হাতি ও পাতলা দড়ির শিক্ষণীয় গল্প

এক ভদ্রলোক একটি হাতির পালের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। সেখানে মূলত হাতিগুলোকে পোষ মানানোর ট্রেনিং দেওয়া হতো। তিনি অবাক হয়ে দেখলেন সীমানায় কোনো প্রাচীরও নেই আবার হাতিগুলোর পায়ে কোন ভারি শিকলও নেই।

হাতিগুলোর পায়ে বাঁধা আছে খুব পাতলা দড়ি। এই পাতলা দড়ির কারণেই কেউ পালাতে চেষ্টা করছে না। এটা দেখে ভদ্রলোক খুব অবাক হলেন।

তিনি অবাক হয়ে হাতিগুলোর দিকে তাকিয়ে ভাবছিলেন যে, হাতিগুলো কেন দড়ি ছিঁড়ে পালিয়ে যাচ্ছে না। এত পাতলা দড়ি ছিঁড়ে পালিয়ে যাওয়া বিশাল হাতির কাছে কোনো ব্যাপারই ছিল না।

লোকটি কৌতূহলী হয়ে সেখানে থাকা একজন হস্তি প্রশিক্ষককে জিজ্ঞাসা করেছিলেন যে, হাতিগুলো এত পাতলা দড়ি ছিঁড়ে কেন পালানোর চেষ্টা করছে না?

প্রশিক্ষক উত্তর দিলেন, যখন হাতিগুলো খুবই ছোট ছিল তখন আমরা তাদের বেঁধে রাখার জন্য এই পাতলা আকারের দড়ি ব্যবহার শুরু করি। যেটা এই বয়সে তাদের ধরে রাখার জন্য যথেষ্ট নয়। কিন্তু বড় হওয়ার সাথে সাথে, তারা বিশ্বাস করতে শুরু করে যে তারা বিচ্ছিন্ন হতে পারবে না। তারা বিশ্বাস করে যে দড়িটি এখনও তাদের ধরে রাখতে পারে, তাই তারা কখনই মুক্ত হওয়ার চেষ্টা করে না।

বিদেশি গল্পের অবলম্বনে লিখেছেন: আবু সাফিয়া

শিক্ষা: হাতিগুলো মুক্ত না হওয়ার এবং পালিয়ে না যাওয়ার একমাত্র কারণ হলো সময়ের সাথে সাথে তারা বিশ্বাস করেছিল যে “এটি সম্ভব নয়”। সময়ের সাথে সাথে আমাদেরও অনেক সময় অনেক কিছুতে এমন মনে হয়, কিন্তু একটু চেষ্টা করলেই সেটি “সম্ভব” হয়ে ওঠে।

Tags:

This entry was posted in . Bookmark the permalink.