘আচ্ছা, আবারও এটা… এটা একটা, এটা একটা… তো একজন নারী বা একজন পুরুষ। পুরুষ কী? একজন পুরুষ হলো সেই ব্যক্তি যে, আবারও বিষয়টা এতটা সোজাসাপ্টা না, তো, আপনার পুরুষ লিঙ্গপরিচয় থাকতে পারে সেজন্য আপনার পুরুষ হওয়া জরুরি না’।

আসলে, এতে কিছুই পরিষ্কার হয়নি। যারাই জেন্ডার থিওরিতে বিশ্বাস করে তাদের কেউই একেবারে মৌলিক এ প্রশ্নের জবাব দিতে পারছে না। অবাক করা বিষয় হুলো, বামদের মধ্যে আমি আমার প্রশ্নের সবচেয়ে সৎ যে জবাবটা পেয়েছি তা হলো রিপ্রেজেন্টেটিভ টাকানোর অফিস থেকে। কিন্তু জবাবটি রিপ্রেজেন্টেটিভ টাকানো দেননি।

আমি আমার শেষ প্রশ্ন করার আগেই ক্যালিফোর্নিয়ার এ কংগ্রেসম্যান সাক্ষাৎকার থেকে বের হয়ে গিয়েছিলেন। তিনি যখন উঠে দাঁড়িয়ে দ্রুত বের হয়ে যাওয়ার সময় আমি প্রশ্নটা করি, ‘আমরা জানতে চাই, নারী মানে কী?’

‘প্লিজ ক্যামেরা বন্ধ করুন,’ তিনি বললেন।

‘আমরা এতদূর এসেছি,’ কংগ্রেসম্যান তার কর্মীকে সাথে নিয়ে বের হয়ে যাওয়ার আগে বললাম, ‘আমরা শুধু জানতে চাই নারী কাকে বলে।’

‘এবং এ প্রশ্নের জবাব খুঁজে পাবেন না,’ দরজা বন্ধ করার আগে টাকানোর কর্মী বললো।

প্রিন্সিপালের দিক থেকে সে কর্মী ভুল বলেছেন। কিন্তু একদিক থেকে তিনি ঠিকই বলেছেন: আমি ট্রান্সজেন্ডার মতাদর্শের ধারকদের কাছে এ প্রশ্নের জবাব পাবো না। তাদের প্রশ্নের যেসব উত্তর পেয়েছি সেগুলো আসলে আজেবাজে কথা, সার্কুলার যুক্তি অথবা লম্বা কোনো আলোচনা যেটার কোনো শেষ ছিল না।

তাদের জবাব থেকে আমি আসলেই একটি জরুরি শিক্ষা পেয়েছি। এ লোকরা সত্য নিয়ে ভাবে না। তাদের কাছে সত্যের কোনো গুরুত্ব নেই। তাদের কাছে কোনো কাজটা সঠিক এটার কোনো গুরুত্বই নেই। কারণ ঠিক-ভুল নির্বাচন করতে গেলে সত্যের সংস্পর্শ থাকতে হবে। যদি তা না হয়, তবে তারা ক্রমাগত কিছু লুকিয়ে রাখবে না এবং উচ্চারণ ব্যবহার করবে না।

জীবনে অনুসরণ করার জন্য এখানে খুব জরুরি একটা নীতি পাওয়া যায়। কেউ যদি কোনোকিছু লুকিয়ে রাখতে না চায় তাহলে আপনি বুঝবেন সে সত্য বলছে। তারা তাদের হ্যাঁ কে হ্যাঁ-ই রাখবে, না কে না। স্পষ্টতা কেবল আন্তরিকতার লক্ষণ না, সততারও।

এভাবেই আমি বুঝেছিলাম আমি অন্য যাদের সাক্ষাৎকার নিয়েছিলাম তারা সত্য বলছে। তারা শব্দ নিয়ে খেলেনি। তারা বিষয় পাল্টাতে চায়নি বা আমি জিজ্ঞেস করিনি এমন প্রশ্নের জবাব দিতে উঠেপড়ে লাগেনি। তারা আমাকে সত্য বলেছে। এর কারণ এটা নয় যে তারা বামদের চেয়ে বেশি শিক্ষিত বা বেশি ক্ষমতাবান বা বেশি প্রমাণপত্র রেখেছে। না, কারণ তারা ভুলতে অস্বীকার করেছে। তাদেরকে জোর করে ভুলিয়ে দেওয়া যাবে না। তারা এমন কিছু ভুলে যাবে না যেটা ইতিহাসের সবাই জানতো।

‘নারী বলতে আসলে কী বোঝায়?‘ আমি ট্র্যাক রানার সেলিনা সৌলকে জিজ্ঞেস করি যে দুজন ট্রান্সজেন্ডারের কাছে হেরে গিয়েছে।

‘একজন নারী হলো সে যার বাচ্চা জন্ম দেওয়ার অঙ্গ আছে। যার আছে সে নারীই। কোনোকিছুর মাধ্যমেই একে বদলে দেওয়া যাবে না,’ তিনি বললেন।

‘এতই সহজ?’ আমি জিজ্ঞেস করলাম।

‘জী এতই সহজ।’

ওয়াও। আমি এমন জবাব আগে পাইনি। আমি দুইয়ে দুইয়ে মিলিয়ে দেখি। আমি একদম একই প্রশ্ন, প্রতিটি শব্দ একই রেখে প্রশ্ন করলাম আরেক নারী স্কট নিউজেন্টকে, যিনি একসময় নারী থেকে পুরুষ হতে চেয়েছিলেন ভয়াবহ সব অপারেশনের মধ্য দিয়ে গিয়ে।

‘নারী কাকে বলে?’ আমি জিজ্ঞেস করলাম।

‘এটা জেনেটিক্স,’ তিনি বললেন, ‘এটা ক্রোমোজম। এটাই সত্য। এটা জীববিজ্ঞান।’ তিনি বলে চললেন, ‘আমি বলতে পারি আমি কেমন ধরনের নারী হবো। কিন্তু যখন আমরা বাস্তবতা বুঝি না তখন আমরা আসলে কী হারাই? আমরা আমাদের সচেতন বোধবুদ্ধি হারিয়ে ফেলি। আমাদের মাথা নষ্ট হয়ে গিয়েছে।’

ডা. গ্রসম্যান শিশু সাইকিয়াট্রিস্ট। জেন্ডার থিওরির এ যুগে এসে তিনি সবসময়ের মত সত্য বলে যাচ্ছিলেন। ‘নারী মানে কী?’ আমি তাকে প্রশ্ন করলাম। আমি জানতাম তিনি সোজাসাপ্টা জবাব দেবেন।

‘এটা মোটেই জটিল কোনো প্রশ্ন না। একে জটিল বানানো হয়েছে,’ তিনি বললেন, ‘একজন নারী হলেন এমন একজন যার দুটো এক্স ক্রোমোজোম আছে, যিনি ডিম্বাণু নামের গ্যামেটের সাহায্যে প্রজননের কাজ করেন এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তিনি প্রাকৃতিকভাবে গর্ভধারণ করতে পারেন। তিনি একজন নারী। সোজা, তাই না? কে পুরুষ কে নারী তা নিয়ে আমাদের পৃষ্ঠার পর পৃষ্ঠা ব্যাখ্যা লিখতে হবে না। এটা কোনো কণ্টকাকীর্ণ বা জটিল কোনো বিষয় নয়।’

এক্ষেত্রে বিজ্ঞানের ধারণা খুবই পরিষ্কার। (সেই অপ‘বিজ্ঞান’ নয় যা ট্রানসজেন্ডার অ্যাক্টিভিক্টদের দ্বারা প্রভাবিত হয়েছে)

কিন্তু আমার স্বীকার করতেই হবে যে আমার কাছে সবচেয়ে প্রিয় জবাব হলো মিস্টার ডন সুশারের জবাব। তিনি ওয়াশিংটন স্টেটে একটি স্টার ট্রেক মেমোরেবিলা দোকানের মালিক। তাকে একবার এক ট্রান্সজেন্ডার ব্যাপকভাবে অপমান করেছে। কারণ তিনি মনে করতেন কোনো নারীর পুরুষাঙ্গ থাকতে পারে না।

‘আমার নারীকে সংজ্ঞায়িত করতে হবে না,’ তিনি বললেন, ‘হয় তারা পুরুষ নয় নারী। এটাই। এভাবেই একজন জন্মগ্রহণ করে।’

‘এটাই?’ আমি জিজ্ঞেস করলাম।

‘হ্যাঁ, এর বেশি কিছু বলার নেই। সোজা। শেষ বাক্য।’

আমার এরপরে তাকে আর কোনো প্রশ্ন করা দরকার ছিল না। কিন্তু আমার মনে হচ্ছিল আমি প্রশ্ন করতে থাকলে তিনি একটি মজার উত্তর দেবেন। আমি নিজেকে সামলাতে পারলাম না। এবং আমার ধারণা ঠিক ছিল।

‘আপনি কিভাবে জানেন আপনি একজন পুরুষ?’ আমি জিজ্ঞেস করলাম।

‘আমি কিভাবে জানি আমি পুরুষ? কারণ আমার পুরুষাঙ্গ আছে!’

একজন সাধারণ মানুষ কত সহজে বিষয়টি বুঝলেন এবং ব্যাখ্যা করলেন, কিন্তু অনেক ক্ষমতাশালী এবং শিক্ষিত মানুষরা এমন সব জবাব দিয়েছেন যার আসলে কোনো মানে নেই।

আমার মনে হয় আমি আশার দেখা পেলাম। রাজনীতি, আইন, ব্যবসা, বিনোদন, শিক্ষা, একাডেমিয়া এবং স্বাস্থ্যক্ষেত্রের অনেক শক্তি আমাদের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু তাদের সব প্রজ্ঞা প্রকম্পিত হয়ে যায় যখন শুধু একজন মানুষ সত্য বলার সিদ্ধান্ত নেয়। কোনো ব্যতিক্রম নেই, কোনো ক্ষমা প্রার্থনা নেই, কোনো সুগার কোটিং নেই।

সুশারের মত বলতে গেলে, আমরা স্টার ট্রেকের বিদ্রোহের মত। আমাদের টাকা ও ক্ষমতা কম। কিন্তু আমাদের কোনো বাধা নেই, হতাশা নেই। কিন্তু সত্য এবং ভালোত্ব আমাদের দিকেই আছে। আমাদের আছে মৌলিক মানবীয় সদাচার ও কমনসেন্স। একসাথে, আমরা কিছু বিষয় না, সবকিছু বদলে দিতে পারি।

সত্য এগিয়ে আসছে

খুব দ্রুত সবকিছু দখল করে নেওয়া ট্রান্সজেন্ডার জুলুমের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর জন্য আমাদেরকে জানতে হবে কিভাবে আমরা লড়াই করব। আমি তখনও সেভাবে বুঝতে পারিনি কিন্তু এখন বুঝতে পারছি। ডা. গ্রসম্যান, সেলিনা সৌল, ডন সুশার- তারা সবাই আমাকে শিখাচ্ছিলেন কিভাবে এই কাজ করতে হবে।

তাদের থেকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে শিক্ষাটা আমি পেয়েছি তা হল, সব সময় সত্য বলে যাওয়া। দেখার দরকার নেই যে আপনার বিরোধীরা আপনাকে কতটা অপমান করছে। আপনি জীববিজ্ঞান এবং ভাষার সাথে আপস করে বিরোধীদের সাথে কোনো কমন গ্রাউন্ড খুঁজে পাবেন না। এ কাজটা হবে একটা দুর্বলতা। তারা ১৩ বছরের বাচ্চাকে দীর্ঘমেয়াদি পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াসহ হরমোন দিয়ে যাবে এবং বাবা-মা থেকে সন্তানকে কেড়ে নেবে এবং একই সাথে তারা এসব হচ্ছে বলে অস্বীকার করবে। এ অবস্থায় আপনি যদি মনে করেন যে শুধুমাত্র তাদের একটা দাবি মেনে নিয়ে তাদেরকে একটু খুশি করে দিলেই তারা সন্তুষ্ট হয়ে যাবে- আপনি বোকামি করছেন। আপনি সবকিছু মেনে নেওয়া ছাড়া ট্রান্সজেন্ডার মতাদর্শ আপনাকে মেনে নেবে না। জে কে রাউলিংয়ের ঘটনা থেকে আমরা জানতে পারি হয় আপনি তাদের সব মত গ্রহণ করে নিতে হবে অথবা আপনাকে ক্যানসেল করা হবে। তাদের কাছে অর্ধেক বলে কিছু নেই।

কিন্তু যারা সত্য বলার সাহস করেছে তারা জানতো, যে মুহূর্তে তারা তাদের মুখ খুলবে তাদের বিরুদ্ধে একদল উগ্র পাগল লেগে যাবে। কিন্তু তারা যুদ্ধ থেকে কিছু হটেননি। তারা ভাবেননি চুপ করে থাকলে তারা বেঁচে যাবে। সুশারের মত লোকরা সরাসরি যুদ্ধে অংশ নিয়েছে। তিনি যখন তার দোকানে সে সাইনবোর্ডটি লাগিয়েছিলেন তিনি মানুষকে রাগিয়ে দিতে লাগাননি। কিন্তু তিনি জানতেন যে তার বিরুদ্ধে ট্রান্সজেন্ডার অ্যাক্টিভিস্টরা লাগবে। তাও তিনি এ কাজ করেছেন।

 সেলিনা সৌলের মত মেয়েরা এ যুদ্ধে কখনো নিজেকে জড়াতে চায়নি। কিন্তু তারা বাধ্য হয়েছে। সে কানেক্টিকাটের অন্য মেয়েদের মতো পেছনে থেকে যেতে পারতো। এমনকি সে গোপনেও অভিযোগ জানাতে পারতো। কিন্তু তা সত্ত্বেও সে মেয়েদের খেলায় পুরুষদের দৌড়ানোর সুযোগ দিয়ে যে অবিচার করা হয়েছে তার বিরুদ্ধে কথা বলেছে। সে জানতো কি হবে। তার বিরুদ্ধে যে ব্যাপক আক্রমণ শুরু হয়ে যাবে।

মনে রাখবেন, সৌল এবং সুশার কেউই রাজনীতিবিদ বা মিডিয়া ব্যক্তিত্ব না। তারা কেবল ছাত্রী এবং দোকানের মালিক। র‍্যাডিকেল ট্রান্সজেন্ডার মতাদর্শের সাথে লড়াই করা তাদের কাজ ছিল না। কিন্তু তারা বুঝেছে, আরাম ও অজ্ঞাত থাকার বাইরেও জীবনে আরো কিছু আছে। তারা জানতো যে ক্ষমতাসীনদের কাছ থেকে পাওয়া সম্মানের (অন্তত আক্রমণের শিকার না হওয়ার) আসলে কোনো মূল্যই নেই যদি না আমরা একদম মৌলিক, চোখের দেখা, সূর্যের আলোর মত জৈবিক সত্যের ব্যাপারে কথা বলতে পারি। মিলিয়ন মিলিয়ন মানুষ আছে তাদের মত।

যারা ভয় পাচ্ছেন, জেনে রাখুন, ট্রান্সজেন্ডার অ্যাক্টিভিস্টদের দ্বারা আক্রান্ত হয়ে সৌল ও সুশারের জীবন ধ্বংস হয়ে যায়নি। যদিও তাদের বিরুদ্ধে করা আক্রমণ অনেক কষ্ট দিয়েছে, কিন্তু দুজনেই আগের চেয়ে মানসিকভাবে আরো শক্তিশালী হয়েছেন।

সৌল তাঁর বিরুদ্ধে করা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের রাগী রাগী পোস্ট ও হত্যার হুমকি নিয়ে ব্যস্ত থাকতে পারতেন, কিন্তু তিনি এসবকে পাত্তা দেননি। ‘এসব লোক আসলে ফোন স্ক্রিনের পেছনে লুকিয়ে থাকে,’ সে বললো, ‘তারা আমাকে রাস্তায় হেঁটে যেতে দেখলেও কিছু বলার সাহস পাবে না।’ তিনি আমাকে বললেন, তার বিরুদ্ধে অনেক কথা লেখা হলেও প্রায় ৮৫শতাংশ মতামত তার পক্ষেই ছিল। ‘এবং আরো ভালো দিক হচ্ছে, আমি কিছু বিয়ের প্রস্তাবও পেয়েছি,’ সে বললো।

সুশারও প্রায় একই ধরনের কথা বলেছেন। ‘আমি পুরো পৃথিবী থেকে হাজারো ফোনকল পাই,’ তিনি বললেন, ‘আমি সবাইকে ধন্যবাদ দিতে চাই, মাই গড। কিন্তু আমার পক্ষে তা সম্ভব হবে না। কিন্তু আমার মনে হচ্ছিলো প্রায় ৯৫শতাংশ মানুষ আমার সাথে আছে।’

এগুলো থেকে আমি আরেকটি শিক্ষা পেয়েছি। আমাদের বন্ধুর সংখ্যা আমাদের ধারণার চেয়েও অনেক বেশি। স্কট নিউজেন্ট অনেক দিক থেকে লিবারেল হলেও এদিকে ট্রান্সজেন্ডারিজমের শতভাগ বিপক্ষে। নিউজেন্ট মানুষের সাহায্য খুঁজতে গিয়ে বুঝতে পেরেছেন যে কত মানুষ বাচ্চাদের এসব সার্জারির বিরুদ্ধে আছে। ‘আমি এমন অনেক জায়গায় সাহায্য পেয়েছি যেখানে আমি সাহায্যের জন্য যেতামও না যদি না আমার এমন অভিজ্ঞতা হতো। বেশ কয়েকজন জনপ্রিয় ধর্মপ্রচারক আমার সাথে যোগাযোগ করেছেন। আমি তাদের সাথেও সীমা ঠিক রেখে কাজ করেছি বাচ্চাদেরকে রক্ষার জন্য।’

নিউজেন্ট এবং ডাক্তার গ্রসম্যান আমাকে জ্ঞানের শক্তি দেখিয়ে দিলেন। আমি যখনি ট্রান্সজেন্ডারিজমের পক্ষে কোনো দাবি দেখিয়েছি তখনি তারা সরাসরি এবং যথার্থ সমালোচনা দেখিয়ে দিয়েছেন। তারা গবেষণাগুলো সম্পর্কে জানতেন, জানতেন ভুলগুলো সম্পর্কেও। তারা জানতেন কোনগুলো অপ্রাসঙ্গিক কথা এবং কোনগুলো সত্য। তাদের নিজেদের গবেষণা ছিল। তারা শুধু গল্প এবং থিওরি দিয়ে জবাব দেননি। তারা সত্য দলিল দিয়ে জবাব দিয়েছেন।

আমরা যদি পুরো বছরই জানি ট্রান্সজেন্ডার মতাদর্শ ভুল, কিন্তু কেন ভুল তা না জানি তাহলে আমাদের দাবি ধোপে টিকবে না। বামপন্থীরা মিথ্যার উপরে একটা বিরাট কাঠামো তৈরি করেছে। ট্রান্সজেন্ডারদেরকে সমাজ মেনে না নিলে তারা আত্মহত্যা করে না। হরমোন ব্রেকারের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আছে এবং সেগুলো স্থায়ী। নারী ও পুরুষের কিছু সত্যিকার এবং অর্থপূর্ণ শারীরিক ভিন্নতা আছে।

কাউন্সিলর ও মেডিকেল প্রফেশনালদের কাজ দেখে আপনি প্রচণ্ড বিতৃষ্ণার সাথে প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারেন কেননা তারা বাচ্চাদের মনকে বিষাক্ত করে ফেলছে এবং তাদেরকে লিঙ্গপরিবর্তনের সার্জারি করতে বাধ্য করছে। কিন্তু শুধুমাত্র বিতৃষ্ণা দিয়েই আমরা জিততে পারব না। আমাদেরকে ব্যাখ্যা করতে হবে কেন এটা ভুল।

আমাদের কেবল বিশ্বাস করে বসে থাকলে হবে না যে ট্রান্সজেন্ডারিজম ভুল। আমাদের দেশে অতিদ্রুত ট্রান্সজেন্ডারিজম শিক্ষাব্যবস্থা এবং মিডিয়ায় প্রবেশ করছে। কালচারাল এলিটদের বিরুদ্ধে এ লড়াইয়ে জিততে জনসচেতনতার কোনো বিকল্প নেই। তাই:

  • অভিভাবকদেরকে এর ভয়াবহতা বোঝাতে হবে।
  • পরিবারের ছোটোদেরকে সহজ ভাষায় জানাতে হবে।
  • ব্যাপকভাবে ক্যাম্পেইন করতে হবে। সেখানে লিফলেট বিতরণ, আলোচনা, সেমিনার ইত্যাদি করা যেতে পারে।
  • ধর্মীয় নেতা, রাজনৈতিক নেতা এবং সমাজের প্রভাবশালী ব্যক্তিবর্গকে এ ব্যাপারে সচেতনতা সৃষ্টিতে কাজ করার জন্য অনুরোধ করতে হবে।

ট্রান্সকালচারাল এলিটরা শুধু ওয়াশিংটনে নয়, তারা সবখানেই আছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, টিভি, সিনেমা এবং খেলায় আছে তাদের সরব উপস্থিতি। আমরা হয়ত মিডিয়ায় তাদের সমান রিচ পাবো না। কিন্তু পৃথিবীর মানুষদের জানতে হবে বিশ্বজুড়ে মিলিয়ন মিলিয়ন মানুষ জেন্ডার থিওরিকে প্রত্যাখ্যান করেছে। প্রতিষ্ঠিত প্লাটফর্মগুলো থেকে এ মতাদর্শের বিরুদ্ধে কথা বলতে হবে। ট্রান্সজেন্ডারিজম প্রমোট করা যে কাউকে আমাদের সাহায্য করা বন্ধ করতে হবে ।

এটার মানে হলো যদি আপনার সন্তানের স্কুল তাকে এসব শেখায়, তাহলে সেখানে গিয়ে প্রতিবাদ করতে হবে। যদি তারা না শুনে সেক্ষেত্রে সন্তানকে সেখান থেকে নিয়ে আসতে হবে। পরিবারে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ব্যবহার কমিয়ে আনতে হবে। সব টিভি শো এবং সিনেমা থেকে পরিবারকে মুক্ত রাখতে হবে। আমরা কোনোভাবেই এ মতাদর্শকে সমর্থন করতে পারব না। না ব্যালেটের মাধ্যমে, না সময়ের মাধ্যমে, না আমরা যা দেখি তার মাধ্যমে, না আমাদের সন্তানকে স্কুলে পাঠানোর মাধ্যমে। আমাদের বিরোধীরা আমাদের নীরবতার সুযোগে গত কয়েক বছরে অনেক দূর এগিয়ে গেছে। এখন আমাদের দায়িত্ব ঘাড় বাঁকা করে তাদেরকে ‘না’ বলা।

এসব কিছু বলার মানে তা নয় শুধু আমাদের সামাজিক কাজেরই অর্থ আছে। ব্যক্তিগত কাজও জরুরি। আমার এ জার্নিতে আমি দেখেছি, যে অল্পসংখ্যক ছেলেমেয়ে খুব কম বয়সে এ ধরনের বিভ্রান্তিতে পড়ে যায়, তাদের প্রায় সবারই পারিবারিক অবস্থা ভালো নয়। শতভাগের ক্ষেত্রে হয়ত এমনটা না কিন্তু বেশিরভাগের ক্ষেত্রে তো বটেই। অনেকের বাবা-মায়ের ডিভোর্স হয়ে যায়। অনেক সময় তারা নির্যাতিত হয়। আবার অনেক সময় তাদের বাবা-মা এতটা লিবারেল হয় যে তারা তাদের পরিবারকে সব ধরনের ঐতিহ্য, ধর্ম এবং যেকোনো নৈতিক বন্ধন থেকে মুক্ত করে ফেলে। নিউজেন্টও বিষয়টি লক্ষ্য করেছেন।

এ ধরনের ঘটনাগুলো থেকে আমরা দুনিয়ার বাবা-মা এবং প্রাপ্তবয়স্কদের দুটো দায়িত্ব বুঝতে পারি। প্রথমত আপনার ব্যক্তিগত কাজগুলোর কোনো প্রভাব আপনার আশেপাশের মানুষগুলোর উপর পরবেনা- এটা ভাবার কোনো কারণ নেই। দাম্পত্য জীবনে আপনার সমস্যাগুলো সন্তানদের মধ্যেও চলে আসে। পরিবারে অস্থিতিশীলতা সন্তানের মানসিক অস্থিরতার কারণ হয়। ডিভোর্স সন্তানদের জীবনে ব্যাপক ক্ষত এবং দুর্বলতা তৈরি করে। ঠিক সেখানেই ট্রান্সজেন্ডারিজম মিথ্যা প্রতিশ্রুতি এবং আরামময় মিথ্যা নিয়ে প্রবেশ করে।

দ্বিতীয়ত আমাদের দায়িত্ব আছে পৃথিবীর ছোটো বাচ্চাদের শেখানো যে আমাদের প্রতিটি কাজের পরিণতি আছে। এ ধরনের সার্জারির অনেক ক্ষতিকর দিক আছে এবং এ মতাদর্শ সমাজ বিধ্বংসী। ‘এজন্যই তো বাবা-মায়েরা থাকে। তাই না?’ নিউজেন্ট আমাকে বললেন। ‘আমরা তাদেরকে পৃথিবী চিনতে শিখাই। আমরা আমাদের সন্তানদের প্রচণ্ড ভালোবাসি এবং ততক্ষণ পর্যন্ত নির্দেশনা দিতে থাকি যতক্ষণ না তারা নিজেরাই পৃথিবীকে চিনতে পারে।’

অবশ্যই আমাদেরকে ভাবতে হবে আমাদের সন্তানদেরকে স্কুলে কী শেখানো হচ্ছে। কিন্তু এ আগ্রাসন এর চেয়ে বেশি কিছু নিয়ে হচ্ছে। আমরা জেন্ডার ডিস্ফোরিয়ার যে মহামারি দেখছি, জেন্ডার থিওরির মিথ্যার প্রসার দেখছি তা কেবল বইয়েই সীমাবদ্ধ নয়। এটা বিভিন্ন সামাজিক গ্রুপ ও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে ব্যাপকভাবে। শিক্ষার উপকরণ, বই, অ্যাক্টিভিস্ট শিক্ষক, পরিবেশ প্রোগ্রামিং থেকে নিয়ে সবকিছুই বাচ্চাদেরকে খুব অল্প বয়সে এগুলো শেখাতে উঠেপড়ে লেগেছে। তারা কীভাবে এগুলো শিখছে এবং এগুলো কীভাবে তাদের ওয়ার্ল্ডভিউকে ঠিক করে দিচ্ছে তা তারা অনেকসময় বুঝতেও পারে না। তার মানে যখনই এসব বাচ্চা বয়ঃসন্ধিকাল, ব্রেকআপ, বাবা মায়ের ডিভোর্স বা যে কোনো ধরনের ট্রমায় পড়ে, তখন তারা ধরে নেয় যে এটা আসলে জেন্ডার ও তাদের ব্যবহৃত ভাষার সমস্যা। অনেক প্রাপ্তবয়স্ক লোক দুনিয়া ও অনলাইনে আছে এটা নিশ্চিত করার জন্য।

আপনি হেলিকপ্টার বাবা-মা হতে পারবেন না, কিন্তু সতর্ক হওয়া জরুরি। আপনি আপনার বাচ্চাকে সত্যের ব্যাপারে সময়ে সময়ে শিক্ষা দিয়ে এসব ধারণা থেকে দূরে রাখতে পারেন।

আমি জানি হয়তো অনেকেই মনে করছেন যে অনেক দেরি হয়ে গিয়েছে। সংস্কৃতি তো বদলে গেছেই, পরিবারেও ঢুকতে বাকি নেই। প্রতিজন আহমদ হয়তো তাদের সন্তানদেরকে ট্রান্সজেন্ডার ষড়যন্ত্র থেকে বের করে আনছেন, কিন্তু অহিও, টেক্সাস ও কানাডার অসংখ্য বাবা-মা তাদের সন্তানদেরকে তাদের কাছ থেকে সরে যেতে দেখছেন। আইনের মাধ্যমে তো বটেই, সাথে সাথে পুরো পৃথিবীর সব লোভ, ক্ষমতা ও জেন্ডার প্রোপাগান্ডার কারণেও।

কিন্তু যদিও বা আপনার সন্তান এসব ব্রেইন প্যারাসাইট দ্বারা আক্রান্ত হয়ে থাকে, আপনি হতাশ হবেন না। ক্যালিফোর্নিয়ার এক মা আমাদেরকে দেখিয়েছেন কীভাবে কাজ করতে হবে।

এক মা চার্লি জ্যাকবস ছদ্মনামে লিখতেন। তিনি তার অত্যন্ত নারীসুলভ মেয়ের গল্প বলেন যে হঠাৎ করে ১২ বছর বয়সে সম্পূর্ণ বদলে যায়। সে অ্যানিমে ও কসপ্লেতে আগ্রহী হয়ে ওঠে। এসব অ্যানিমে ও কসপ্লেগুলো লিঙ্গ ও যৌনতাসংক্রান্ত ছিল, যদিও তার মা এটা জানতেন না। এরপর তার মেয়ের স্কুল যৌনতা সম্পর্কে বামপন্থী ধারণা শেখানো শুরু করে। তার মেয়ে তার বান্ধবীদের সাথে তাদের যৌনপরিচয় সম্পর্কে কথা বলতে শুরু করে। তার মেয়ে এবং বান্ধবীদের কেউই স্বাভাবিক মেয়ে হতে চায়নি।

জ্যাকবস লক্ষ্য করেন যে, তার মেয়ে শীঘ্রই লিঙ্গসংশয়ের লক্ষণ দেখাতে শুরু করে। এটি হচ্ছে এমন এক অবস্থা যখন কেউ তার লিঙ্গপরিবর্তন করার জন্য সুতীব্র ইচ্ছা অনুভব করে। তার মেয়ে তার পুরনো বন্ধুদের থেকে দূরত্ব বজায় রাখতে শুরু করে, অনলাইনে অতিরিক্ত সময় কাটাতে থাকে এবং এমনকি তার কথোপকথন লুকানোর জন্য গোপন সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট তৈরি করে। একজন প্রাপ্তবয়স্ক নন-বাইনারি কিশোরের সাথে দেখা করার পরে মেয়েটি তার চুল কেটে ফেলে, তার পা শেইভ করা বন্ধ করে দেয় এবং এমনকি ছেলেদের আন্ডারওয়্যার পরা শুরু করে। এরপর সে ঘোষণা দেয় যে সে ট্রান্সজেন্ডার এবং আত্মহত্যার হুমকি দিতে শুরু করে।

জ্যাকবস অবশেষে তার মেয়ের আসল সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টের অ্যাক্সেস পেয়ে যান। তিনি দেখেন যে তার মেয়ে অনলাইনে অপরিচিতদের সাথে কথা বলছে এবং পর্ন ভিডিও দেখছে। বাচ্চারা অজাচার এবং শিশুকামের মতো বিষয় নিয়ে আলোচনা করছিল। বড় মেয়েরা ছোট মেয়েদের শেখাচ্ছিল কীভাবে অনলাইনে টাকার বিনিময়ে নিজেদের নগ্ন ছবি বিক্রি করার প্রশিক্ষণ দিচ্ছিল। জ্যাকবস মেয়ের ফোন দেখে বুঝতে পেরেছিলেন তার মেয়ের জীবনে যৌনবিপ্লবের অন্ধকার দিক কীভাবে অনুপ্রবেশ করেছে।

এই পরিস্থিতিতে অনেক বাবা-মা কী করবেন তা বুঝতে পারেন না। কারণ মনে হয় দুনিয়ার সব শক্তি তাদের বিরুদ্ধে। জ্যাকবস অত্যন্ত কঠিন পরিস্থিতিতে পড়ে যান। কীভাবে আপনি নিজের সন্তানকে বাঁচাবেন যদি সে ইতিমধ্যেই এতদূর এগিয়ে থাকে। সে আপনাকে আপনার থেকে দূরে সরিয়ে নিচ্ছে এবং তার নতুন নাম ধরে তাকে না ডাকার জন্য, তাকে হরমোন ইনজেকশন না দেওয়ার জন্য ট্রান্সফোব বলছে।

তাই জ্যাকবস কঠোর পদক্ষেপ নেন।

তিনি তার মেয়ের ফোন থেকে সবগুলো সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাপ ডিলিট করেন। তিনি মেয়ের ইন্টারনেট অ্যাক্সেস ব্লক করে দেন। তিনি ফোনের প্রতিটা কন্টাক্ট ডিলিট করেন। মেয়ের ফোন নাম্বারও বদলে ফেলেন। স্কুলের অনলাইন ক্লাসগুলো সতর্কতার সাথে পর্যবেক্ষণ করতে থাকেন। বাসায় থাকা প্রতিটা অ্যানিমে ছুঁড়ে ফেলেন, টিভির রিমোট লুকিয়ে ফেলেন।

জ্যাকবস তার এই কাজের কারণে মেয়ের প্রতিক্রিয়া উল্লেখ করে বলেন: ‘কোনো আসক্ত ব্যক্তিকে কেউ মাদক থেকে দূরে রাখলে সেই ব্যক্তিকে আসক্ত ব্যক্তি যতটা ঘৃণা করে, আমার মেয়েও আমাকে তত ঘৃণা করছে। তবে তার শত গালাগালির মুখেও আমি নিজের অবস্থান ধরে রাখি।’

কিন্তু জ্যাকবস সেখানেই থেমে থাকেননি। তিনি ট্রান্সমতবাদ নিয়ে পড়তে শুরু করেন, প্রকৃত বিশেষজ্ঞদের সাথে কথা বলেন, কেবল তার মেয়ের আসল নাম ব্যবহার করেন। তার মেয়ে নিজেকে ট্রান্সজেন্ডার বলে বিশ্বাস করে, এটা তিনি এক মুহূর্তের জন্যও গ্রহণ করে নেননি। তিনি তার মেয়েকে গাড়িতে করে এমন জায়গায় নিয়ে যেখান যেখানে তারা এমন পডকাস্ট শোনেন যেখানে ট্রান্সজেন্ডার মতবাদের খণ্ডন করা হয় এবং এমন ব্যক্তিদের ঘটনা তুলে ধরা হয় যারা নিজেদের লিঙ্গপরিবর্তন নিয়ে তীব্র অনুশোচনায় ভুগছে। তিনি তার বাড়িতে এমন অনেক বই ও লিটারেচার নিয়ে আসেন যেখানে ট্রান্সজেন্ডারবাদের ব্যাপারে সত্য তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।

জ্যাকবস দেড় বছর ধরে অনেক কষ্ট সহ্য করেছিলেন কারণ তার মেয়ে সবসময় তার সাথে রাগ দেখাতো। তা সত্ত্বেও জ্যাকবস তার মেয়ের প্রতি নিঃশর্ত ভালবাসা দেখান। জ্যাকবস ধৈর্য ধরেছিলেন এবং রাগান্বিত হলেও তাকে কিছু বলেননি।

জ্যাকবস কঠোর পরিশ্রম করেছিলেন এবং অনেক কষ্ট সহ্য করেছিলেন। এত প্রচেষ্টার পর তিনি মেয়েকে ট্রান্সজেন্ডারের শেষ প্রান্ত থেকে ফিরিয়ে আনতে সফল হন। যেন যে ‘দানব’ তার মেয়েকে ধরে নিয়েছিল সে ধীরে ধীরে মেয়েকে ছেড়ে চলে যাচ্ছে। যদিও এই যুদ্ধ এখনও শেষ হয়নি। তবে তার মেয়ে ধীরে ধীরে তার পুরনো সত্তায় ফিরে আসছে। তবে মেয়েটি এখনও তার মেয়েই আছে। আর আমরা বর্তমানে যে দুনিয়ায় বাস করছি সেখানে এটা বিরাট অর্জন।

নিজের অবস্থান নিচ্ছি

জ্যাকবস ও আহমদ, ডা. গ্রসম্যান ও নিউজেন্ট, সুশার ও সৌল- এগুলো একেকজন সাহসী মানুষের নাম। তাদের নিজেদের পথে, তারা নিজেদের জীবন ও ক্যারিয়ার সবকিছুকে হুমকির মুখে ফেলে আত্মত্যাগ করছেন অন্যের জন্য। আমি ব্যক্তিগতভাবে যাদের সাথে কথা বলেছি তারা প্রায় সবাই আসলে জানতেন ‘নারী কে’ এ প্রশ্নের জবাব। তারাও সত্যের পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।

সত্য বলতে, তাদের উদাহরণ আমাকে উৎসাহিত করেছে। গত কিছু মাসে আমি জেন্ডার থিওরির সব কালো ইতিহাস বের করেছি। আমি জানতে পেরেছি এটা কোথা থেকে এসেছে। আমি দেখেছি তারা কী করছে। এদের উচ্চাকাঙ্ক্ষা আমাকে ভীত করে তুলেছে। এতকিছুর পরে আমি কি নিজের উপদেশই অস্বীকার করতে পারি? আমি সত্যটা জানি। আমার কাজ করতেই হবে।

হঠাৎ করেই আমার সুযোগ এলো। ভার্জিনিয়ার লডন কাউন্টিতে ঘোষণা এলো যে তারা নতুন পলিসি ঘোষণা করবে। তারা যে শুধু ছেলেদেরকে মেয়েদের বাথরুমই ব্যবহার করতে দেবে তা নয়, বরং তারা শিক্ষকদেরকেও বাধ্য করবে তারা যেন ছাত্র-ছাত্রীরা যে নাম ও সর্বনামে ডাকতে বলে তা দিয়ে ডাকে। দেশের অন্যসব পলিসি থেকে এটা আরো জঘন্য, কারণ এ পলিসির মাধ্যমে শিক্ষকের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে তারা যেন কোনো ছেলে বা মেয়ে নিজেকে ট্রান্সজেন্ডার দাবি করলে সেটা বাবা-মাকে না জানায়।

আমি যখন এ বই নিয়ে কাজ করছিলাম, তখনই এসব হচ্ছিলো। আমার পক্ষে চুপ করে থাকা সম্ভব ছিল না। আমার কোনো অবস্থান নিতেই হবে। আমি সেখানে গেলাম ও লডন কাউন্টির স্কুল বোর্ডের মিটিং এর বাইরে কিছু প্রতিবাদকারী নিয়ে অবস্থান নিলাম।

বোর্ড আমার আসা ঠেকাতে সবই করেছিল। যখনই তারা জানতে পেরেছিল যে আমি তাদের সাথে তাদের সেশনে সরাসরি কথা বলতে চাই, তারা নতুন নিয়ম করলো যে কেবল সে এলাকার মানুষরাই কথা বলতে পারবে। আমি যেদিন সেখানে গেলাম সেদিন থেকেই এ নিয়ম জারি করা হলো। তাই আমি লডন কাউন্টিতে একটা অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়া নিলাম। আর স্কুল বোর্ডের আপত্তি করার কথা না। ‘আমি টেনেসিতে থেকেছি,’ আমি এক আঞ্চলিক রিপোর্টারকে বললাম, ‘কিন্তু আমার মনে হয় আমার টেনেসিয়ান শরীরে একজন ভার্জিনিয়ান আটকা পড়ে আছে। আমি নিজেকে এক ধরনের স্টেট-ফ্লুইড হিসেবে পরিচয় দিই।’

আমি যেতে সক্ষম হলাম। কিন্তু তারা বাইরের বক্তাদের জন্য লাইভস্ট্রিম ফিড বন্ধ করে দিলো। আমি তাদের থেকে বেশ কয়েক ডজন দূরে মাইক্রোফোনে দাঁড়ানো সত্ত্বেও তারা আমাকে মাস্ক পরিয়ে দিলো। যদিও এটা কোনো ব্যাপার না। আমার বার্তা শোনা যাবেই কোনো না কোনো উপায়ে। আমি আমার নোটগুলো গুছিয়ে স্টেজের দিকে এগিয়ে গেলাম এবং অন্তর থেকে কিছু কথা বললাম:

‘আমি সবাইকে আজকে রাতে কথা বলতে দেওয়ায় ধন্যবাদ জানাই, যদিও আপনারা চাননি কথা বলতে দিতে। তবুও আমি আসতে পেরেছি। আপনারা আমাকে মাত্র ৬০ সেকেন্ড সময় দিয়েছেন কথা বলতে, তাই আমি সরাসরি মূল কথায় যাই। আপনারা সবাই শিশু নির্যাতনকারী। আপনারা সংবেদনশীল বাচ্চাদেরকে আপনাদের শিকারে পরিণত করেন এবং আপনাদের আদর্শিক কাল্টে ঢোকার জন্য ব্রেইনওয়াশ করেন। এটা এমন কাল্ট যার অনেক গোঁড়া দর্শন আছে। কিন্তু কোনোটাই ‘ছেলেরা মেয়ে আর মেয়েরা ছেলে’ এ ধারণার মত জঘন্য না। এ জঘন্য ফালতু ধারণা ছাত্রদের উপর আপনারা এমনভাবে চাপিয়ে দিচ্ছেন যে এখন আপনারা তরুণীদেরকে ছেলেদের সাথে বাথরুম শেয়ার করতে বাধ্য করছেন। আপনারা বাচ্চাদের নিরাপত্তা, প্রাইভেসি থেকে নিয়ে সব কেড়ে নিচ্ছেন। কিন্তু সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও মৌলিক যে বিষয়টি কেড়ে নিচ্ছেন তা হলো- সত্য। শিক্ষার মূল শেকড় সত্য না হয় তাহলে তা মূল্যহীন। আরো খারাপ, এটা একটা বিষ। আপনারা বিষাক্ত। আপনারা ক্ষতিকর শিকারী। আমি বুঝতে পারছি কেন আপনারা আমার কথা বন্ধ করতে এত চেষ্টা করেছেন। কারণ আপনারা জানেন আপনার ধারণাগুলোর পক্ষে কোনো যুক্তি নেই। আপনারা বিরোধীদেরকে চুপ করিয়ে দেন কারণ আপনাদের ধারণাকে সমর্থন করার মত কোনো যুক্তি আপনাদের কাছে নেই। আপনারা নির্বোধ কাপুরুষের মত আপনাদের বিছানার নিচে লুকিয়ে থাকতে পারবেন এবং আশা করবেন যে আমরা চুপ করে চলে যাবো। কিন্তু আমরা যাবো না। আমি ওয়াদা দিয়ে গেলাম। ধন্যবাদ আপনাদের সময়ের জন্য। আমরা আবার কথা বলবো। খুব, খুব দ্রুত।’

আপনি আমার কথার উপরে বাজি ধরতে পারেন। আমি বাজি ধরে বলতে পারি, আপনারা আমাদের মত আরো অনেক লোকের কথা শুনবেন। কারণ আমরা জানি সত্য কী। নিষ্ক্রিয়তার কোনো সুযোগ নেই।

জেন্ডার থিওরি ভয়ঙ্কর। তারা শিশুদের সাথে যা করছে তা ভয়ঙ্কর। যৌক্তিকতা এবং ভালোবাসাশুন্য মস্ত বড় এক বৈপরীত্য এটা। তারা যদি আসলেই মানুষের ভালো চাইতো, তারা নিজেদের নিজের জন্য ধ্বংসাত্মক ফ্যান্টাসি মানুষকে গ্রহণ করে নিতে বাধ্য করতো না। তারা বাচ্চাদের শরীর নিয়ে কাটাকাটি করতে বলতো না। তারা মানুষকে সত্য গ্রহণ করতে বলতো, বাচ্চাদেরকে রক্ষা করতো, যাই হয়ে যাক না কেন।

তারা তাদের এসব অমানবিক পাগলামি সমাজের গলা দিয়ে জোর করে নামিয়ে ভাবতে পারে তারা অনেক শক্তিশালী। তারা প্রোপাগান্ডা, ভয় ও ক্ষমতা দিয়ে মানুষকে নিয়ন্ত্রণ করতে চায়। কিন্তু তারা ঘুমন্ত সিংহকে জাগিয়ে দিয়েছে। আমরা তাদেরকে ভয় পাই না। আমরা তাদের জুলুমবাজ শাসনকে ছিঁড়ে টুকরো টুকরো করে ফেলবো।

 

প্রিয় পাঠক, ট্রান্সজেন্ডারিজমের করাল গ্রাস বইটির ওয়েব ভার্সন উন্মোক্ত করে দেওয়া হয়েছে বইটি প্রকাশের মাত্র দুইদিনের মধ্যেই। একটি বই প্রকাশের পেছনে অসংখ্য মানুষের সময়, শ্রম ও মেধার সমন্বয় থাকে। থাকে বড় একটি ইনভেস্টমেন্ট। বইটির পিডিএফ বা ওয়েব ভার্সনে প্রকাশক আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হোন। তাই অনুরোধ, যদি সামর্থ্য থাকে তবে বইটির একটি কপি ক্রয় করবেন। অর্ডার করতে ক্লিক করুন

 

অধ্যায় ৯: গোলাপি পুলিশ স্টেটের বুটের চাপায় ধ্বংস <<আগের অধ্যায়                                   পরের অধ্যায়>> উপসংহার: আফ্রিকা

Book: ট্রান্সজেন্ডারিজমের করাল গ্রাস Tags:

This entry was posted in . Bookmark the permalink.